ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ঈদের দিনেও রাজপথে শিক্ষকদের অবস্থান ধর্মঘট
নিজস্ব প্রতিবেদক: আনন্দের ঈদের দিনেও ফাটেনি মুখে হাসি, জোটেনি স্বস্তি; উল্টো নিজেদের নায্য অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে পবিত্র ঈদুল আজহার দিনেও রাজপথে অবস্থান ধর্মঘট পালন করছেন স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষকরা। বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত এবং ২০২৫ সালের সর্বশেষ নীতিমালা অনুযায়ী যাচাই-বাছাই করা এই মাদ্রাসাগুলোর এমপিও দ্রুত বাস্তবায়ন এবং চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে বকেয়া বেতন ছাড়ের দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে লাগাতার এই কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ঈদের দিন সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গিয়ে দেখা যায়, অনুদানভুক্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষক কল্যাণ সমিতির ব্যানারে শিক্ষকরা ফুটপাতে বসে আছেন। প্রেস ক্লাবের সামনে ধর্মঘটে অংশ নেওয়া শিক্ষক নাসিমুল জানান, তাদের একটি বিশেষ প্রতিনিধিদল শেরে বাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে গিয়েছেন, যেখানে তারা ঈদের দিন কর্মসূচিতে আসা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করে নিজেদের দুঃখ-দুর্দশার কথা তুলে ধরার চেষ্টা করবেন।
আন্দোলনকারী শিক্ষক নেতারা জানান, গত ২১ মে থেকে শুরু হওয়া এই অবস্থান ধর্মঘট আজ ঈদের দিনেও একচুল ভাঙা হয়নি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের গণবিজ্ঞপ্তির আলোকে ২০২৫ সালের নীতিমালা মেনে গত জুলাই মাসেই এমপিওভুক্তির সব আবেদন সম্পন্ন করা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো মাদ্রাসাকে এমপিওভুক্ত না করায় শিক্ষকরা চরম আর্থিক অনটনে দিন কাটাচ্ছেন।
শিক্ষক আব্দুল গণি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, প্রায় ১ হাজার ৬৯০ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা দীর্ঘদিন ধরে কোনো ধরনের বেতন-ভাতা ছাড়াই অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছেন। চূড়ান্ত অনুমোদন থাকা সত্ত্বেও জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত টানা ৫ মাসের বেতন না পাওয়ায় তাদের এবারের ঈদ কাটছে অনাহারে-অর্ধাহারে।
ইতিহাসের বৈষম্য তুলে ধরে আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, বিগত ২০১৩ সালে তৎকালীন সরকার ২৬ হাজার ১৯টি রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়কে রাতারাতি জাতীয়করণ করলেও, একটি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসাকেও জাতীয়করণ বা পূর্ণাঙ্গ এমপিওভুক্ত করা হয়নি। পরবর্তীতে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন আশ্বাস ও ঘোষণা দেওয়া হলেও দীর্ঘদিনের এই জাতীয়করণ প্রক্রিয়া আলোর মুখ না দেখায় শিক্ষকদের মধ্যে তীব্র হতাশা তৈরি হয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত প্রেস ক্লাবের সামনে এই লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি থেকে তারা ঘরে ফিরবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ১৯৭৮ সালের অধ্যাদেশের আওতায় আলিয়া মাদ্রাসা শিক্ষার প্রাথমিক স্তরের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল এবং ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসাগুলোকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদান করে। পরে ১৯৯৪ সালে এসব মাদ্রাসার শিক্ষকদের জন্য নামমাত্র ভাতা প্রদান শুরু হয় এবং ২০০১ সালে শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক ও উপবৃত্তি চালু করা হলেও মূল শিক্ষকরা এখনো চাকরির নিরাপত্তা ও আর্থিক সুবিধা থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত রয়েছেন।
এমজে/
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- তিন ছাত্রদল নেতাকে ষষ্ঠ গ্রেডে নিয়োগ দিল সরকার
- জাবিতে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে কারাদণ্ড
- নবম জাতীয় পে-স্কেল, কাটছাঁটের পর যত টাকা লাগছে?
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ভর্তি আবেদনের সময়সূচি প্রকাশ
- শাবিপ্রবির নতুন ভিসি ড. খায়রুল ইসলাম
- দেশে কমলো সোনার দাম, ভরি কত?
- আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ঢাবি শিক্ষার্থীদের গবেষণাপত্র উপস্থাপন
- গরু-মহিষ কোরবানি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিধিনিষেধ বহাল
- সোমবার টানা ৯ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়
- রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প
- ৭ কোটি মানুষ চরম সংকটের মুখে রয়েছে: পানিসম্পদ মন্ত্রী
- কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিশ্ব সুসংবাদ শুনতে পারে: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
- জাল সনদে নিয়োগ: ৬৩ শিক্ষককে শোকজ মাউশির
- আফতাব অটো ও জেনেক্স ইনফোসিসের কর্তাদের ১.৪৩ কোটি টাকা জরিমানা
- ঢাবিতে মাদারীপুর সদর ছাত্র কল্যাণ সমিতির নতুন কমিটি ঘোষণা