ঢাকা, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৮ মাঘ ১৪৩২

রয়টার্সের প্রতিবেদন: ক্ষমতার খুব কাছে তারেক রহমান

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১০ ১৩:৪০:০৮

রয়টার্সের প্রতিবেদন: ক্ষমতার খুব কাছে তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছরের নির্বাসনের পর দেশে ফিরে আসা বিএনপি নেতা তারেক রহমান এখন বাংলাদেশের শাসনভার গ্রহণের পথে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছেন, এমনটাই জানিয়েছে রয়টার্স।

২০০৮ সালে চিকিৎসার জন্য লন্ডন পাড়ি জমানোর পর দীর্ঘকাল পর, গত ডিসেম্বরে তিনি দেশে ফেরেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতৃত্বে কাজ করছেন এবং ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনে দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে সমীকৃত।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার দীর্ঘায়িত শাসনের পর তৈরি হওয়া রাজনৈতিক শূন্যতায় তারেক রহমানের এই উত্থান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অনন্য মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তারেক রহমান নির্বাচনি প্রচারে একটি আধুনিক, স্বচ্ছ এবং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করেছেন। তিনি ঘোষণা করেছেন, ক্ষমতায় এলে কোনো ব্যক্তি দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবে না, যা স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতা রোধ করবে।

এর পাশাপাশি তিনি দরিদ্র পরিবারে আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধি, দুর্নীতি দমন এবং শুধু তৈরি পোশাক শিল্পের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নতুন শিল্প যেমন খেলনা ও চামড়াজাত পণ্যে বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তিনি কোনো নির্দিষ্ট দেশের ওপর নির্ভর না হয়ে সবার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখবেন বলে জানিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন কেবল একটি রাজনৈতিক দলের ক্ষমতায় আসা নয়, বরং এটি বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মেরুকরণের মধ্যে একটি বড় পরিবর্তন। একদিকে তিনি তার বাবা-মায়ের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বহন করছেন, অন্যদিকে নিজেকে তরুণ প্রজন্মের কাছে ‘নীতি-নির্ধারক’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছেন। মাঠপর্যায়ে বিএনপির দৃঢ় অবস্থান এবং ভোটারদের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তাকে নির্বাচনের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে চিহ্নিত করেছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই দেখা যাবে, তারেক রহমানের নির্বাসন থেকে ক্ষমতায় উত্তরণের এই সফর চূড়ান্ত হবে কি না।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত