ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

এমপিওভুক্তদের জন্য সুখবর, বাড়ছে বেতন-ভাতা

২০২৬ মে ২৮ ২২:৪২:০৯

এমপিওভুক্তদের জন্য সুখবর, বাড়ছে বেতন-ভাতা

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য বেতন ও ভাতায় বড় ধরনের সুখবর আসতে পারে। প্রস্তাবিত নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের বেতন কাঠামোতেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, নতুন কাঠামো কার্যকর হলে প্রায় ৪ লাখ ৭৮ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী সরাসরি আর্থিক সুবিধা পাবেন। দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবির পর এমন সম্ভাবনাকে ঘিরে শিক্ষা অঙ্গনে নতুন আশাবাদ তৈরি হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে মূল বেতন ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডভুক্তদের ক্ষেত্রে শতভাগ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাবও বিবেচনায় রয়েছে। এর ইতিবাচক প্রভাব এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ওপরও পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২৬ হাজার ৯৩টি। এসব প্রতিষ্ঠানে মোট শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা ৪ লাখ ৭৮ হাজার ৮৯৮ জন।

প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, চতুর্থ গ্রেডভুক্ত এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষদের বর্তমান ৫০ হাজার টাকার মূল বেতন ৫০ শতাংশ বাড়লে ৭৫ হাজার টাকায় উন্নীত হতে পারে। ষষ্ঠ গ্রেডের সহকারী অধ্যাপকদের ৩৫ হাজার ৫০০ টাকার মূল বেতন বেড়ে ৫৩ হাজার ২৫০ টাকায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। সপ্তম গ্রেডের প্রধান শিক্ষক ও উপাধ্যক্ষদের ২৯ হাজার টাকার বেতন বেড়ে ৪৩ হাজার ৫০০ টাকা হতে পারে।

এছাড়া নবম গ্রেডের কলেজ প্রভাষকদের বর্তমান ২২ হাজার টাকার বেতন বেড়ে ৩৩ হাজার টাকায় উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দশম গ্রেডের বিএডধারী সহকারী শিক্ষকদের ১৬ হাজার টাকার মূল বেতন বেড়ে ২৪ হাজার টাকায় পৌঁছাতে পারে।

নিম্ন গ্রেডভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের সুবিধার আলোচনা রয়েছে। ১১তম গ্রেডের বিএডবিহীন সহকারী শিক্ষকদের বর্তমান ১২ হাজার ৫০০ টাকার বেতন ৫০ শতাংশ বাড়লে হবে ১৮ হাজার ৭৫০ টাকা। আর শতভাগ বৃদ্ধি কার্যকর হলে তা ২৫ হাজার টাকায় পৌঁছাতে পারে।

একইভাবে ১৬তম গ্রেডের অফিস সহকারী, হিসাব সহকারী ও কম্পিউটার অপারেটরদের ৯ হাজার ৩০০ টাকার মূল বেতন ৫০ শতাংশ বাড়লে দাঁড়াবে ১৩ হাজার ৯৫০ টাকা এবং শতভাগ বাড়লে হতে পারে ১৮ হাজার ৬০০ টাকা।

১৮তম গ্রেডের ল্যাব সহকারীদের বর্তমান ৮ হাজার ৮০০ টাকার বেতন ৫০ শতাংশ বাড়লে ১৩ হাজার ২০০ টাকা এবং শতভাগ বাড়লে ১৭ হাজার ৬০০ টাকা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে ২০তম গ্রেডের অফিস সহায়ক, নৈশপ্রহরী, নিরাপত্তাকর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও আয়াদের ৮ হাজার ২৫০ টাকার মূল বেতন ৫০ শতাংশ বাড়লে ১২ হাজার ৩৭৫ টাকা এবং দ্বিগুণ হলে ১৬ হাজার ৫০০ টাকায় পৌঁছাতে পারে।

বেতনের পাশাপাশি বাড়িভাড়া ভাতাতেও বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। গত বছরের ২১ অক্টোবর অর্থ মন্ত্রণালয় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়িভাড়া ভাতা দুই ধাপে মোট ১৫ শতাংশ বাড়ানোর অনুমোদন দেয়। এর মধ্যে প্রথম ধাপের ৭ দশমিক ৫ শতাংশ গত বছরের নভেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে। আগামী ১ জুলাই থেকে আরও ৭ দশমিক ৫ শতাংশ যোগ হয়ে মোট বাড়িভাড়া ভাতা মূল বেতনের ১৫ শতাংশে উন্নীত হবে। তবে সর্বনিম্ন ২ হাজার টাকা বহাল থাকবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন বেতন কাঠামো ও ভাতা বৃদ্ধির এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের লাখো এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর আর্থিক চাপ কিছুটা কমবে এবং শিক্ষা খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত