ঢাকা, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩

কেন চাকরি হারালেন এনবিআরের প্রথম সচিব তানজিনা?

২০২৬ জুলাই ১৭ ১৬:৩৩:০৩

কেন চাকরি হারালেন এনবিআরের প্রথম সচিব তানজিনা?

ডুয়া ডেস্ক: ছুটি না নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় চলে যাওয়ার ঘটনায় কাস্টমসের অতিরিক্ত কমিশনার তানজিনা রইসকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এনবিআর চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) আহসান হাবিব সই করা প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে ২০২৫ সালের ৯ জুলাই এই নারী কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তানজিনা রইস সর্বশেষ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রথম সচিব (মূসক পরিবীক্ষণ ও করদাতা সেবা) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর তানজিনা রইসকে এক মাসের অর্জিত ছুটি মঞ্জুর করে থাইল্যান্ডে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। তিনি ওই বছরের ৮ ডিসেম্বর থেকে ছুটি ভোগ শুরু করেন। কিন্তু ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কর্মস্থলে যোগ না দেওয়ায় ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি এনবিআর থেকে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়। জবাবে তিনি ই-মেইলের মাধ্যমে জানান, ছুটির মেয়াদ আরও তিন মাস বাড়ানোর জন্য তিনি আগেই আবেদন করেছিলেন।

তবে কর্তৃপক্ষ জানায়, তিনি বিধি ও নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করেননি। ফলে ২০২৫ সালের ৪ মার্চ তার ছুটির আবেদন নামঞ্জুর করে অবিলম্বে কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই নির্দেশ অমান্য করে দীর্ঘ সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী ২০২৫ সালের ৯ জুলাই তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।

অনুমতি ছাড়া ৬০ দিনের বেশি কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় তার বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’-এর অভিযোগে বিভাগীয় মামলা করা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লিখিত জবাব না দেওয়ায় এনবিআরের সদস্য ড. মোহা. আল আমিন প্রামাণিককে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়। তদন্তে তানজিনা রইসের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ প্রমাণিত হয়।

অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নিয়ে দ্বিতীয়বার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। কিন্তু সাত কার্যদিবসের মধ্যেও তিনি কোনো জবাব দেননি। পরে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত পোষণ করে। পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপতিও এই গুরুদণ্ড অনুমোদন করেন।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, বিসিএস (শুল্ক ও আবগারি) ক্যাডারের এই কর্মকর্তার স্বামী অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ী হয়েছেন। তানজিনা রইস ২০১৮ সালে যুগ্ম কমিশনার (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, ঢাকা (পশ্চিম)-এ কর্মরত ছিলেন। ওই বছরের শেষ দিকে তিনি অস্ট্রেলিয়ার ম্যাককোয়ারি ইউনিভার্সিটিতে ‘মাস্টার্স অব কমার্স উইথ এ স্পেশালাইজড ইন ফাইন্যান্স কোর্ড’ কোর্সে স্কলারশিপ নিয়ে পড়তে যান। এ জন্য অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ তাকে ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকে ২০২০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত শিক্ষা ছুটি মঞ্জুর করে। মাস্টার্স সম্পন্ন করে তিনি দেশে ফিরে আসেন।

সূত্র আরও জানায়, অস্ট্রেলিয়া থেকে দেশে ফেরার পর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে সন্তানের চিকিৎসার জন্য তিনি থাইল্যান্ডে যান। অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ তাকে ২০২৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত ১৫ দিনের ছুটি মঞ্জুর করে। তবে থাইল্যান্ড থেকে দেশে না ফিরে তিনি ছুটি ছাড়াই অস্ট্রেলিয়ায় চলে যান এবং আর ফিরে আসেননি। দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা এবং অনুমতি ছাড়া বিদেশে অবস্থান করায় তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এনবিআর সূত্র জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে গিয়ে তিনি সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

বিশ্ববাজারে কমেছে স্বর্ণের দাম

বিশ্ববাজারে কমেছে স্বর্ণের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক: আন্তর্জাতিক বাজারে টানা ঊর্ধ্বগতির পর বুধবার স্বর্ণের দাম কমেছে। তেলের দাম বাড়তে থাকায় মূল্যস্ফীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার... বিস্তারিত