×

ঢাকা, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩

নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার: প্রধানমন্ত্রী

২০২৬ অক্টোবর ০৫ ১২:০৩:৪০

নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: সবার জন্য নিরাপদ, টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ আবাসন নিশ্চিত করাকে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, নাগরিকদের শুধু মাথা গোঁজার ঠাঁই দিলেই হবে না, সেই আবাসনকে নিরাপদ, টেকসই ও বসবাসের উপযোগী করাও জরুরি।

সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব বসতি দিবসের বিষয়টি শুধু একটি ঘরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। টেকসই আবাসনের সঙ্গে নিরাপদ পানি ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, গণপরিবহণ ও সড়ক ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা এবং পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানও সরাসরি সম্পৃক্ত। সর্বোপরি মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের জন্য নিরাপদ পরিবেশ প্রয়োজন।

তিনি বলেন, উন্নত বিশ্বের তুলনায় বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশে সব নাগরিকের জন্য নিরাপদ ও টেকসই বাসস্থান নিশ্চিত করা সহজ নয়। তবে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে সম্মানের সঙ্গে টিকে থাকতে হলে বৈশ্বিক পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে হবে।

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের শহর, বন্দর ও নগরগুলোতে প্রতিনিয়ত মানুষের বসতি ও বসবাস বাড়ছে। রাজধানী ঢাকা বর্তমানে ওভার পপুলেটেড। দেশের অন্যান্য শহরেও প্রায় একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে। শহরাঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি মানুষের বসবাস রয়েছে।

এমন বাস্তবতায় ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’ ধারণাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহরগুলোতে সবার জন্য নিরাপদ, মানসম্মত ও সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ও সুপরিকল্পিত নগর গড়ে তোলা প্রয়োজন।

তবে এসব লক্ষ্য নির্ধারণ করা যতটা সহজ, দেশের বর্তমান বাস্তবতায় তা বাস্তবায়ন করা ততটাই কঠিন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’ নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

তিনি আরও বলেন, সবার জন্য বাসযোগ্য, সাশ্রয়ী, পরিবেশসম্মত, নিরাপদ এবং মৌলিক সেবা-পরিষেবা সম্বলিত বাসস্থান তথা সর্বজনীন আবাসন নাগরিকদের মৌলিক সাংবিধানিক অধিকার। এ অধিকার নিশ্চিত ও নিরাপদ করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

পরিকল্পিত, নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর গড়ে তোলাকে সরকারের লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একই সঙ্গে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য বাসযোগ্য, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ আবাসনের ব্যবস্থাও সরকারের পরিকল্পনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। পরিকল্পিত নগরায়ণ ও আবাসন নিশ্চিত করা এবং সীমিত আয়ের মানুষের জন্য বাসস্থান সুবিধা দেওয়া সরকারের অন্যতম প্রধান নির্বাচনী অঙ্গীকার।

তিনি বলেন, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এ লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করছে। পরিকল্পিত নগরায়ণের জন্য প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হচ্ছে। এরই মধ্যে সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল, কুমিল্লা, রংপুর ও নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে।

এর মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক, নিরাপদ, সহনশীল ও টেকসই নগর গড়ে তোলার পাশাপাশি জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজির ১১ নম্বর অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

শহরাঞ্চলে মানুষের চাপ কমাতে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, রাজধানী ঢাকাসহ শহরগুলোর সঙ্গে সারাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও দ্রুত, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ করার পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে নাগরিক সুবিধা বাড়ানোর মাধ্যমে শহরমুখী মানুষের চাপ কমানোর পরিকল্পনাকে সরকার কার্যকর বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করছে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

দেশের বিদ্যমান নগরায়ণ পরিস্থিতিতে রাজধানী ও কয়েকটি বড় শহরের কেন্দ্রীভূত উন্নয়নের বাইরে এসে প্রতিটি অঞ্চলকে জাতীয় উন্নয়নের মূল ধারায় সম্পৃক্ত করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য, সরকারের লক্ষ্য কেন্দ্রীভূত নগরায়ণ নয়; বরং বিকেন্দ্রীভূত, ভারসাম্যপূর্ণ নগর ও আঞ্চলিক উন্নয়ন।

তিনি আরও বলেন, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে সারাদেশের জন্য স্থানিক পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং ঢাকার আশপাশে সেকেন্ডারি টাউনশিপ গড়ে তোলার পরিকল্পনা ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে।

বাসযোগ্য আবাসন তৈরিতে পরিবেশ সংরক্ষণকে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রকৃতি ও পরিবেশকে বিবেচনায় রেখেই জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিভাগীয় শহর, জেলা ও উপজেলা শহরে পরিকল্পিত আবাসন গড়ে তোলা হচ্ছে।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নানা চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার মুখোমুখি করছে। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতেও নগর এলাকার সংকট, বিশেষ করে সর্বজনীন বাসস্থান নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

দেশের নগর ও শহরাঞ্চলের আবাসন সংকট শুধু সরকারের একার পক্ষে মোকাবিলা করা কঠিন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আবাসন খাতের বেসরকারি উদ্যোক্তাসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সমন্বিত অংশগ্রহণ এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তারেক রহমান বলেন, সবার জন্য বাসযোগ্য, সাশ্রয়ী, পরিবেশসম্মত, নিরাপদ ও মৌলিক সেবা-পরিষেবা সম্বলিত বাসস্থান নাগরিকদের অন্যতম মৌলিক অধিকার। এ অধিকার বাস্তবায়নে ব্লকভিত্তিক আবাসন উৎসাহিত করার পাশাপাশি এলাকাভিত্তিক পার্ক, খেলার মাঠ স্থাপন এবং নির্ধারিত জোনে শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার প্রচেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে।

সরকারের নেওয়া পরিকল্পনাগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা গেলে নিরাপদ ও বাসযোগ্য আবাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্য বাস্তবে রূপ নেবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, পরিকল্পনাগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে ‘সবার জন্য নিরাপদ বাসস্থান’ দেশের নাগরিকদের জন্য একটি বাস্তব অর্জনে পরিণত হবে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

জাতীয় এর অন্যান্য সংবাদ

ফের বিশ্ববাজারে বেড়েছে তেলের দাম

ফের বিশ্ববাজারে বেড়েছে তেলের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক: মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) এশিয়ার... বিস্তারিত