ঢাকা, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ চৈত্র ১৪৩২
জাতির উদ্দেশে ভাষণে যা বললেন তারেক রহমান
নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারের মাধ্যমে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ভাষণে তিনি তাঁর দলের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনার রূপরেখা তুলে ধরার পাশাপাশি অতীতের অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য দেশবাসীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং ১২ ফেব্রুয়ারি ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান।
তারেক রহমান তাঁর ভাষণের শুরুতে বাংলাদেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, “নাগরিককে দুর্বল রেখে রাষ্ট্র কখনো শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে না। সব শহীদের আকাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা আমাদের দায়িত্ব। জনগণের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতা নিশ্চিত করা না গেলে, দেশের ডেমোক্রেসি, ডেভেলপমেন্ট কিংবা ডিসেন্ট্রালাইজেশন কোনো কিছুই টেকসই হবে না।”
অতীতের ভুল ও আগামীর অঙ্গীকার
বিএনপি একাধিকবার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “দেশ পরিচালনা করতে গিয়ে সেই সময় কোনো কোনো ক্ষেত্রে হয়তো আমাদের অনিচ্ছাকৃত কিছু ভুল ত্রুটি হয়েছে। সেজন্য আমি দেশবাসীর কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে অর্জনগুলোকে অবলম্বন করে বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনের জন্য আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে আবারো আমি আপনাদের সমর্থন চাই।”
তারেক রহমান ভোটারদের প্রতি আবেদন জানিয়ে বলেন, “১২ ফেব্রুয়ারি আপনারা ধানের শীষের প্রার্থীদের দায়িত্ব নিন। ১৩ তারিখ থেকে আপনাদের নির্বাচিত এমপিরা আপনাদের দায়িত্ব নেবে। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আপনাদের দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করছে কি না সেটি নিশ্চিত করার দায়িত্ব আমি নেব ইনশাআল্লাহ। ১২ ফেব্রুয়ারি যদি আপনাদের সমর্থন পায় তাহলে রাষ্ট্রীয় পরিচালনায় বিএনপির মূল মন্ত্র থাকবে মহানবীর মহান আদর্শ ন্যায় করার।”
এক কোটি কর্মসংস্থান ও বেকার ভাতা
বেকারত্ব নিরসনে বিএনপির বড় পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের প্রথম এবং প্রধান অগ্রাধিকার হবে বেকার সমস্যা নিরসন। ব্যাংক, বিমা ও পুঁজিবাজারের সংস্কারের মাধ্যমে দেশে-বিদেশে এক কোটি কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যমাত্রা আমরা নির্ধারণ করেছি।” তিনি আরও যোগ করেন, “১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জনগণের রায় বিএনপি সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে বিএনপি শিক্ষিত তরুণ তরুণীদের জন্য ছয় মাস থেকে সর্বোচ্চ এক বছর কিংবা কর্মসংস্থান না হওয়া পর্যন্ত বিশেষ আর্থিক ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।” আইটি সেক্টরে প্রতিবছর সরাসরি ২ লাখ এবং ফ্রিল্যান্সিং ও ক্রিয়েটিভ ইন্ডাস্ট্রির মাধ্যমে পরোক্ষভাবে আরও ৮ লাখ কর্মসংস্থান তৈরির পরিকল্পনাও তুলে ধরেন তিনি।
ফ্যামিলি কার্ড ও নারী ক্ষমতায়ন
নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের লক্ষে তিনি বলেন, “বিএনপিকে যদি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দেন তাহলে আমরা এবার প্রথমবারের মতো দেশে প্রতিটি পরিবারের জন্য ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পরিবারগুলোর নারী প্রধানের নামে ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু করা হবে। তবে প্রথম পর্যায়ে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা প্রান্তিক এবং নিম্ন আয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে ফ্যামিলি কার্ডে প্রতিমাসে আড়াই হাজার টাকা কিংবা সমমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে।”
কৃষি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সংস্কার
কৃষকদের জন্য ‘ফার্মার্স কার্ড’ চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, “বাঁচলে কৃষক বাঁচবে দেশ। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষক একদিকে কৃষি সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য পাবেন, অপরদিকে সরকারের কাছ থেকে পাবেন আর্থিক এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা।” স্বাস্থ্যখাত নিয়ে তাঁর পরিকল্পনা হলো, “প্রিভেনশন ইজ বেটার দেন কিওর। আমরা প্রাথমিক স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা কোর্স সম্পন্ন করিয়ে সারাদেশে ১ লাখ হেলথকেয়ারের নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। নিয়োগ পাওয়া হেলথ কেয়ারারদের শতকরা ৮০ ভাগই হবেন নারী সদস্য।” এছাড়া হাই স্কুল পর্যায় থেকে কারিগরি শিক্ষা ও তৃতীয় একটি ভাষা শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
প্রশাসন ও ধর্মীয় নেতাদের জন্য সুযোগ
প্রশাসনিক সংস্কার নিয়ে তারেক রহমান বলেন, “শাসন প্রশাসনকে দলীয়করণ নয়। প্রশাসনে নিয়োগ কিংবা পদোন্নতি হবে মেধা এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে। জনগণের রায় বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে সরকারি কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের জন্য যথাসময়ে জাতীয় পে স্কেল ঘোষণা এবং বাস্তবায়ন করা হবে।” ধর্মীয় বিষয়ে তাঁর অঙ্গীকার— “জনগণের রায় বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে দেশের ইমাম, খতিব, মোয়াজ্জিন এবং একইভাবে অন্য সব ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে আর্থিক সহযোগিতা ইনশাআল্লাহ আমরা নিশ্চিত করতে চাই।”
প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’
প্রবাসীদের অবদানের স্বীকৃতি দিতে তিনি বলেন, “দেশে বিদেশে প্রবাসীদের সম্মান সুযোগ সুবিধা সুরক্ষা অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এবার আমরা প্রবাসী কার্ড প্রবর্তনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। এই কার্ডের মাধ্যমে দেশে প্রবাসীদের অর্থনৈতিক বিনিয়োগ সুরক্ষা এবং বিমানবন্দরে তাদের হয়রানী বন্ধসহ কয়েকটি সুবিধা বিদ্যমান থাকবে ইনশাআল্লাহ। দক্ষ শ্রমিকদের বিদেশ যাওয়ার জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা হবে যাতে কাউকে জমি বিক্রি করতে না হয়।”
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ
তারেক রহমান বলেন, “বিএনপি এমন একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে চায় যেখানে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, বিশ্বাসী, অবিশ্বাসী কিংবা সংশয়বাদী; পাহাড়ে কিংবা সমতলে বসবাসকারী প্রতিটি নাগরিক নিরাপদ থাকবে। আমরা মনে করি ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার।” তিনি আরও বলেন, “দল মত ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে এই বাংলাদেশ আমাদের সবার আমরা সবাই বাংলাদেশি।”
পরিশেষে শহীদ জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি দেশবাসীকে বলেন, “আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্র ও সরকারের জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার দিন। স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকে যারা ভালোবাসেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে ধানের শীষকে বিজয় করুন। ধানের শীষের বিজয়ের অর্থ বাংলাদেশের বিজয়।”
এসপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- আজ ব্রাজিল বনাম ফ্রান্স ম্যাচ কখন, কোথায় ও কীভাবে দেখবেন?
- আজ বাংলাদেশ-ভিয়েতনামের ম্যাচ কখন, কোথায় এবং যেভাবে দেখবেন
- ব্রাজিল বনাম ফ্রান্স ম্যাচ শেষ, জানুন ফলাফল
- বাংলাদেশ বনাম ভিয়েতনাম ম্যাচ চলছে, সরাসরি Live দেখুন এখানে
- শেষ হলো বাংলাদেশ বনাম ভিয়েতনাম ম্যাচ, জানুন ফলাফল
- চলছে বাংলাদেশ বনাম ভারত ম্যাচ, সরাসরি Live দেখুন এখানে
- বাংলাদেশ বনাম সিঙ্গাপুর ম্যাচ: কখন, কোথায় ও কীভাবে দেখবেন লাইভ আজকের খেলা
- বাংলাদেশ বনাম ভারত ম্যাচ শেষ, জানুন ফলাফল
- কিউএস বিষয়ভিত্তিক র্যাংকিং: বিশ্বসেরার স্বীকৃতি পেল ঢাবির ১০ বিভাগ
- জাতিসংঘের ভলান্টিয়ার হতে আবেদন করুন আজই
- সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জরুরি নির্দেশনা
- আর্জেন্টিনা বনাম জাম্বিয়া: কবে, কখন জানুন সময়সূচী
- ব্রাজিল বনাম ক্রোয়েশিয়া ম্যাচ: জেনে নিন কবে, কোথায় খেলা
- এপ্রিলে টানা পাঁচ দিনের লম্বা ছুটির সুযোগ
- ঢাবি চারুকলা অনুষদে বাংলা নববর্ষ উদযাপনের প্রস্তুতি শুরু