ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২

পাকিস্তানে আত্মঘাতী হামলায় ১১ সেনা নি-হ-ত

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৭ ১৯:৪১:২২

পাকিস্তানে আত্মঘাতী হামলায় ১১ সেনা নি-হ-ত

নিজস্ব প্রতিবেদক: পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর ১১ সদস্য নিহত হয়েছেন। খাইবার পাখতুনখোয়ার (কেপি) বাজাউর জেলার একটি যৌথ চেকপোস্টে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

মঙ্গলবার পাকিস্তানের ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে জানায়, সোমবার বাজাউর জেলায় নিরাপত্তা বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার যৌথ চেকপোস্ট লক্ষ্য করে ভারত সমর্থিত ‘ফিতনা-আল-খারেজিরা’ হামলার চেষ্টা চালায়। নিরাপত্তা বাহিনী তাৎক্ষণিক পাল্টা অভিযানে ১২ জন সন্ত্রাসীকে হত্যা করে।

তবে ব্যর্থ হয়ে হামলাকারীরা বিস্ফোরকভর্তি একটি যানবাহন চেকপোস্টের দেয়ালে আঘাত করে। এতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে এবং চেকপোস্টের অবকাঠামো ধসে পড়ে। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ১১ সদস্য নিহত হন।

বিস্ফোরণের প্রভাব আশপাশের আবাসিক ভবনেও পড়ে। এতে একজন বেসামরিক তরুণী নিহত হন এবং নারী ও শিশুসহ আরও সাতজন আহত হন বলে জানানো হয়েছে।

পাকিস্তান সরকার আফগান তালেবানের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর সদস্যদের ‘ফিতনা আল খারেজি’ নামে উল্লেখ করে থাকে। একই সঙ্গে পাকিস্তানজুড়ে সন্ত্রাসবাদে ভারতের কথিত সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে ‘ফিতনা-আল-হিন্দুস্তান’ শব্দটিও ব্যবহার করা হয়।

এই হামলার ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলী জারদারি ও প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। তারা নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং সন্ত্রাস দমনে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের শেষদিকে পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি বাতিলের পর থেকে টিটিপি দেশটির সেনা ও পুলিশের ওপর হামলা জোরদার করেছে। বিশেষ করে খাইবার পাখতুনখোয়া ও বেলুচিস্তান প্রদেশে তাদের তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ (সিআরএসএস)-এর বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে শুধু খাইবার পাখতুনখোয়াতেই সন্ত্রাসী হামলায় অন্তত ২ হাজার ৩৩১ জন নিহত হয়েছেন। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৬২০।

পাকিস্তান সরকারের দাবি, ভারতের সমর্থনে জঙ্গিরা আফগানিস্তানের ভেতর থেকে তৎপরতা চালায়, যেখানে প্রশিক্ষণ ও হামলার পরিকল্পনা করা হয়। তবে কাবুলের তালেবান সরকার এবং নয়াদিল্লি এই অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত