ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩
রিমান্ডে এমপি নজরুলের কাছ থেকে মিলল রহস্যময় তথ্য
নিজস্ব প্রতিবেদক: সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে ন্যাম ভবনের বারান্দাতেও ঘুমাতে হতো বলে আদালতকে জানিয়েছে পুলিশ। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান, গাজী নজরুল ইসলাম প্রথমে মরিয়মকে মৌখিকভাবে বিয়ে করেছিলেন।
মরিয়মকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় দুই দফায় ৮ দিনের রিমান্ড শেষে সোমবার গাজী নজরুল ইসলামকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম।
এদিন নজরুল ইসলামকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। প্রসিকিউশনের পক্ষে পুলিশের এসআই রফিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।
তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে দেওয়া আবেদনে উল্লেখ করেন, জিজ্ঞাসাবাদে গাজী নজরুল ইসলাম বলেছেন, মামলার বাদী মরিয়মের বাবা এসএম মাসুম বিল্লাহ তাঁর আত্মীয়। সম্পর্কে তিনি নজরুলের ভাগনে। মরিয়ম তাঁর নাতনি। পুলিশ জানায়, নজরুল ইসলাম ঢাকায় এলে মরিয়মের বাবার বাসায় রাতযাপন করতেন এবং সেখান থেকেই সংসদীয় কাজকর্ম পরিচালনা করতেন। এভাবে মরিয়মের সঙ্গে তাঁর সখ্যতা গড়ে ওঠে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, গত ১৭ জুন ধর্মীয় নিয়মে মৌখিকভাবে মরিয়মকে বিয়ে করেন নজরুল ইসলাম। পরে নিজ এলাকায় ওই বিয়ের কাবিন রেজিস্ট্রি করেন।
আদালতকে পুলিশ আরও জানিয়েছে, মরিয়ম এবং মামলার আরেক আসামি নজরুলের প্রথম স্ত্রী মোছা. মাকছুদা ইসলামের সঙ্গে ন্যাম ভবনে বসবাস করতেন গাজী নজরুল ইসলাম। সেখানে মরিয়মকে মাঝে মাঝে নজরুলের শয়নকক্ষের পাশের বেলকনিতে ঘুমাতে হতো। তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের সময় মামলার ঘটনা সম্পর্কে নজরুল ইসলামের কাছ থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে, নজরুল ইসলামের পক্ষে আইনজীবী মাহবুবুর রহমান আদালতে জামিনের আবেদন করেন। শুনানিতে তিনি বলেন, প্রথমে থানা পুলিশ নজরুলকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। পরে ডিবি পুলিশও তাঁকে রিমান্ডে নেয়। কিন্তু ঘটনার সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা বা প্ররোচনার বিষয়ে পুলিশ কোনো প্রমাণ দাখিল করতে পারেনি। শুনানি শেষে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই রাতে গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। পরে মরিয়মকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন মরিয়মের বাবা এসএম মাসুম বিল্লাহ।
পরদিন শেরেবাংলা নগর থানার এসআই মো. শামসুজ্জোহা সরকারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত নজরুলকে চার দিন এবং মাকছুদাকে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ওই রাতেই মামলার তদন্তভার ডিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়। এক দিনের রিমান্ড শেষে মাকছুদাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ২৩ সেপ্টেম্বর মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকেও কারাগারে পাঠানো হয়।
এর আগে গত ২০ জুলাই ঢাকার মগবাজারের একটি হোটেলে মরিয়মের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। প্রথম দিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বলে দাবি করেন। পরে গাজী নজরুল ইসলাম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ওই তরুণীকে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন। এরপর সাংগঠনিক তদন্তে নৈতিক স্খলনের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়ে ২২ জুলাই গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কার করে জামায়াতে ইসলামী।
ইমামুল
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া ম্যাচ কখন, কোথায় দেখবেন সরাসরি
- বাংলাদেশ বনাম মালয়েশিয়া ম্যাচ: Live দেখুন এখানে
- না ফেরার দেশে চলে গেলেন জেমস
- আকিজ গ্রুপে চাকরি, আবেদন ৯ অক্টোবর পর্যন্ত
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির নতুন উপাচার্যকে প্রত্যাখ্যান শিক্ষার্থীদের
- ঢাবির শহীদুল্লাহ্ হলের শিক্ষার্থী মুরাদের আকস্মিক মৃ/ত্যু
- প্রাথমিকে ১৪ হাজার শিক্ষকের নিয়োগপত্র, যোগদান ও পদায়নের সূচি প্রকাশ
- কোন রুটে কত বাড়ল বাসের ভাড়া
- আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৫ সেপ্টেম্বর)
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৪ সেপ্টেম্বর)
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির নতুন উপাচার্য অধ্যাপক লুৎফর রহমান
- অপ্রতিম হ/ত্যায় সামনে এল রহস্যময় তথ্য
- বাস ভাড়া বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি
- ইবনে সিনা ট্রাস্টে মেডিকেল অফিসার নিয়োগ, আবেদন অনলাইনে