ঢাকা, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৬ ফাল্গুন ১৪৩২

উত্তেজনার মাঝেই ইরান-রাশিয়ার যৌথ নৌমহড়া শুরু

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৮ ২১:৪০:২৫

উত্তেজনার মাঝেই ইরান-রাশিয়ার যৌথ নৌমহড়া শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদারে বৃহস্পতিবার ওমান উপসাগর ও উত্তর ভারত মহাসাগরে যৌথ নৌমহড়া পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছে ইরান ও রাশিয়া। বিষয়টি ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ জানায়, এই মহড়ার উদ্দেশ্য হলো ওমান সাগর ও উত্তর ভারত মহাসাগর অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার করা এবং দীর্ঘমেয়াদি সামুদ্রিক সহযোগিতা বাড়ানো। ইরানি নৌবাহিনীর এক কমান্ডারের বরাতে সংস্থাটি বলেছে, সমন্বিত সামরিক মহড়া আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এর আগে নিরাপত্তা সতর্কতার অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি–এর কিছু অংশ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয় তেহরান। একই সময় ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ওই জলপথে নিজস্ব সামরিক মহড়া চালায়। তবে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা মেরিন ট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী বুধবার সকাল পর্যন্ত ওই এলাকায় স্বাভাবিক নৌচলাচল অব্যাহত ছিল। প্রণালিটি সম্পূর্ণভাবে পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি ইরান।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদক দেশগুলোর সঙ্গে বৈশ্বিক বাজারের প্রধান সংযোগস্থল। ফলে এই পথের নিরাপত্তা বা অস্থিরতা বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

এদিকে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা চললেও উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। ওয়াশিংটন সতর্ক করে জানিয়েছে, সমঝোতা না হলে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাতের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছাতে পারে; সম্ভাব্য অভিযান দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে রূপ নিতে পারে এবং এতে ইসরায়েলও জড়াতে পারে।

তবে কূটনৈতিক আলোচনায় কিছু অগ্রগতির আভাস মিলেছে। জেনেভায় দ্বিতীয় দফা বৈঠক শেষে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, কিছু ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলেও কয়েকটি ‘লাল দাগ’ এখনো বহাল আছে। এর মধ্যে রয়েছে—ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি স্থগিত এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার।

অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, সম্ভাব্য চুক্তির জন্য একটি মৌলিক নীতিগত কাঠামোয় দুই পক্ষ একমত হয়েছে এবং শিগগিরই খসড়া প্রণয়ন শুরু হতে পারে। তাঁর ভাষায়, আলোচনা আগের তুলনায় বেশি গঠনমূলক হলেও মতপার্থক্য কাটাতে আরও সময় প্রয়োজন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে ইরান ও রাশিয়ার যৌথ নৌমহড়া মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা প্রেক্ষাপটকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলতে পারে।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত