×

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

অপ্রতিম হ/ত্যায় সামনে এল রহস্যময় তথ্য

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২২ ১২:০২:৩৮

অপ্রতিম হ/ত্যায় সামনে এল রহস্যময় তথ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডের তদন্তে আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনার পাশাপাশি পাঁচ হাজার টাকা ধার নিয়ে বিরোধের তথ্য পেয়েছে পুলিশ। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, টাকা ফেরত চাওয়া নিয়ে অপ্রতিমের সঙ্গে এক কিশোরের বিরোধ তৈরি হয়েছিল। তবে ওই বিরোধ হত্যাকাণ্ডের পেছনে ভূমিকা রেখেছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অপ্রতিমের ব্যবহৃত আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা থেকেই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত। এ ঘটনায় অপ্রতিমের বাবা ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বাদী হয়ে মামলা করেন। ওই মামলায় সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিনসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শনিবার সকাল ৯টার দিকে তুহিনকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। সে সময় অপ্রতিমের মৃত্যুর খবর তদন্তকারীদের জানা ছিল না। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অপ্রতিমের লাশ উদ্ধারের খবর আসে। শুরুতে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেন তুহিন। তবে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর শনিবার রাত ৮টার দিকে তিনি নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। অন্যদের নাম জানাতে অবশ্য তিনি অনীহা প্রকাশ করেন।

জিজ্ঞাসাবাদের মধ্যেই তুহিনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল আসে। কলগুলো করছিল অপ্রতিমের বাবার প্রতিষ্ঠানে কাজ করা এক কিশোর। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাকেও হেফাজতে নেয় পুলিশ। পুলিশ সূত্র জানায়, আটকের সময় তার পরনে অপ্রতিমের বাবার প্রতিষ্ঠানের নাম লেখা টি-শার্ট ছিল। পরে তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও এক কিশোরকে হেফাজতে নেওয়া হয়।

পুলিশ ও তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেফতার হওয়া কিশোরদের একজন গত ২ সেপ্টেম্বর অপ্রতিমের বাবার মোবাইল সরঞ্জাম বিক্রির প্রতিষ্ঠান ইয়েসটেকে ডেলিভারিম্যান হিসেবে যোগ দিয়েছিল। তাকে মাসিক ১৪ হাজার টাকা বেতনে নিয়োগ দেওয়া হলেও তখনো কোনো লিখিত চুক্তি হয়নি। আরেক কিশোরও ওই প্রতিষ্ঠানে বিনা বেতনে কাজ করত বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. কামরুন নাহাত শীলা।

তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, অপ্রতিম ওই কিশোরদের একজনকে পাঁচ হাজার টাকা ধার দিয়েছিল। সম্প্রতি সেই টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধ হয়। তদন্তসংশ্লিষ্টদের দাবি, টাকা ফেরত দেওয়ার চাপ থেকে ওই কিশোর অপ্রতিমের প্রতি বিরক্ত হয়ে ওঠে। এমনকি অপ্রতিম বেঁচে না থাকলে ধার করা টাকা ফেরত দিতে হবে না-এমন চিন্তাও তার মধ্যে তৈরি হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। তবে পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে এই বিরোধ হত্যাকাণ্ডের অন্যতম কারণ ছিল কি না, তা এখনো তদন্তাধীন।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের সানন্দা এলাকার একটি নির্জন বনে অপ্রতিমের আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এতে বাধা দিলে অপ্রতিমের সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে তুহিন বাঁশের লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন। পরে ফাহাদ ও মো. কামরুল হাসান (১৬) অপ্রতিমকে আঘাত করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তুহিন অপ্রতিমের ব্যবহৃত আইফোন নিয়ে অন্যদের সঙ্গে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে পুলিশের ভাষ্য।

অপ্রতিমের বাবা জানান, শুক্রবার সন্ধ্যার পরও ছেলে বাসায় না ফেরায় ফাহাদকে ফোন করে ডেকে আনা হয়। অপ্রতিম কোথায় গেছে, সে বিষয়ে খোঁজ নিতে তাকে বলা হয়েছিল। পরে পরিবারের হাতে আসা সিসিটিভি ফুটেজে অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা এক যুবককে দেখে ফাহাদ তাকে তুহিন হিসেবে শনাক্ত করেন। এরপর ফাহাদকে দিয়ে তুহিনকে ফোন করানো হলে তিনি অপ্রতিম তার কাছে আসেনি বলে জানান। তখন রাত প্রায় ১০টা।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত