ঢাকা, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২

প্রিয় মানুষের গন্ধে কেন মন ভালো হয়? জানুন নেপথ্যের বিজ্ঞান

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৪ ১৫:৫২:২৫

প্রিয় মানুষের গন্ধে কেন মন ভালো হয়? জানুন নেপথ্যের বিজ্ঞান

ডুয়া ডেস্ক: কখনও কি খেয়াল করেছেন, কোনো নির্দিষ্ট মানুষের পাশে থাকলে অকারণেই মনটা ভালো হয়ে যায়? কিংবা কারও শরীরের স্বতন্ত্র ঘ্রাণ আলাদা করে মনে গেঁথে থাকে? বিশেষ করে প্রিয় মানুষের শরীরের গন্ধ অনেক সময় অদ্ভুত এক স্বস্তি এনে দেয়। ভালোবাসা দিবস ঘিরে যখন সম্পর্কের ‘কেমিস্ট্রি’ নিয়ে আলোচনা বাড়ে, তখন প্রশ্ন জাগে—এই কেমিস্ট্রি কি শুধু কথার কথা, নাকি এর পেছনে সত্যিই কাজ করে শরীরের রাসায়নিক প্রক্রিয়া?

ঘামে লুকানো রাসায়নিক সংকেত

পুরুষের বগলের ঘামে অ্যান্ড্রোস্টেনেডিওন নামের একটি যৌগ পাওয়া যায়। এটি অ্যান্ড্রোজেন গ্রুপভুক্ত স্টেরয়েডজাত রাসায়নিক। অনেক গবেষক একে সম্ভাব্য মানব ফেরোমোন হিসেবে বিবেচনা করেন। ফেরোমোন হলো এমন রাসায়নিক সংকেত, যা একই প্রজাতির অন্য সদস্যের আচরণ বা শারীরবৃত্তীয় প্রতিক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের University of Pennsylvania এর এক গবেষণায় দেখা গেছে, এই যৌগের গন্ধ নারীদের কর্টিসল (স্ট্রেস হরমোন) স্তরে সূক্ষ্ম পরিবর্তন আনতে পারে। কর্টিসলের এমন পরিবর্তন মনোযোগ, আবেগ ও মানসিক প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত।

মস্তিষ্কের প্রতিক্রিয়া কীভাবে কাজ করে?

গন্ধ নাক দিয়ে প্রবেশ করে অলফ্যাক্টরি সিস্টেমের মাধ্যমে সরাসরি মস্তিষ্কের আবেগ-নিয়ন্ত্রণকারী অংশে পৌঁছে যায়। এ কারণে অনেক সময় আমরা বুঝতেই পারি না কেন কারও উপস্থিতিতে স্বস্তি বা আকর্ষণ অনুভব করছি। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, নির্দিষ্ট পুরুষের সংস্পর্শে নারীদের মুড ও শারীরিক উত্তেজনায় সামান্য পরিবর্তন হতে পারে।

তবে এই প্রভাব খুবই সূক্ষ্ম এবং ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন। এটি কোনো সিনেমার মতো মুহূর্তেই প্রেমে পড়ে যাওয়ার গল্প নয়।

আকর্ষণের পেছনে কি ঘ্রাণের ভূমিকা আছে?

বিজ্ঞানীরা বলছেন, আকর্ষণ কেবল চেহারা বা ব্যক্তিত্বের ওপর নির্ভর করে না; ঘ্রাণও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মানুষ অবচেতনে এমন সঙ্গীর প্রতি আকৃষ্ট হতে পারে, যার জেনেটিক বৈচিত্র্য নিজের থেকে ভিন্ন। শরীরের গন্ধ সেই জৈবিক তথ্যের একটি বাহক হিসেবে কাজ করে।

অতএব, সম্পর্কের ‘কেমিস্ট্রি’ একেবারে রূপক নয় এর পেছনে কিছু জৈব-রাসায়নিক প্রক্রিয়াও সক্রিয় থাকে। তবে তা জটিল, সূক্ষ্ম এবং ব্যক্তি-নির্ভর।

শেষ পর্যন্ত বলা যায়, পুরুষের ঘামে থাকা অ্যান্ড্রোস্টেনেডিওন নারীর হরমোন ও মুডে কিছু প্রভাব ফেলতে পারে, কিন্তু এটি কোনো জাদুকরী প্রভাব নয়। মানব আকর্ষণ বহুমাত্রিক—জৈবিক সংকেত, মানসিক সংযোগ, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রভাবের সম্মিলিত ফল।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত