×

ঢাকা, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

রাবির হলে ঘুমন্ত শিক্ষার্থীর পায়ে কালাচ সাপের কামড়

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৭ ১০:৫১:৩৫

রাবির হলে ঘুমন্ত শিক্ষার্থীর পায়ে কালাচ সাপের কামড়

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শহীদ শামসুজ্জোহা হলের ১৩৮ নম্বর কক্ষে ঘুমন্ত অবস্থায় নুরনবী ইসলামের পায়ে কালাচ সাপ কামড় দিয়েছে। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নুরনবী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

জানা গেছে, ভোরে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় নুরনবীর বিছানায় উঠে সাপটি তাঁর পায়ে কামড় দেয়। কামড়ের সঙ্গে সঙ্গেই বিষয়টি টের পান তিনি। পরে তাঁকে প্রথমে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখান থেকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে থাকা নুরনবীকে অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়েছে।

নুরনবীর রুমমেট হাবিবুর রহমান জানান, সাপ কামড় দেওয়ার পরপরই ঘুম থেকে উঠে চিৎকার শুরু করেন নুরনবী। পরে রুমের অন্যরা উঠে কালাচ সাপটি দেখতে পান। এতে কক্ষে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এরপর দ্রুত নুরনবীকে রাবি মেডিকেলে নেওয়া হয় এবং সেখান থেকে রামেক হাসপাতালে নেওয়া হয়।

হাবিবুর রহমান আরও বলেন, এর আগেও হলের বিভিন্ন কক্ষে সাপ ঢোকার ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হল সংসদ ও প্রশাসনকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তাঁর ভাষ্য, এখন কামড় দেওয়ার পর হয়তো অনেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু মৃত্যুর পর আশ্বাস দিয়ে তো কোনো লাভ নেই।

শহীদ শামসুজ্জোহা হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আল-আমিন সরকার বলেন, এর আগেও হলে সাপ ঢোকার ঘটনা ঘটেছিল। পরে হলের আশপাশের ঘাস পরিষ্কার করা হয়েছে, সাপ প্রতিরোধে সার্কেল দেওয়া হয়েছে এবং সামনের দুই পাশে ব্লিচিং পাউডার দেওয়া হয়েছে। এরপরও পাঁচতলায় সাপ পাওয়ায় তাঁরা উদ্বিগ্ন। সাপটি কীভাবে কক্ষে ঢুকেছে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন ছিল। এখন থেকে সাপ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় আরও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এ এইচ এম খুরশীদ আলম বলেন, সাপের কামড়ে আক্রান্ত শিক্ষার্থী বর্তমানে স্থিতিশীল আছেন। ইতোমধ্যে তাঁকে অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়েছে এবং আইসিইউ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। হলের প্রাধ্যক্ষ ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের সভাপতির সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে; তাঁরাও হাসপাতালে যাচ্ছেন। তিনি সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতির খোঁজখবর রাখছেন এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি মনিটর করছেন।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

বিশ্ববিদ্যালয় এর অন্যান্য সংবাদ