ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২

এক নজরে দেখুন আত্মসম্মানবোধ কম থাকার ৫টি লক্ষণ

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৭ ১৩:২১:৫৪

এক নজরে দেখুন আত্মসম্মানবোধ কম থাকার ৫টি লক্ষণ

ডুয়া ডেস্ক: আত্মসম্মান হলো ব্যক্তিত্বের অন্যতম মূল্যবান স্তম্ভ। এটি কোনো বাহ্যিক উপহার নয়; বরং নিজের চিন্তাভাবনা, আচরণ এবং অভ্যাসের মাধ্যমে একে তিল তিল করে গড়ে তুলতে হয়। অনেক সময় আমরা এমন কিছু অভ্যাসের প্রতি অভ্যস্ত হয়ে যাই, যা আমাদের নিজস্ব সত্তাকে ছোট করে ফেলে। সচেতন না হওয়ায় নিজের প্রতি অযত্ন বা অবহেলার কারণে আত্মসম্মান কমে যেতে পারে।

আপনার দৈনন্দিন জীবনযাপনে যদি নিম্নোক্ত ৫টি আচরণের প্রকাশ ঘটে, তবে বুঝে নিতে হবে আপনার আত্মসম্মানবোধের সঙ্কটে রয়েছে:

১. অকারণে বারবার দুঃখ প্রকাশ করা

ভুল না করেও কি আপনি অন্যের মন রক্ষা করতে বারবার ‘সরি’ বা ক্ষমা প্রার্থনা করেন? এই অতিরিক্ত ক্ষমা চাওয়ার প্রবণতা মানসিক দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়। ক্ষমা চাওয়া মহৎ, তবে যেখানে আপনার কোনো ত্রুটি নেই, সেখানে নিজের অবস্থানে অটল থাকা জরুরি। নিজেকে অযথা দায়ী করা থেকে বিরত থাকুন।

২. নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে অন্যকে খুশি করার চেষ্টা

মনে অনিচ্ছা থাকলেও কি আপনি সব আবদারে সায় দেন? অন্যকে তুষ্ট করার এই প্রবণতা প্রমাণ করে যে আপনার নিজস্ব মতামত বা স্বকীয়তা নেই। নিজেকে ভালোবাসুন এবং সীমাবদ্ধতাগুলো স্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে শিখুন। সবাইকে সন্তুষ্ট করা আপনার দায়িত্ব নয়; বরং নিজের স্বস্তিকেই অগ্রাধিকার দিন।

৩. অবজ্ঞা বা অসম্মানকে চুপচাপ মেনে নেওয়া

পরিচিতদের কাছ থেকে অপমানজনক আচরণ সহ্য করলে তা দীর্ঘমেয়াদি মানসিক প্রভাব ফেলে। যারা নিয়মিত অসম্মান সহ্য করেন, তাদের আত্মসম্মান ও মানসিক সুস্থতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই কেউ আপনার সম্মানহানি করলে সঙ্গে সঙ্গে তা মোকাবিলা করা আপনার দায়িত্ব।

৪. নিজের প্রতি নেতিবাচক সমালোচনা

নিজেকে ‘অযোগ্য’ বা ‘ব্যর্থ’ বলা আপনার আত্মবিশ্বাসকে দুর্বল করে। মানুষ হিসেবে সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে, তবে নিজেকে তুচ্ছ করা ঠিক নয়। ভুলগুলো সহজভাবে গ্রহণ করে ইতিবাচক চিন্তা করুন। অন্যের বন্ধু হওয়ার আগে নিজের সবচেয়ে বড় বন্ধু হোন।

৫. বাহ্যিক স্বীকৃতির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা

প্রতিটি কাজের জন্য অন্যের প্রশংসার অপেক্ষায় থাকা আত্মবিশ্বাসের অভাব নির্দেশ করে। যারা সব সময় বাহ্যিক প্রশংসার ওপর নির্ভরশীল থাকে, তাদের মানসিক অস্থিরতা বেশি হয়। নিজের কাজের প্রতি সন্তুষ্টি অর্জন করুন; এটি আপনার স্বকীয়তা ও মানসিক স্থিতিশীলতা বাড়াবে।

নিজের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা কোনো বিলাসিতা নয়, বরং সুস্থ জীবনের পূর্বশর্ত। দৈনন্দিন আচরণের ছোট ছোট পরিবর্তনগুলো সমাজে আপনার মর্যাদা দৃঢ় করবে। নিজেকে মূল্যায়ন করতে শিখুন, পৃথিবীও আপনাকে সম্মান দিতে বাধ্য হবে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত