ঢাকা, বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩
নির্বাচনে জয়-পরাজয় গণতন্ত্রের স্বাভাবিক সৌন্দর্য: প্রধান উপদেষ্টা
নিজস্ব প্রতিবেদক: দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রাক্কালে জাতির উদ্দেশে দেওয়া বিদায়ী ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, সাম্প্রতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে জয়-পরাজয় উভয়ই গণতন্ত্রের স্বাভাবিক সৌন্দর্য। তিনি বিজয়ী ও পরাজিত—দুই পক্ষকেই অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ভোটের ফলাফল দেখায় দেশের প্রায় অর্ধেক ভোটার প্রত্যেক পক্ষের ওপর আস্থা রেখেছে।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাতের ভাষণে তিনি দেশবাসীর উদ্দেশে এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর একটি অংশগ্রহণমূলক, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর জাতীয় নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হয়েছে, যা দেশের গণতান্ত্রিক চর্চায় একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে থাকবে। ভোটার, রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই নির্বাচন সফল হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ভাষণে ইউনূস জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে গত ১৮ মাসের দায়িত্ব পালন শেষে একটি নির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের মুহূর্তে তিনি বিদায় জানাতে জাতির সামনে উপস্থিত হয়েছেন।
তিনি ৫ আগস্টের ঘটনাবলির স্মৃতিচারণ করে বলেন, সেই দিনটি ছিল দেশের জন্য এক মুক্তির দিন। ছাত্র-তরুণদের আন্দোলনের মাধ্যমে দেশ নতুন পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়। তখন রাষ্ট্রযন্ত্র প্রায় অচল হয়ে পড়েছিল এবং দেশকে সচল করতে একটি সরকার গঠনের প্রয়োজন দেখা দেয়। ছাত্রনেতাদের আহ্বানে তিনি বিদেশে থাকা অবস্থায় দায়িত্ব নিতে অনাগ্রহী থাকলেও জাতির স্বার্থে শেষ পর্যন্ত দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল স্থবির রাষ্ট্রযন্ত্রকে সচল করা। অনেক গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা দেশ ছেড়ে চলে যান, কেউ আত্মগোপনে যান, আবার কারও পরিচয় ও ভূমিকা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এমন কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই সরকারকে এগোতে হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দেশ ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হয়েছে এবং অবশেষে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও সাংবিধানিক পরিবর্তন সংক্রান্ত গণভোট আয়োজন সম্ভব হয়েছে। এই নির্বাচন দেশের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে তিনি মনে করেন।
ইউনূস বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সময় দেশ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক গভীর সংকটে ছিল। তখন জনগণের আস্থা পুনর্গঠন এবং রাষ্ট্রকে স্বাভাবিক পথে ফেরাতে তাকে আহ্বান জানানো হয়। তার সরকারকে তিনটি প্রধান দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল—সংস্কার, বিচার এবং নির্বাচন।
তিনি বলেন, সরকার সেই অঙ্গীকার পূরণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। মানবতাবিরোধী অপরাধ, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিচার প্রক্রিয়াকে প্রতিহিংসার ঊর্ধ্বে রেখে এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রশাসনিক, আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো সরকার জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে না পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে, একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।
ভাষণের শেষে তিনি বলেন, এই নির্বাচন শুধু ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নয়; এটি বাংলাদেশের গণতন্ত্রের নতুন অভিযাত্রার সূচনা এবং নতুন বাংলাদেশের জন্মের ভিত্তি।
এমজে/
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- শেয়ারবাজারে মার্জিন ঋণের নতুন বিধিমালা চূড়ান্ত
- ঢাবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক মহাসচিব রঞ্জন কর্মকার আর নেই
- বিমান বাহিনীতে ৪৫ ক্যাটাগরিতে ৩৪২ শূন্যপদে চাকরির সুযোগ
- শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক দেবে এসএসসি শিক্ষার্থীদের বৃত্তি, আবেদন করবেন যেভাবে
- ঢাবির ৯২ শিক্ষকের বিরুদ্ধে গোপন তৎপরতার অভিযোগ, ৫৮ জন শনাক্ত
- বসুন্ধরায় অভিনেত্রী রিধিকা রিধির মরদেহ উদ্ধার
- পরীক্ষা ছাড়া একাদশে ভর্তি শুরু ১৫ সেপ্টেম্বর
- অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৪৭ পদে নিয়োগ
- লন্ডনে ঢাবি অ্যালামনাই ইউকের কোচ ট্রিপ অনুষ্ঠিত
- বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট কাটাতে অন্তত দুই বছর সময় লাগবে: অর্থমন্ত্রী
- বাংলাদেশ পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টে চাকরির সুযোগ, আবেদন অনলাইনে
- এ টি এম আবদুল বারী ড্যানীকে ঢাবি অ্যালামনাইয়ের অভিনন্দন
- প্রথম দিনেই বাজিমাত জিতের নতুন সিনেমার
- সমকামিতার অভিযোগে ঢাবির দুই শিক্ষার্থী বহিষ্কার
- রঞ্জন কর্মকারের মৃ'ত্যুতে ঢাবি অ্যালামনাইয়ের শোক প্রকাশ