ঢাকা, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

অর্থনৈতিক অঞ্চলের ১০ একরের প্লট ফেরত দিচ্ছে ম্যাকসন্স স্পিনিং

২০২৬ মে ২৫ ২০:১১:১৭

অর্থনৈতিক অঞ্চলের ১০ একরের প্লট ফেরত দিচ্ছে ম্যাকসন্স স্পিনিং

নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘমেয়াদি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং বস্ত্র (টেক্সটাইল) খাতে চলমান মন্দার কারণে বড় বিনিয়োগ পরিকল্পনা থেকে পিছিয়ে গেছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান ম্যাকসন্স স্পিনিং মিলস পিএলসি। চট্টগ্রামের মিরসরাই ও ফেনী এলাকায় অবস্থিত জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বরাদ্দ পাওয়া ১০ একর আয়তনের একটি শিল্প প্লট বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষকে (বেজা) ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোম্পানিটি।

গতকাল ২৪ মে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে প্রকাশিত একটি মূল্য সংবেদনশীল তথ্যে বিনিয়োগকারীদের এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। এর আগে ২০২০ সালের নভেম্বর ও ডিসেম্বরের দিকে কোম্পানিটি বেজার কাছ থেকে এই প্লটটি নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে সুতার চাহিদা কমে যাওয়া, রপ্তানি বাজারে অনিশ্চয়তা এবং টেক্সটাইল খাতের সামগ্রিক মন্দার কারণে এই নতুন বিনিয়োগটি আর লাভজনক মনে করছে না কোম্পানি কর্তৃপক্ষ। অবশ্য ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি হলে এবং টেক্সটাইল খাত আবার ঘুরে দাঁড়ালে তারা বেজার অধীনে পুনরায় নতুন প্লট নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে বলেও জানিয়েছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইউরোপ ও আমেরিকার মতো প্রধান রপ্তানি গন্তব্যগুলোতে চাহিদা কমে যাওয়ার পাশাপাশি গ্যাস-বিদ্যুতের চড়া দাম, ডলারের সাশ্রয়ী মূল্যের অভাব, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদের হার এবং উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে দেশের স্পিনিং ও টেক্সটাইল খাত গত কয়েক বছর ধরে তীব্র চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

এই প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠানই তাদের পূর্বনির্ধারিত ব্যবসা সম্প্রসারণ পরিকল্পনা স্থগিত করতে বা কমিয়ে আনতে বাধ্য হচ্ছে। ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ম্যাকসন্স গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ম্যাকসন্স স্পিনিং মিলস মূলত রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক খাতের জন্য কটন কার্ডেড, কম্বড, অর্গানিক ও কমপ্যাক্টসহ বিভিন্ন ধরনের সুতা উৎপাদন করে থাকে। বার্ষিক ২ কোটি কেজির বেশি সুতা উৎপাদনের ক্ষমতাসম্পন্ন এই কোম্পানিটির ১ লাখেরও বেশি স্পিন্ডল রয়েছে। টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক ছাড়াও লজিস্টিকস, সোর্সিং এবং রিয়েল এস্টেট খাতে এই গ্রুপের ব্যবসা বিস্তৃত রয়েছে।

কোম্পানিটির আর্থিক খতিয়ান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তারা এখনো ২০২৪-২৫ অর্থবছরের চূড়ান্ত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি। তবে এর আগের পাঁচ বছরে কোম্পানিটির গড় বার্ষিক রাজস্ব ছিল প্রায় ৫০০ কোটি টাকার কাছাকাছি। কিন্তু সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরের প্রথম নয় মাসের (জুলাই-মার্চ) অনিরীক্ষিত প্রতিবেদনে বড় ধরনের বিপর্যয়ের চিত্র উঠে এসেছে। এই সময়ে কোম্পানিটির রাজস্ব আগের বছরের তুলনায় ৫৮ শতাংশ কমে মাত্র ১৭২ কোটি টাকায় নেমে এসেছে, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ৪০৯ কোটি টাকা। আর্থিক ব্যয় হিসাব করার আগেই কোম্পানিটি ১৪.৬৮ কোটি টাকা পরিচালন লোকসানের মুখে পড়ে, যা ব্যাংক ঋণের সুদ ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত ১০০ কোটি টাকার বিশাল নিট লোকসানে রূপ নেয়।

পুরো অর্থবছরের হিসাব শেষে কোম্পানিটির মোট লোকসান আরও বেড়ে ২২৪ কোটি টাকায় ঠেকেছে, যার অর্ধেকেরও বেশি লোকসান হয়েছে বছরের শেষ প্রান্তিকে। এছাড়া মার্চ শেষে কোম্পানিটির ব্যাংক ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৮৮ কোটি টাকায়, যার মধ্যে স্বল্পমেয়াদি ঋণের পরিমাণই বেশি। গতকাল ডিএসইতে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ৫.৬০ টাকায় লেনদেন শেষ হয়েছে।

এমজে/

শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

ঈদের আগে আবারও রেকর্ড ছুঁল স্বর্ণের দাম

ঈদের আগে আবারও রেকর্ড ছুঁল স্বর্ণের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দ উদযাপনের ঠিক আগমুহূর্তে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম একঝটকায় অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স... বিস্তারিত