×

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রাথমিকে ১৪ হাজার শিক্ষকের নিয়োগপত্র, যোগদান ও পদায়নের সূচি প্রকাশ

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২২ ২২:১০:৫৮

প্রাথমিকে ১৪ হাজার শিক্ষকের নিয়োগপত্র, যোগদান ও পদায়নের সূচি প্রকাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রাজস্বখাতভুক্ত ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫’-এ প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের নিয়োগপত্র ও পদায়নের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। সূচি অনুযায়ী, আগামী ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিয়োগপত্র দিতে হবে। ১ অক্টোবর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে নির্বাচিত প্রার্থীদের যোগদান এবং ৪ অক্টোবর পদায়ন আদেশ জারি করা হবে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য জানা গেছে। এর আগে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যালয়-২ শাখা গত ১৭ সেপ্টেম্বর নিয়োগপত্র ও পদায়ন আদেশ জারির প্রশাসনিক অনুমোদন দেয়। সেই অনুমোদনের ভিত্তিতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ২১ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসক ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের নিয়োগপত্র জারি করতে হবে। কোনো প্রার্থীর নিয়োগপত্র দেওয়া সম্ভব না হলে তার কারণ ও মতামত উল্লেখ করে তালিকা ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠাতে হবে।

নিয়োগপত্র দেওয়ার আগে প্রার্থীদের বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা, জাতীয়তা, আবেদনপত্রে উল্লেখ করা অন্যান্য তথ্য এবং সনদপত্র যাচাই করতে হবে। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ৩০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে সাধারণ প্রার্থীদের বয়স ২১ থেকে ৩২ বছরের মধ্যে হতে হবে। বয়স নির্ধারণে এফিডেভিট গ্রহণ করা হবে না। যাচাই প্রক্রিয়া শেষে উপজেলা বা থানাভিত্তিক নিয়োগ আদেশ জারি করতে হবে।

এ ছাড়া নিয়োগের আগে জেলা সিভিল সার্জন দপ্তর থেকে দেওয়া স্বাস্থ্যগত উপযুক্ততার প্রত্যয়ন এবং ডোপ টেস্টের রিপোর্ট পর্যালোচনা করতে হবে। কোনো ভুল বা অসঙ্গতি পাওয়া গেলে, স্বাস্থ্যগত উপযুক্ততার প্রত্যয়ন না থাকলে অথবা ডোপ টেস্টের ফল নেতিবাচক হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর নিয়োগপত্র স্থগিত রাখতে হবে। এ ধরনের ক্ষেত্রে ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে প্রতিবেদন পাঠাতে হবে।

পুলিশ ভেরিফিকেশন ও এনএসআইয়ের গোয়েন্দা প্রতিবেদনে কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিরূপ মন্তব্য থাকলে তাঁর নিয়োগ আদেশ দেওয়া যাবে না। একই সঙ্গে নিয়োগপত্রে প্রার্থীর নাম, মা, বাবা বা স্বামীর নাম এবং স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা মূল আবেদনপত্র অনুযায়ী নির্ভুলভাবে উল্লেখ করতে হবে।

নিয়োগপত্রের খসড়া অনুযায়ী, নির্বাচিত প্রার্থীদের জাতীয় বেতনস্কেল ২০১৫ অনুসারে ১১ হাজার থেকে ২৬ হাজার ৫৯০ টাকা বেতনক্রমের গ্রেড-১৩ পদে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রাজস্বখাতভুক্ত সহকারী শিক্ষক হিসেবে অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হবে।

চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর প্রথম দুই বছর শিক্ষানবিশকাল হিসেবে বিবেচিত হবে। এ সময় কর্মদক্ষতা, আচরণ ও চাকরির রেকর্ড সন্তোষজনক থাকলে বিধি অনুযায়ী চাকরি স্থায়ীকরণের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। শিক্ষানবিশকালে বদলির জন্য আবেদন করা যাবে না। এ সময়ে অসদাচরণ করলে কারণ দর্শানো ছাড়াই চাকরি থেকে অপসারণের বিধান রয়েছে।

নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের শিশুদের শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগের সময় দেওয়া কোনো তথ্য বা সনদপত্র মিথ্যা, ভুয়া বা ত্রুটিপূর্ণ প্রমাণিত হলে নিয়োগ বাতিল করা হবে। পাশাপাশি প্রচলিত আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হবে।

চাকরিতে যোগদানের পর নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সরকার নির্ধারিত দুই মাসের প্রশিক্ষণে অংশ নিতে হবে। একই সঙ্গে চার বছরের মধ্যে মৌলিক প্রশিক্ষণ (বিটিপিটি) গ্রহণ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রশিক্ষণ না নিলে অথবা প্রশিক্ষণে অনুত্তীর্ণ হলে চাকরি স্থায়ী করা হবে না।

যোগদানের সময় ৩০০ টাকা মূল্যের নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে একটি বন্ড দিতে হবে। ওই বন্ডে নিজে বা পরিবারের অন্য সদস্যদের জন্য যৌতুক না নেওয়া এবং না দেওয়ার অঙ্গীকার করতে হবে।

নির্বাচিত প্রার্থীদের ১ অক্টোবর বৃহস্পতিবার অফিস চলাকালীন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে সশরীরে উপস্থিত হয়ে কাজে যোগ দিতে হবে। নির্ধারিত দিনে যোগ না দিলে তাঁকে চাকরিতে যোগদানে অনিচ্ছুক হিসেবে গণ্য করে নিয়োগপত্র বাতিল করা হবে।

এরপর ৪ অক্টোবর নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পদায়ন আদেশ জারি করা হবে। প্রশিক্ষণের সময়সূচি পরে জানানো হবে। তাঁরা ‘প্রাতিষ্ঠানিক কোড নং ১২৪০২০৯০০০০০০ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহ’-এর বেতন-ভাতাদি খাত থেকে বেতন-ভাতা পাবেন।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ২০২৫ সালের সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতেই এ নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত