ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩

সবার সহযোগিতায় কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়তে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী

২০২৬ মে ২৮ ২০:২৮:৪২

সবার সহযোগিতায় কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়তে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: সবার সহযোগিতা পেলে সরকার একটি ‘কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ’ গড়ে তুলতে সক্ষম হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, দেশের সৈনিক ও সাধারণ মানুষ যে ধরনের বাংলাদেশ দেখতে চান, সরকার ধাপে ধাপে সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে। দীর্ঘ সময় দেশে থাকতে না পারার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অতীতে দেশে কী ঘটেছে তা নিয়ে মানুষের কমবেশি ধারণা রয়েছে। তবে এখন দেশের উন্নতি ও ইতিবাচক পরিবর্তনের দিকেই এগোতে চায় সরকার।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ গঠনের কাজে প্রত্যেকের নিজ নিজ দায়িত্ব রয়েছে। সবাই যদি নিজের অবস্থান থেকে সঠিকভাবে কর্তব্য পালন করে, তাহলে কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা সেনানিবাসে অফিসার ও সৈনিকদের সম্মানে আয়োজিত এক প্রীতিভোজ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, ঈদের এই দিনে আল্লাহর কাছে সবার জন্য দোয়া করা উচিত, যেন তিনি প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনের তৌফিক দান করেন। একই সঙ্গে দেশের মানুষকে নিরাপদ রাখা এবং একটি প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতেও আল্লাহর সাহায্য কামনা করেন তিনি।

ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসের জিয়া কলোনিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ‘মৃত্যুঞ্জয়ী পঁচিশ’ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এই প্রীতিভোজের আয়োজন করে। এতে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা ও সৈনিকরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন তার প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামসুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী সেনাসদস্য ও তাদের সন্তানদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরে ‘পঁচিশ মৃত্যুঞ্জয়ী’ ভবনের সামনে একটি গাছের চারা রোপণ এবং পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন।

বক্তব্যের শুরুতে ঢাকা সেনানিবাসে কাটানো শৈশবের নানা স্মৃতির কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সেনানিবাসে প্রবেশের সময় তার মনে হয়েছে যেন ৪৫ থেকে ৪৬ বছর পেছনে ফিরে গেছেন। সিএমএইচ এলাকায় ছোটবেলার স্মৃতি, পুরনো ভবন, স্টাফ সার্জন এবং সেই সময়ের পরিবেশের কথাও স্মরণ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ছোটবেলায় প্রায় প্রতিদিন বন্ধুদের সঙ্গে সাইকেল চালিয়ে সেনানিবাসের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াতেন। শহীদ মইনুল সড়ক, সিগনালের পাশের মসজিদ এবং পুরনো সরু রাস্তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষায়, এই এলাকাটির সঙ্গে তার জীবনের অনেক সুখ-দুঃখের স্মৃতি জড়িয়ে আছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ঈদের আনন্দের দিনে এসব স্মৃতি ভাগ করে নিতে ভালো লাগছে। কারণ শৈশব থেকেই তিনি এই এলাকায় বড় হয়েছেন এবং সৈনিকদের ব্যারাকে গিয়ে তাদের সঙ্গে সময় কাটাতেন।

সেনাসদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশের প্রয়োজনে অনেকেই হয়তো ঈদের ছুটিতে পরিবারের কাছে যেতে পারেননি। তাদের এই আত্মত্যাগের জন্য তিনি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, দেশ ও জাতি সেনাসদস্যদের এই ত্যাগকে সবসময় শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

সাম্প্রতিক একটি ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কয়েক মাস আগে দুটি পত্রিকা অফিসে আগুন লাগার ঘটনায় সেনাসদস্যরা প্রায় ১৮ জন সাংবাদিককে উদ্ধার করেছিলেন, যা প্রশংসার দাবিদার।

তিনি বলেন, দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৈনিকরা প্রয়োজনে জীবন উৎসর্গ করেন। আর সেই আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন করাই সরকারের দায়িত্ব। এজন্য সবার আগে দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষ চায় তাদের সন্তানরা যেন সুন্দরভাবে লেখাপড়া করতে পারে এবং পরিবার সুচিকিৎসা পায়। মানুষ যাতে নিরাপদে ও শান্তিতে বসবাস করতে পারে, সরকার সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত