×

ঢাকা, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সূচকের পতন হলেও লেনদেন বেড়েছে

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৮ ১৫:১১:৩১

সূচকের পতন হলেও লেনদেন বেড়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারকে স্থিতিশীল ও স্বাভাবিক রাখতে শুধু নিয়ন্ত্রক সংস্থার একক প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়। এ ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা অপরিহার্য। বাজার উর্ধ্বমুখী কিংবা নিম্নমুখী হলে সব কৃতিত্ব বা ব্যর্থতার দায় এককভাবে নিয়ন্ত্রক সংস্থার ওপর চাপানো সম্পূর্ণ ভুল। বাজার স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল রাখতে ডিএসই, সিএসই, সিডিবিএল ও আইসিবিসহ সব প্রতিষ্ঠানেরই দায়িত্ব রয়েছে। একইভাবে এ ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদেরও ভূমিকা আছে। সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন না করলে কেবল নিয়ন্ত্রক সংস্থার একক প্রচেষ্টায় বাজার স্থিতিশীল হবে না।

তাদের মতে, বাজার স্থিতিশীল রাখতে যথাযথ মনিটরিং প্রয়োজন। সার্ভিল্যান্স বিভাগের দায়িত্বও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো কোম্পানির দর অস্বাভাবিক হারে টানা বাড়লেই কেবল কোম্পানিটিকে শোকজ না করে যারা শেয়ারটি ধারাবাহিকভাবে ক্রয় করে অতিমূল্যায়ন করছে, তাদেরকেও শোকজের আওতায় আনা উচিত। তবে কোনো কোম্পানির দর ধারাবাহিকভাবে কমলেও তা পতন থেকে ফিরিয়ে আনতে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। এছাড়া বিনিয়োগকারীদেরও অতিমূল্যায়িত দরে শেয়ার কেনা থেকে বিরত থাকতে হবে। একই সঙ্গে পতনের বাজারে শেয়ার বিক্রির চেয়ে ক্রয় বাড়াতে হবে। পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীসহ সব শ্রেণীর লেনদেনে অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে।

এদিকে আজ (২৮ সেপ্টেম্বর) সূচকের পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের পাশাপাশি টাকার অংকে লেনদেন কমেছে। একই সঙ্গে লেনদেনে অংশ নেয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের দরও কমেছে।

তাদের মতে, আজকের বাজার পরিস্থিতিকে নেতিবাচক বলা যায় না। এটি গতানুগতিক চিত্র। তবে এই চিত্র আরও স্থিতিশীল হওয়া দরকার। আজকের লেনদেনের শুরু থেকে সূচক কিছুটা স্বাভাবিক ছিল। প্রকৃতপক্ষে শেয়ার ক্রয় বাড়লেই কেবল সূচক বাড়তে পারে। বাজার পড়তে দেখলেই অনেকেই শেয়ার ক্রয় কমিয়ে দেন, যা নেতিবাচক পরিস্থিতি তৈরি করে। তেমনিভাবে উত্থানের বাজারে শেয়ার ক্রয় বেড়ে যায়। তবে এই সময়ে শেয়ার বিক্রির পাশাপাশি ক্রয় করা উচিত। তবেই বাজার স্থিতিশীল হবে। প্রকৃতপক্ষে শেয়ার ক্রয়ের বিষয়ে গুজবে কান দেওয়া যাবে না। শেয়ার ক্রয়ের আগে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির বিষয়ে ভালোভাবে জেনে নেওয়া উচিত। তবেই পুঁজি সুরক্ষিত রেখে মুনাফা সম্ভব।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, সোমবার সপ্তাহের দ্বিতীয় কর্মদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৬.৮৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৫২৫.৮৬ পয়েন্টে। এদিন অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসইএস ৩.১২ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১০০.১৮ পয়েন্টে। ডিএসই-৩০ সূচক ১.৩৫ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ২ হাজার ৯৭.৯৪ পয়েন্টে।

আজ ডিএসইতে মোট ৩৯৪টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ১২৫টির দর বেড়েছে, ২২৪টির দর কমেছে এবং ৪৫টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

ডিএসইতে এদিন প্রায় ৭৪৬ কোটি ৪৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আগের দিন ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল প্রায় ৭২৭ কোটি ৪০ লাখ টাকার। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় আজ লেনদেন বেড়েছে প্রায় ১৯ কোটি ৬ লাখ টাকা।

এদিকে, অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম এক্সচেঞ্জে (সিএসই) আজ ১০ কোটি ৯৩ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগেরদিন সিএসইতে ৩৯ কোটি ৫২ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছিল।

আজ সিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৯০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে ৭১টির, কমেছে ৯৮টির এবং পরিবর্তন হয়নি ২১টির।

এদিন সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৫.৫৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৭৭৭.৭৫ পয়েন্টে। আগের দিন সূচক সিএএসপিআই ১২৮.৮৭ পয়েন্ট কমেছিল।

আরিফ/

শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত