ঢাকা, সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
বিএনপির শীর্ষ দুই পদে আসছে পরিবর্তন
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম আলোচনায় রয়েছে। দলের রাষ্ট্রপতি পদে সম্ভাব্য মনোনয়নের তালিকায় তাঁর নাম প্রথম দিকে রয়েছে বলে বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একটি সূত্রের দাবি।
ওই সূত্রের দাবি, রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের মনোনয়ন চূড়ান্ত করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিএনপির মনোনয়ন পেলে জাতীয় সংসদে দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে মির্জা ফখরুলই দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হবেন বলে দলটির সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি হওয়ার সম্ভাবনা সামনে আসার সঙ্গে সঙ্গে বিএনপির পরবর্তী মহাসচিব কে হবেন, সেই প্রশ্নও জোরালো হচ্ছে। মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে রুহুল কবির রিজভী দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পাবেন। পরে জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে নির্বাচিত হবে নতুন মহাসচিব।
বিএনপির বর্তমান মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম ২০০৯ সালে অনুষ্ঠিত পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হন। ২০১১ সালের ১৬ মার্চ তৎকালীন মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন মারা যাওয়ার পর জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পান তিনি।
পরে ২০১৬ সালে ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে বিএনপির মহাসচিব নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল। সংকট, সংগ্রাম ও নেতৃত্বে এক দশকের বেশি সময় ধরে তিনি এই দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বর্তমানে তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্বেও রয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে দল ও সরকারে একাধিক সাংগঠনিক পরিবর্তন আনতে হবে। সে ক্ষেত্রে তাঁকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রীর দায়িত্ব ছাড়তে হবে। একই সঙ্গে বিএনপির মহাসচিব পদেও নতুন নেতৃত্ব আনতে হবে। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলে তাঁর ঠাকুরগাঁও-১ আসনও শূন্য হবে। ফলে ওই আসনে উপনির্বাচনের প্রয়োজন হবে।
দিনক্ষণ চূড়ান্ত না হলেও চলতি বছরের ডিসেম্বর সামনে রেখে বিএনপির সপ্তম জাতীয় কাউন্সিলের প্রস্তুতি শুরু করেছে দলটি। এই কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন মহাসচিব নির্বাচনের কথা রয়েছে। কারণ, মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হোন বা না হোন, শারীরিক অসুস্থতা ও বয়সজনিত কারণে বিএনপির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদে আর থাকতে চান না বলে দলের ভেতরে আলোচনা রয়েছে।
মির্জা ফখরুল নিজেও সম্প্রতি বলেছেন, ‘আমি খুবই ক্লান্ত। আগামী কাউন্সিল পর্যন্ত থাকতে হচ্ছে। কাউন্সিলের পর অবসর নিতে চাই। আমার অনেক বয়স হয়ে গেছে, অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি।’
এ অবস্থায় বিএনপির পরবর্তী মহাসচিব কে হচ্ছেন, সেই প্রশ্ন এখন দলের ভেতরে-বাইরে আলোচনার কেন্দ্রে। দলের অভ্যন্তরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনপির অষ্টম মহাসচিব হিসেবে মোটাদাগে তিনজনের নাম আলোচনায় রয়েছে।
তাঁরা হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
বর্তমান সরকারে তিনজনই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। সালাহউদ্দিন আহমদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। আর রুহুল কবির রিজভী মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্পবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তিন সম্ভাব্য প্রার্থীর মধ্যে সালাহউদ্দিন আহমদের নামই সবচেয়ে বেশি আলোচিত। দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তাঁর প্রভাব এবং তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিতি তাঁকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। জাতীয় স্থায়ী কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে দলের বিভিন্ন কৌশলগত সিদ্ধান্ত প্রণয়নে ভূমিকা রেখে আসছেন।
তবে বিএনপির মধ্যে এমন আলোচনাও রয়েছে যে, সালাহউদ্দিন আহমদ মহাসচিব হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থেকে তাঁকে সরিয়ে অন্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্বের পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি মন্ত্রণালয় সামলানো একজনের জন্য বেশ কঠিন হবে। কারণ, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় দলের মহাসচিবকে সংগঠনের কাজে আরও বেশি সময় দিতে হবে।
অন্যদিকে, অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনকে সংগঠক হিসেবে মূল্যায়ন করেন বিএনপির নেতারা। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি, বিভাগীয় সমাবেশ ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড সফলভাবে বাস্তবায়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। মাঠপর্যায়েও তাঁর গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার চিকিৎসাসেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখায় তিনি জিয়া পরিবারের বিশ্বস্ত সঙ্গী হিসেবেও পরিচিত।
রুহুল কবির রিজভীকে দলের নেতাকর্মীরা ‘ত্যাগী নেতা’ হিসেবে মূল্যায়ন করেন। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয় উপস্থিতি, মামলা-হামলা মোকাবিলা এবং দলের দুঃসময়ে দৃঢ় অবস্থানের কারণে নেতাকর্মীদের কাছে তিনি বিশেষভাবে জনপ্রিয়। তবে রিজভী নির্বাচন করেননি এবং তাঁকে মন্ত্রিসভায়ও রাখা হয়নি।
তবে শেষ পর্যন্ত এই তিনজনের বাইরেও অন্য কোনো নেতার নাম সামনে আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স শেষপর্বের ফল প্রকাশ
- জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে যেতে টিকিট কাটবেন যেভাবে
- ভাতা-উপবৃত্তির আবেদন শুরু, জেনে নিন পদ্ধতি
- মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের জুলাইয়ের বেতন ফাইল চূড়ান্ত
- মালয়েশিয়াকে ৮৯ রানে হারিয়ে সিরিজে এগিয়ে বাংলাদেশ
- দাখিল ও কারিগরি বোর্ডের ফল দেখবেন যেভাবে
- এসএসসির ফল পুনঃনিরীক্ষণে আবেদন করবেন যেভাবে
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৯ আগস্ট)
- এক ক্লিকে জেনে নিন আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের দাম ও ফিচার
- নবম জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে সর্বশেষ যা জানা গেল
- পাঁচ দপ্তরে নতুন সচিব নিয়োগ দিল সরকার
- কবে হবে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা, জানা গেল যা
- আজকের বাজারে স্বর্ণ-রুপার দাম (৫ আগস্ট)
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৪ আগস্ট)
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৬ আগস্ট)