ঢাকা, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৭ মাঘ ১৪৩২

একটি দল দিশেহারা হয়ে নানা অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে: মাহদী আমিন

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৯ ২১:১৩:০৫

একটি দল দিশেহারা হয়ে নানা অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে: মাহদী আমিন

নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির অবশ্যম্ভাবী বিজয় দেখে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল দিশেহারা হয়ে নানা অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহদী আমিন অভিযোগ করেন, “ইতোপূর্বে ওই দলটির নেতাকর্মীরা বাসায় বাসায় গিয়ে ভোটারদের বিকাশ নম্বর ও ভোটার আইডি নিয়েছে। বিকাশ, রকেট বা নগদের মাধ্যমে এভাবে অবৈধ অর্থ প্রেরণ বা জান্নাতের টিকিটের প্রলোভনকে ধর্মপ্রাণ দেশবাসী প্রত্যাখ্যান করছেন। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রচুর বোরকা ও নিকাব বানানোর বিষয়ে আমরা জানতে পেরেছি।”

ইসলামী পোশাকে ভোট জালিয়াতির শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “ইসলামী মূল্যবোধের ধারক দল হিসেবে বিএনপি সবসময় বিশ্বাস করে, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের কাছে বোরকা ও নিকাব ধর্মীয় সংস্কৃতির একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমরা অবশ্যই নারীদের আব্রু ও পর্দার ব্যাপারে সর্বোচ্চ শ্রদ্ধাশীল, কিন্তু ইসলামি সেই পোশাককে অপব্যবহার করে কেউ যদি মিথ্যা পরিচয়ে জাল ভোট দেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে সেটি দুঃখজনক। সন্দেহজনক ভোটারের পরিচয় নিশ্চিত করতে, এনআইডি কার্ড, হজ, ওমরাহ, পাসপোর্ট বা ভিসার ছবি তোলার মতো করেই, মুখমণ্ডলের যে অংশটুকু অনাবৃত রেখে ছবি তুলতে হয়, ভোটার তালিকা অনুযায়ী নারী প্রিসাইডিং বা সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও নারী চ্যালেঞ্জকারী বা এজেন্টের উপস্থিতিতে ভোট প্রদানের আগে ভোটারের পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে।”

প্রশাসন নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা লক্ষ্য করেছি যে, প্রশাসনের ও নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের যোগসূত্র রয়েছে বলে কোনো কোনো মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমরা মনে করি, এটি অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত এবং একটি পরিকল্পিত দূরত্ব সৃষ্টির অপচেষ্টা। রাষ্ট্রের প্রতিটি সংস্থা, নির্বাচন কমিশন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীর নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বের ওপর জনগণের মতো আমরাও পূর্ণ আস্থা রাখতে চাই। এই ধরনের বিভ্রান্তি ছড়ানো অত্যন্ত নিন্দাজনক।”

বিএনপিকে নারী ক্ষমতায়নের রোল মডেল দাবি করে মাহদী আমিন বলেন, “দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ধরা হয় বিশ্বব্যাপী নারীর ক্ষমতায়নের রোল মডেল। অন্যদিকে বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বী যে রাজনৈতিক দল, তারা নারীদের বিষয়ে প্রতিনিয়ত অশালীন বক্তব্য দিচ্ছে, নারীর অধিকার এবং স্বাধীনতাকে সংকুচিত করতে চাচ্ছে। যেখানে সবচেয়ে বেশি নারী সংসদ সদস্য প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি, তার বিপরীতে দাঁড়িয়ে তারা একজন নারী প্রার্থীকেও মনোনয়ন দেয়নি। তারা রাস্তাঘাটে ভারতবিরোধী অবস্থানের কথা প্রকাশ করলেও, ইশতেহারে অসংখ্য ভারতীয় ছবি ব্যবহার করেছে, যা ব্যাখ্যাতীত।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, একটি অ্যাপের বিজ্ঞাপনে অভিনয়ের কথা বলে একজন অভিনেতাকে প্রতারণামূলকভাবে জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করা হয়েছে এবং ওই দলের প্রধানের সম্বোধনের শিষ্টাচার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

নির্বাচন কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত ৮১টি পর্যবেক্ষক সংস্থার মধ্যে ১৬টি অনভিজ্ঞ সংস্থার ৩২ হাজারের বেশি পর্যবেক্ষককে অনুমতি দেওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মাহদী আমিন। তিনি রিসডা বাংলাদেশ, বাকেরগঞ্জ ফোরামসহ সাতটি সংস্থার নাম উল্লেখ করে বলেন, এগুলোর সাথে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বিএনপি কমিশনকে পত্র দিয়েছে। এছাড়া ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার প্রজ্ঞাপন বাতিলের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, এটি উৎসবের আমেজকে ম্লান করবে।

বক্তব্যের শেষে মাহদী আমিন বলেন, “দেশি-বিদেশি জরিপ ও মাঠের বাস্তবতায় বিএনপি জনপ্রিয়তার সর্বোচ্চ চূড়ায় অবস্থান করছে। ধানের শীষের নিরঙ্কুশ বিজয় সুনিশ্চিত। আজকের বাংলাদেশে যদি জিজ্ঞেস করা হয় সত্যিকার অর্থে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার মতো নেতা যদি একজন থাকেন, তাহলে তিনি কে? সবাই একটি উত্তরই বলবেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আর কোনো রাজনৈতিক দলে এমন কোনো নেতৃত্ব নেই, যাকে দল-মত, শ্রেণি-পেশার ঊর্ধ্বে উঠে, সর্বজনীনভাবে দেশের সত্যিকার নেতা হিসেবে মানুষ মনে করে।”

এসপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত