ঢাকা, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৭ মাঘ ১৪৩২

নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাব না দিলে ৭ বছরের জেলের নির্দেশ ইসির

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৯ ২২:০৫:৪৩

নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাব না দিলে ৭ বছরের জেলের নির্দেশ ইসির

নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে একগুচ্ছ কঠোর ও প্রযুক্তিগত নির্দেশনা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি পরিপত্রে নির্বাচনের দিন পরিস্থিতি মনিটরিং এবং পরবর্তী সময়ে নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাব দাখিল নিয়ে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়।

২ ঘণ্টা পরপর পরিস্থিতির প্রতিবেদন:

ইসির নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণের দিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু করে বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত প্রতি ২ ঘণ্টা পরপর ভোট প্রদানের হার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রতিবেদন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পাঠাতে হবে। নির্বাচনের ফল দ্রুত ও নির্ভুলভাবে আদান-প্রদানের জন্য এবার ‘EMS’ (Election Management System) সফটওয়্যার ব্যবহার করা হবে। প্রত্যেক সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ফল এন্ট্রির জন্য দুইজন করে ডাটা এন্ট্রি অপারেটর নিয়োগ করবেন, যারা কেন্দ্রভিত্তিক ফল (ফরম-১৬) স্ক্যান ও আপলোড করবেন।

চূড়ান্ত ফলাফল গেজেটে প্রকাশের সুবিধার্থে আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে একীভূত ফলাফল বিবরণী (ফরম-১৮) ও নির্বাচনের রিটার্ন (ফরম-১৯) সহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র হার্ড ও সফট কপি আকারে কমিশনে জমা দিতে হবে।

নির্বাচনি ব্যয়ের রিটার্ন ও শাস্তির বিধান:

নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করেছে যে, নির্বাচনে বিজয়ী ও পরাজিত সকল প্রার্থীকে সরকারি গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাব বা রিটার্ন দাখিল করতে হবে। এমনকি যারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন কিংবা কোনো ব্যয় করেননি, তাদের জন্যও এ হিসাব দেওয়া বাধ্যতামূলক।

এই বিধান লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিপত্রে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত সময়ে ব্যয়ের রিটার্ন দাখিলে ব্যর্থ হলে অপরাধীর সর্বনিম্ন ২ বছর থেকে সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। রিটার্নিং অফিসারকে সরাসরি মামলা দায়ের করার নির্দেশ দিয়েছে ইসি, যার জন্য কমিশনের পূর্বানুমতির প্রয়োজন হবে না।

পাবলিক ইন্সপেকশন ও ফি:

প্রার্থীদের জমা দেওয়া ব্যয়ের রিটার্ন ও আনুষঙ্গিক দলিলপত্র রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে এক বছর পর্যন্ত সংরক্ষিত থাকবে। সাধারণ নাগরিকরা ফি প্রদান সাপেক্ষে এসব নথি পরিদর্শন করতে পারবেন। প্রতিটি দলিল পরিদর্শনের জন্য ১০০ টাকা এবং অনুলিপি সংগ্রহের জন্য প্রতি পৃষ্ঠায় ১০০ টাকা হারে ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।

ইসি আরও জানিয়েছে, চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার সময় পোস্টাল ভোটের হিসাবও যথাযথভাবে সন্নিবেশ করতে হবে। কোনো প্রার্থী পোস্টাল ভোট না পেলেও সেখানে ‘শূন্য’ (০) লিখে এন্ট্রি করতে হবে।

এসপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত