ঢাকা, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩
ছেলে হ/ত্যার নেপথ্যে দুটি কারণ দেখছেন অপ্রতিমের মা
নিজস্ব প্রতিবেদক: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের ধারণা, তাঁর ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পেছনে দুটি ঘটনা ভূমিকা রাখতে পারে। এর একটি হলো, হত্যার প্রায় ১০ দিন আগে অপ্রতিমের বাবার প্রতিষ্ঠানে মামলার এক আসামির চাকরি নেওয়া। অন্যটি, বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় স্থানীয় কয়েকজন কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যকে পুলিশে সোপর্দ করা। এ দুটি ঘটনার সঙ্গে অপ্রতিম হত্যার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
একই সঙ্গে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দুই আসামির প্রকৃত বয়স নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অপ্রতিমের মা। সোমবার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির আয়োজিত মানববন্ধনে তাঁর সহকর্মীরা তাঁর এসব সন্দেহের কথা তুলে ধরেন।
সোমবার বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে অপ্রতিম হত্যার প্রতিবাদে শোকমিছিল ও মানববন্ধন করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। সেখানে নাহিদা বেগমের হয়ে তাঁর বক্তব্য ও সন্দেহের বিষয়গুলো তুলে ধরেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কামরুন নাহার।
কামরুন নাহার জানান, তিনি অপ্রতিমের মায়ের সঙ্গে দেখা করেছেন। সন্তানকে হারিয়ে নাহিদা বেগমের অবস্থা খুবই খারাপ। এমন পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি কয়েকটি বিষয়ে সন্দেহের কথা জানিয়েছেন এবং তাঁর হয়ে সেগুলো মানববন্ধনে তুলে ধরতে বলেছেন।
তিনি বলেন, অপ্রতিম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন সালমানপুর এলাকার ১৬ বছর বয়সী এক কিশোর হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১০ দিন আগে অপ্রতিমের বাবার প্রতিষ্ঠানে চাকরি নিয়েছিল। নাহিদা বেগমের সন্দেহ, ওই কিশোরের সেখানে চাকরি নেওয়ার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।
অপ্রতিমের মায়ের আরেকটি সন্দেহ তাঁর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় নেওয়া কিছু পদক্ষেপকে ঘিরে। কামরুন নাহার বলেন, ওই দায়িত্বে থাকাকালে নাহিদা বেগম মাদকবিরোধী অভিযানে কুমিল্লার স্থানীয় কয়েকজন কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছিলেন।
নাহিদা বেগমের দাবি, ওই কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্বে ছিলেন অপ্রতিম হত্যা মামলার প্রধান আসামি সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন (১৯)। ওই ঘটনার সঙ্গে অপ্রতিম হত্যার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
মামলায় গ্রেপ্তার দুই আসামির বয়স নিয়েও সন্দেহের কথা জানিয়েছেন অপ্রতিমের মা। কামরুন নাহার তাঁর বক্তব্য তুলে ধরে বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে দুজনকে অপ্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে দেখানো হয়েছে। তাঁদের প্রকৃত বয়স যাচাই করে নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন নাহিদা বেগম। প্রয়োজনে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে বয়স নিশ্চিত করার কথাও বলেছেন তিনি। অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রয়োজন হলে আইন সংশোধনের দাবিও জানিয়েছেন অপ্রতিমের মা।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ইউট্যাব কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক মো. শাহাদাৎ হোসেন। তিনি বলেন, তাঁরা কুমিল্লার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বাইরে আর কেউ জড়িত থাকলে তাকেও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের এলাকাগুলোতে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন শাহাদাৎ হোসেন। এসব অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির আহ্বায়ক শামীমা নাসরিন বলেন, ‘অপ্রতিমের হত্যাকাণ্ড শুধু কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনা নয়; এটি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সংকটেরও প্রতিফলন।’
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান শামীমা নাসরিন। তিনি বলেন, অপ্রতিমের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা পাশে দাঁড়িয়েছেন। কিন্তু দেশের আরও অনেক অপ্রতিমের জন্য এভাবে কথা বলার কেউ নেই। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব প্রশাসনের।
অপ্রতিম হত্যা মামলার বিচার দ্রুত শেষ করার দাবি জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আবদুল হাকিম। তিনি বলেন, ‘অপ্রতিম আমাদের সন্তান। আমরা আর কত মানববন্ধন করব? শুধু কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, সারা দেশে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বন্ধ করতে হবে।’
এদিকে পুলিশের ভাষ্য, আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার সময় বাধা দেওয়ায় অপ্রতিমকে লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়। হত্যার পর তুহিন অপ্রতিমের আইফোন নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান এবং পরে তাঁর বাসা থেকে ওই ফোন উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তবে পুলিশের সংবাদ সম্মেলনেই অপ্রতিম ও আসামিদের মধ্যে ‘অসম বন্ধুত্বের’ বিষয়টি সামনে আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের একসঙ্গে ছবি ও ভিডিও থাকার কথাও জানিয়েছে পুলিশ। কিশোর গ্যাংয়ের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তাঁদের মধ্যে আগের পরিচয়ের সূত্র কী এবং আইফোনের বাইরে অন্য কোনো বিরোধ বা কারণ ছিল কি না-এসব বিষয় তদন্ত করা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এ কারণে অপ্রতিম হত্যার একমাত্র ও চূড়ান্ত কারণ হিসেবে শুধু আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার বিষয়টিকেই ধরা যায় কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো বিষয় কাজ করেছে কি না, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেটি পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।
অন্যদিকে, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চে অপ্রতিমের মা নাহিদা বেগম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সে সময় তিনি বিভিন্ন ঘটনায় কয়েকজন কিশোরকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছিলেন। সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ মনে করছেন, ওই ঘটনার কারণে এলাকার কিশোর গ্যাং ও মাদকচক্রের কেউ কেউ নাহিদা বেগমের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে থাকতে পারেন।
এ কারণে ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর হিসেবে নাহিদা বেগমের দায়িত্ব পালনের সময় ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনার সঙ্গে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে। তবে বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন এবং এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, অপ্রতিমের কাছ থেকে আইফোন নেওয়ার পর সেটি তুহিনের বাসায় রাখা হয়েছিল। ফোনটি উদ্ধারের আগে পরিবারের কেউ এ বিষয়ে কিছু জানতেন কি না, জানলে কেন সেটি সরানো হয়নি এবং পুলিশের অভিযানের আগে ফোনটি অন্য কোথাও সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল কি না—এসব প্রশ্নের উত্তরও তদন্তে পরিষ্কার হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
ইমামুল
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- শুধু আইফোনের জন্য নয়, অপ্রতীম হ/ত্যার পেছনে ছিল বিরোধও
- পাভেলকে ঘিরে ফের ভাইরাল পাঁচ মিনিটের ভিডিও
- একাদশ শ্রেণির ভর্তির ফল প্রকাশ আজ, যেভাবে দেখবেন
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি আবেদনের সময় বাড়ল
- সিগারেট নিয়ে নতুন বিধান জারি
- মিছিলের প্রস্তুতিকালে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ১৮ কর্মী আটক
- নতুন পে স্কেলে কোন গ্রেডে কত বেতন, দেখুন এখানে
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ, আবেদন ১২ অক্টোবর পর্যন্ত
- রাস্তার পাশে গাড়ি পার্কিং না করার আহ্বান পরিবহন মালিক সমিতির
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৫ সেপ্টেম্বর)
- আরও ৯০ দিন মেয়াদ বাড়ল ডাকসুর
- পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ নিয়ে যা জানা গেল
- অপ্রতিম হ/ত্যার রহস্যময় তথ্য উন্মোচন করেছে পুলিশ
- ঢাবির ৬৪ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৬ সেপ্টেম্বর)