ঢাকা, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩
জেনে নিন রমজানে সুস্থ ও মেদহীন থাকার বিশেষ কৌশল
ডুয়া ডেস্ক: রমজান কেবল আত্মশুদ্ধি আর ইবাদতের মাস নয়, এটি শরীরকে বিষমুক্ত করার এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে আনার এক অনন্য সুযোগ। তবে ইফতারের দস্তরখানে সাজানো মুখরোচক ভাজাপোড়া আর অতিরিক্ত মিষ্টির ভিড়ে আমরা প্রায়ই স্বাস্থ্যের কথা ভুলে যাই। সারাদিন ক্ষুধার্ত থাকার পর হুট করে উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাবার গ্রহণ করলে ওজন বাড়ার পাশাপাশি হজমের নানা জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই এই পবিত্র মাসে শরীরকে সতেজ ও ফিট রাখতে প্রয়োজন সচেতন খাদ্যাভ্যাস এবং পরিমিতিবোধ। খাবারের পরিমাণের চেয়ে গুণগত মানকে প্রাধান্য দিলেই রমজান মাসটি আপনার জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠবে।
শাকসবজি ও ফলের জাদুকরী গুণ
পানির ঘাটতি মেটাতে এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে শাকসবজির কোনো বিকল্প নেই। প্রচুর পরিমাণ আঁশ থাকায় এটি ওজন কমাতে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে দারুণ কার্যকর। ইফতারে শসা, গাজর ও লেটুসের সালাদ এবং সেহরিতে কম তেলে রান্না করা সবজি শরীরকে সজীব রাখে। অন্যদিকে, ভাজাপোড়ার বদলে ইফতারে রাখুন তরমুজ, আপেল বা পেঁপের মতো ফল। খেজুর দিয়ে রোজা ভাঙা যেমন সুন্নত, তেমনি এটি দ্রুত শক্তি জোগাতেও সাহায্য করে। তবে অতিরিক্ত মিষ্টি জাতীয় ফলের ক্ষেত্রে পরিমাপ মেনে চলা জরুরি।
দীর্ঘস্থায়ী শক্তির জন্য প্রোটিন ও পূর্ণ শস্য
রোজার সময় পেশী গঠনে এবং শরীরের শক্তি ধরে রাখতে প্রোটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গ্রিল বা সেদ্ধ করা মাছ-মাংস, ডিম এবং ডাল নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখুন। এছাড়া সাদা চাল বা ময়দার তৈরি খাবারের বদলে লাল চাল, আটার রুটি বা ওটস বেছে নিন। এসব পূর্ণ শস্য ধীরে ধীরে হজম হয় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে, যার ফলে দীর্ঘক্ষণ ক্ষুধার অনুভূতি হয় না এবং অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে।
বাদাম, বীজ ও পর্যাপ্ত পানি
অল্পাহারেই তৃপ্তি পেতে একমুঠো কাঠবাদাম, আখরোট বা চিয়া বীজ খাদ্যতালিকায় যোগ করতে পারেন। এতে শরীর প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যকর চর্বি ও খনিজ পায়। তবে রমজানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো হাইড্রেশন বজায় রাখা। ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত ধাপে ধাপে ৮-১০ গ্লাস পানি পান করা জরুরি। চিনিযুক্ত কৃত্রিম শরবতের বদলে সাধারণ পানি বা ডাবের পানি পান করলে মেটাবলিজম সচল থাকে এবং শরীর সতেজ থাকে।
যেসব অভ্যাস গড়লে মেদ বাড়বে না
রমজানে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে কিছু সহজ নিয়ম মেনে চলা প্রয়োজন। কখনোই সেহরি বাদ দেবেন না এবং ইফতারে তাড়াহুড়ো করে খাওয়ার বদলে ধীরে ধীরে চিবিয়ে খাওয়ার অভ্যাস করুন। ভাজাপোড়া ও মিষ্টির মোহ ত্যাগ করতে পারলে ওজন কমানো অনেক সহজ হবে। খাওয়ার পর অন্তত ২০-৩০ মিনিট হালকা হাঁটাচলা করুন এবং পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন।
পরিশেষে, রমজান আমাদের সুশৃঙ্খল জীবন যাপনের শিক্ষা দেয়। সেই শিক্ষাকে পুঁজি করে সঠিক খাবার নির্বাচন এবং পরিমিত আহারের মাধ্যমে আমরা সুস্থ থাকতে পারি। ভাজাপোড়ার প্রলোভন এড়িয়ে সুষম খাবার গ্রহণ করলে মাস শেষে নিজেকে আরও হালকা, চনমনে এবং আত্মবিশ্বাসী হিসেবে খুঁজে পাওয়া সম্ভব।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- মাস্টারদা সূর্য সেন হল অ্যালামনাইয়ের নতুন কমিটি ঘোষণা, সভাপতি ডাবলু, সাধারণ সম্পাদক পলাশ
- আফগান যুবাদের কাছে হারল বাংলাদেশের যুবারা
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক মাহমুদ আলমের মৃত্যু, উপাচার্যের শোক
- যুক্তরাষ্ট্রের ডিভি লটারিতে বাংলাদেশিরা কি অংশ নিতে পারবে? জানুন বিস্তারিত
- জেনে নিন আজকের বাজারে ২২,২১ ও ১৮ ক্যারেট সোনার দাম
- আজ ২২,২১ ও ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের দাম কত? জেনে নিন
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৭ অক্টোবর)
- ১৫ দিনের ব্যবধান দুইবার হবে শারদীয় দুর্গাপূজা
- বৃহস্পতিবার রাজধানীর যেসব মার্কেট-দোকানপাট বন্ধ
- নতুন পে-স্কেলে শিক্ষকদের বেতন কবে, জানাল অর্থ মন্ত্রণালয়
- নভেম্বরে টানা তিন দিনের ছুটির সুযোগ, যারা পাবেন
- আজ ২২,২১ ও ১৮ ক্যারেট সোনার দাম কত? জেনে নিন
- ডেকে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা: ঢাবির সাবেক ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার
- এসএসসির টেস্ট পরীক্ষা ২৮ অক্টোবর থেকে, ফল প্রকাশ ১৫ নভেম্বর
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৪ অক্টোবর)