×

ঢাকা, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩

শেয়ারবাজারে সংস্কারের ঘোষণা থাকলেও পতনরোধে কার্যকর উদ্যোগ নেই

২০২৬ অক্টোবর ০৫ ১৫:২১:০১

শেয়ারবাজারে সংস্কারের ঘোষণা থাকলেও পতনরোধে কার্যকর উদ্যোগ নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারের সংস্কার ও নানা উদ্যোগের কথা বারবার তুলে ধরছে বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা। গতকাল বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে শেয়ারবাজারের চেহারা পাল্টে যাবে। ওই অনুষ্ঠানে বিএসইসি চেয়ারম্যানসহ আরও বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বক্তব্য রাখেন। কিন্তু দুঃখজনক হলো, সবাই বাজার নিয়ে ইতিবাচক কথা বললেও চলমান ধারাবাহিক পতন ঠেকাতে কোনো ইতিবাচক পদক্ষেপের কথা বলেননি। ফলে আজও বাজারের পরিস্থিতি সন্তোষজনক হয়নি। বরং বাজার এখনো পতনেই ঘুরপাক খাচ্ছে বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

তাদের মতে, বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহের অনুষ্ঠানে বক্তাদের উচিত ছিল বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ নিয়ে কথা বলা। বিশেষ করে বিএসইসি ও ডিএসইর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য আসা প্রয়োজন ছিল। প্রকৃতপক্ষে তারা মুখে বাজার স্থিতিশীলতার কথা বললেও বাজারের প্রতি তাদের আন্তরিকতার অভাব রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের ভাষ্য, তারা শুধু মাস শেষে বেতন পেলেই সন্তুষ্ট। বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কি না, লাভবান হচ্ছে কি না—তা নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। বর্তমানে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কথাবার্তা শুনে মনে হচ্ছে, মুরগির বাগান শেয়ালের কাছে দিয়ে রাখা হয়েছে। বাজারে একটি চক্র নানা ধরনের কৌশল ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বাজারকে স্থিতিশীল হতে দিচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে যদি বলা হয়, বাজারকে নিজস্ব গতিতে চলতে দেওয়া হচ্ছে, তাহলে কারসাজিচক্র আরও বেশি সুযোগ পেয়ে যায়। তাদের সক্রিয়তা বেড়ে যাওয়ায় বাজারের অবস্থা দিন দিন তলানির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

বিনিয়োগকারীরা বলছেন, আগামী দিনের কথা বলে বর্তমান পতন ঠেকানোর দায় থেকে সরে পড়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। নতুন কমিশনের সময়ে উত্থানের তুলনায় পতনের মাত্রা অনেক বেশি। বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে না পারলে তাদের চেয়ারে বসে থাকা ঠিক হবে না। ধারাবাহিক পতনে আমাদের লোকসান দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। অথচ তারা পতন না ঠেকিয়ে সংস্কার ও বক্তৃতা দিয়ে নিজেদের দায় এড়িয়ে যাচ্ছে।

এদিকে আজ (০৫ অক্টোবর) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের পাশাপাশি টাকার অঙ্কে লেনদেন কমেছে। একই সঙ্গে লেনদেনে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের দরও কমেছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, সোমবার সপ্তাহের দ্বিতীয় কর্মদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩৭.০৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৪৪৫.২৭ পয়েন্টে। এদিন অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসইএস ৯.৮৭ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৯.৭৯ পয়েন্টে। ডিএসই-৩০ সূচক ৩.৫৪ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ২ হাজার ৮১.৭৫ পয়েন্টে।

আজ ডিএসইতে মোট ৩৮৬টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ৫৪টির দর বেড়েছে, ২৮৪টির দর কমেছে এবং ৪৮টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

ডিএসইতে এদিন প্রায় ৫৩৭কোটি ১১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আগের দিন ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল প্রায় ৫৪২ কোটি ৯৮ লাখ টাকার। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় আজ লেনদেন কমেছে প্রায় ৫ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।

এদিকে, অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম এক্সচেঞ্জে (সিএসই) আজ ১৭ কোটি ১১ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগেরদিন সিএসইতে ১৩ কোটি ৩২ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছিল।

আজ সিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৯৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে ৫৩টির, কমেছে ১২০টির এবং পরিবর্তন হয়নি ২২টির।

এদিন সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৪০.২১ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৬২০.৫৫ পয়েন্টে। আগের দিন সূচক সিএএসপিআই ১৭১.২০ পয়েন্ট কমেছিল।

আরিফ/

শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

ফের বিশ্ববাজারে বেড়েছে তেলের দাম

ফের বিশ্ববাজারে বেড়েছে তেলের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক: মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) এশিয়ার... বিস্তারিত