ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

গরুর গুঁতা ও দড়ির টানে পঙ্গু হাসপাতালে ৩৩ জন

২০২৬ মে ২৮ ১৮:১২:১০

গরুর গুঁতা ও দড়ির টানে পঙ্গু হাসপাতালে ৩৩ জন

নিজস্ব প্রতিবেদক: পবিত্র ঈদুল আজহায় কোরবানির পশু জবাই ও নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে রাজধানী ঢাকায় বেশ কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। পশুর আকস্মিক লাথি, শিংয়ের গুঁতো এবং শক্ত দড়ির হ্যাঁচকা টানে হাত-পা ভাঙা, আঙুল কাটা ও রগ ছিঁড়ে যাওয়ার মতো বিভিন্ন জখম নিয়ে বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ঈদের দিন সকাল থেকে রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে অন্তত ৩৩ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। এর পাশাপাশি গত ১৫ ঘণ্টায় মোটরবাইক দুর্ঘটনাসহ অন্যান্য কারণে আরও ১৬৮ জন সেখানে জরুরি চিকিৎসা করিয়েছেন, যাদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ৮৯ জনকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (নিটোর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সকালের ঈদের নামাজ শেষে কোরবানি শুরু হওয়ার পর থেকেই ভাঙা-কাটা ও রক্তাক্ত ক্ষত নিয়ে একের পর এক রোগী জরুরি বিভাগে আসছেন। হাসপাতালটির তথ্য অনুযায়ী, কোরবানিজনিত কারণে সরাসরি আহত হওয়া ৩৩ জনের বাইরেও সড়ক দুর্ঘটনাকবলিত রোগীতে হাসপাতাল চত্বর মুখর ছিল।

ঢাকার তুরাগ এলাকা থেকে দুই আঙুল হারিয়ে পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ভুক্তভোগী মামুন তালুকদার নিজের করুণ অভিজ্ঞতার কথা জানান। তিনি বলেন, “গরুটি কিনে আনার পর থেকেই খুব হিংস্র আচরণ করছিল। পথেই আমাদের কয়েকজনকে ফেলে দিয়েছিল। আজ সকালে কোরবানির জন্য বের করে গাছের সঙ্গে বাঁধতে যাওয়ার সময় গরুটি হঠাৎ আমাকে গুঁতো দিতে আসে। তখন আত্মরক্ষার্থে আমার হাতটি গিয়ে পড়ে পাশের একটি টিনের চালের ওপর। ঠিক সেই মুহূর্তেই গরুটির প্রচণ্ড ধাক্কায় টিনের ধারালো কোণায় লেগে আমার বাম হাতের দুটি আঙুল কেটে মাটিতে পড়ে যায়।”

একই ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হয়ে মিরপুর ১ নম্বরের টোলারবাগ থেকে পঙ্গু হাসপাতালে এসেছেন মোহাম্মদ তুষার মুফতি। তাঁর বাম হাতের একটি আঙুল ভেঙে গেছে। ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, “কোরবানির গরুকে শোয়ানোর জন্য যখন পায়ে দড়ি বেঁধে টান দেওয়া হয়, তখন পিছলা দড়ি হওয়ার কারণে গরুটি আচমকা হেঁচকা টান দেয়। গরু পড়ে যাওয়ার ওই তীব্র টানে দড়িটি আমার হাতে পেঁচিয়ে গিয়ে বাম হাতের একটি আঙুল ফেটে হাড় ভেঙে যায়।”

সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে নিটোর-এর অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. জীবনানন্দ হালদার জানান, গতকাল বুধবার রাত ১২টা থেকে আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টা পর্যন্ত হাসপাতালে মোট ১৬৮ জন জরুরি রোগী এসেছেন, যার মধ্যে আজ সকাল থেকে কোরবানি দিতে গিয়ে আহত হয়েছেন ৩৩ জন। সার্বিক জখম বিবেচনা করে এদের মধ্য থেকে ৮৯ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ডা. জীবনানন্দ হালদার আরও বিশ্লেষণ করে বলেন, “আজকের দিনে সাধারণত কোরবানি দিতে গিয়ে আঙুল কাটা, হাত-পা ও কোমর ছিলে যাওয়া বা রগ কাটার মতো রোগীই বেশি এসেছে। বড় ধরনের বা মেজর অ্যাক্সিডেন্টের রোগী গতকাল বেশি ছিল, যাদের মধ্যে গতকাল চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজন মারাও গেছেন। গতকাল যারা এসেছিলেন, তাদের মধ্যে মূলত মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার রোগীর সংখ্যাই ছিল সবচেয়ে বেশি।”

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ল তেলের দাম

বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ল তেলের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইরানে নতুন করে মার্কিন বাহিনীর হামলার ঘটনায় বিশ্ববাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম নতুন... বিস্তারিত