ঢাকা, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৮ মাঘ ১৪৩২
নতুন চুক্তিতে পোশাক রপ্তানিতে বড় ছাড় পেল বাংলাদেশ
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বড় স্বস্তি এনে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে নতুন সুবিধা ঘোষণা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত তুলা ও কৃত্রিম তন্তু ব্যবহার করে বাংলাদেশে উৎপাদিত পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে শূন্য শুল্ক সুবিধা দেবে মার্কিন প্রশাসন। পাশাপাশি বাংলাদেশের ওপর আরোপিত পাল্টা শুল্ক (রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ) এক শতাংশ কমিয়ে ১৯ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি নতুন দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি সই হয়েছে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, বাংলাদেশ সময় সোমবার রাত ১০টার দিকে ওয়াশিংটনে দুই দেশের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএসটিআর) জেমিসন গ্রিয়ার।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী এবং বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। এ চুক্তি নিয়ে গত বছরের এপ্রিল থেকে প্রায় নয় মাস ধরে দুই দেশের মধ্যে ধারাবাহিক আলোচনা চলছিল।
নতুন সমঝোতা অনুযায়ী, বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৯ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত তুলা ও কৃত্রিম তন্তু ব্যবহার করে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে রেসিপ্রোকাল শূন্য শুল্ক সুবিধা কার্যকর করা হবে।
এর আগে বাণিজ্য উপদেষ্টা শুল্ক কমানোর বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে জানিয়েছিলেন, আলোচনার মাধ্যমে শুল্কহার আরও কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে এবং চুক্তি হলে শুল্ক কমার বিষয়টি স্পষ্ট হবে।
উল্লেখ্য, ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর গত বছরের এপ্রিল মাসে একশটির বেশি দেশের ওপর বাড়তি শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। যেসব দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি বেশি, তাদেরই লক্ষ্য করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে শুরুতে ৩৭ শতাংশ শুল্ক ঘোষণা করা হলেও পরে তা কমিয়ে ৩৫ শতাংশ করা হয়। আগে থেকেই গড়ে ১৫ শতাংশ শুল্ক থাকায় মোট শুল্কের হার গিয়ে দাঁড়ায় প্রায় ৫০ শতাংশে, যা তৈরি পোশাকসহ রপ্তানি খাতে বড় চাপ সৃষ্টি করে।
এই পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকার ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় বসে। আলোচনার ফলে গত বছরের ৭ আগস্ট থেকে বাড়তি শুল্ক কমিয়ে ২০ শতাংশে নামানো হয়, ফলে মোট শুল্ক কমে দাঁড়ায় প্রায় ৩৫ শতাংশে। তবে এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়িয়ে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর শর্ত দেওয়া হয়।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বার্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৮০০ কোটি মার্কিন ডলার। এর মধ্যে বাংলাদেশ প্রায় ৬০০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করে।
বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাঁচ বছরে ৩৫ লাখ টন গম আমদানির চুক্তি করেছে। পাশাপাশি উড়োজাহাজ ও যন্ত্রাংশ, এলএনজি, সয়াবিন তেল, ভুট্টা ও তুলাসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই ধারাবাহিক উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছালো বাংলাদেশ।
এমজে/
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ইপিএস প্রকাশ করেছে এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ
- টানা ৫ দিনের ছুটি পাচ্ছে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
- ঢাবির ১৯ শিক্ষার্থী পেলেন ‘টিএফপি ক্রিয়েটিভ এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’
- ইপিএস প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন
- ইপিএস প্রকাশ করেছে বে লিজিং
- ৩৬০ মিটার, মোবাইল নিষেধাজ্ঞা ও ক্ষমতার রাজনীতি: নিরাপত্তার নামে কতটা নিয়ন্ত্রণ গ্রহণযোগ্য?
- টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬: জেনে নিন সরাসরি দেখার উপায়
- দেশের প্রথম বিটিসিএল এমভিএনও সিম চালু
- আজকের নামাজের সময়সূচি (৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬)
- ডিইউপিএস-এর ২৩তম কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা: সভাপতি আবীর, সম্পাদক হাসিব
- এক নজরে দেখে নিন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পরিবর্তিত সময়সূচি
- সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ ফাইনাল: ভারত বনাম বাংলাদেশ ম্যাচের চূড়ান্ত ফলাফল জানুন
- ৪ দিন ইন্টারনেট ব্যাংকিং বন্ধ ঘোষণা
- বিমস্টেকও ইয়ুথ ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ-এর মধ্যে বিশেষ বৈঠক সম্পন্ন
- ঢাবির 'বি' ইউনিটের পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ, পরিবর্তন ৮ জনের