ঢাকা, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩

উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদ উদযাপন করছেন ৮২ হাজার বন্দি

২০২৬ মে ২৮ ১১:৫৪:২৪

উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদ উদযাপন করছেন ৮২ হাজার বন্দি

নিজস্ব প্রতিবেদক: কারাগারের দেয়াল পেরিয়েও ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হননি বন্দিরা। বিশেষ খাবার, অতিরিক্ত সাক্ষাৎ, সাংস্কৃতিক আয়োজন আর ঈদের জামাতকে ঘিরে দেশের ৭৪টি কারাগারে উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদুল আজহা উদযাপন করছেন প্রায় ৮২ হাজার বন্দি।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল ৮টায় দেশের বিভিন্ন কারাগারে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজ শেষে বন্দিরা একে অপরের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরে তাদের পরিবেশন করা হয় পায়েস ও মুড়ি।

কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদের দুপুরের খাবারে বন্দিদের জন্য রাখা হয়েছে পোলাও, রোস্ট, গরু ও খাসির মাংস, চমচম, কোমল পানীয়, সালাদ এবং পান-সুপারির ব্যবস্থা। রাতের খাবারে থাকবে সাদা ভাত, রুই মাছ ভাজা ও আলুর দম।

ঈদ উপলক্ষ্যে বন্দিদের স্বজনদের জন্যও নেওয়া হয়েছে বিশেষ উদ্যোগ। কারাগারে আসা দর্শনার্থীদের জন্য রাখা হয়েছে ফ্রি জুস কর্নার। শিশুদের দেওয়া হচ্ছে চকলেট ও চিপস। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অতিরিক্ত সাক্ষাৎ ও কথা বলার সুযোগও পাচ্ছেন বন্দিরা।

ঢাকার কেরানীগঞ্জ বিশেষ কারাগারে থাকা গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বিভিন্ন মামলার ১৩০ জন বিশেষ বন্দিও এসব সুবিধার আওতায় রয়েছেন। নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আটক সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও সেখানে ঈদের বিশেষ আয়োজনের সুবিধা পেয়েছেন।

বিশেষ বন্দিদের মধ্যে রয়েছেন সালমান এফ রহমান, হাসানুল হক ইনু, রাশেদ খান মেনন, আনিসুল হক ও জুনাইদ আহমেদ পলকসহ আরও অনেকে। পরিবার থেকে পাঠানো নতুন পোশাক, পাঞ্জাবি ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী কারা বিধি মেনে তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

কারা সূত্র জানায়, বিশেষ কারাগারে থাকা অধিকাংশ বন্দিই বয়সজনিত অসুস্থতায় ভুগছেন। তাদের জন্য নিয়মিত ওষুধ সেবনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

গত রোজার ঈদের মতো এবারও মাঠের জামাতে অংশ নিয়েছেন রাজসাক্ষী সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুন। বাড়তি নিরাপত্তার মধ্যে থেকে তিনি অন্যান্য বন্দির সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাজসাক্ষী হওয়ায় তিনি আলাদা একটি কক্ষে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।

কারা অধিদপ্তরের সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন ও মিডিয়া) মো. জান্নাত-উল ফরহাদ বলেন, ঈদ উপলক্ষ্যে বন্দিদের জন্য বিশেষ খাবার, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং পরিবারের সঙ্গে অতিরিক্ত সাক্ষাতের সুযোগ রাখা হয়েছে। এসব সুবিধা শুধুমাত্র বন্দিদের নিজ পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য।

কারা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সকাল ১০টা থেকে বিভিন্ন কারাগারে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। এছাড়া ঈদের দ্বিতীয় দিনে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ এবং তৃতীয় দিনে প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজন করা হবে।

এদিকে ঈদের দিন থেকে আগামী তিন দিনের মধ্যে বন্দিরা পরিবারের পাঠানো খাবার গ্রহণের সুযোগ পাবেন। একইসঙ্গে একদিন অতিরিক্ত সাক্ষাৎ ও সর্বোচ্চ পাঁচ মিনিট অতিরিক্ত কথা বলার সুযোগও রাখা হয়েছে।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত