×

ঢাকা, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

দরপতনকে ইতিবাচক সুযোগ হিসেবে দেখছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৭ ১৫:২৪:১৫

দরপতনকে ইতিবাচক সুযোগ হিসেবে দেখছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে দরপতনকে অনেকেই ক্ষতির কারণ হিসেবে দেখে থাকেন। তবে বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, দরপতন কেবল লোকসানের বার্তা বয়ে আনে না, বরং মুনাফার সুযোগও তৈরি করে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, যারা উচ্চ দরে বিতর্কিত বা দুর্বল কোম্পানির শেয়ার কিনেছেন, তাদের জন্যই দরপতন বেশি ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু সঠিক কৌশল অবলম্বন করলে পতনের বাজারেও ভালো মুনাফা করা সম্ভব। কারণ পতনের সময় অনেক ভালো কোম্পানির শেয়ার বিনিয়োগের জন্য অনুকূল অবস্থানে চলে আসে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতামত অনুযায়ী, দরপতনের সময় কম দামে ভালো কোম্পানির শেয়ার কিনে রাখলে এবং পরে বাজার উত্থানের সময় তা বিক্রি করলে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি মুনাফা পাওয়া যায়। তাই পতনের বাজারে শেয়ার বিক্রি না করে বরং ক্রয়ের দিকেই ঝুঁকা উচিত। একইভাবে, বাজার উত্থানের সময় শেয়ার বিক্রি করে মুনাফা তুলে নেয়াও বুদ্ধিমানের কাজ।

তাদের মতে, বর্তমানে বাজারে যে পতন দেখা যাচ্ছে, তা শুধু নেতিবাচক দৃষ্টিতে না দেখে ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা উচিত। বাজারে উত্থান যেমন চিরস্থায়ী নয়, তেমনি পতনও স্থায়ী হয় না। পতনের পরই উত্থান আসে। তাই পতনের বাজারে আতঙ্কিত না হয়ে ভালো শেয়ার কিনে রাখাই যুক্তিযুক্ত।

এদিকে, গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের ধারাবাহিকতায় আজ (২৭ সেপ্টেম্বর) সূচকের পতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের পাশাপাশি টাকার অঙ্কে লেনদেনও কমেছে। একই সঙ্গে লেনদেনে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের দরও কমেছে। বাজারের এমন পরিস্থিতিকে ইতিবাচক দৃষ্টিতেই দেখছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

তাদের মতে, আজকের পতনের কারণে অনেক ভালো কোম্পানির শেয়ার বিনিয়োগের জন্য অনুকূল অবস্থানে এসেছে। যারা এসব শেয়ার কিনেছেন, তারা খুব শিগগিরই তা থেকে ভালো মুনাফা পাবেন। দরপতনের সময় লোকসানে শেয়ার বিক্রি না করে ধরে রাখলে পুঁজি সুরক্ষিত থাকে। তাই পতনের বাজারে আতঙ্কিত হয়ে শেয়ার বিক্রি না করে ধরে রাখা উচিত। বাজার নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। ধারাবাহিক উত্থান যেমন মেনে নিতে হয়, তেমনি পতনও মেনে নিতে হবে। পতন শুধু নেতিবাচক পরিস্থিতি তৈরি করে না, এর ইতিবাচক দিকও রয়েছে। জুন ক্লোজিং হওয়া কোম্পানিগুলো ইতোমধ্যে ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে। এমন পরিস্থিতিতে শেয়ার ধরে রেখে আরও ভালো শেয়ার কেনা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, রোববার সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৪৫.৫৭ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৫৩২.৭৪ পয়েন্টে। এদিন অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসইএস ১২.৫৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১০৩.৩০ পয়েন্টে। ডিএসই-৩০ সূচক ১২.৮৩ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ২ হাজার ৯৯.২৯ পয়েন্টে।

আজ ডিএসইতে মোট ৩৮৮টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ৭৫টির দর বেড়েছে, ২৭৭টির দর কমেছে এবং ৩৬টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

ডিএসইতে এদিন প্রায় ৭২৭ কোটি ৪০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আগের দিন ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল প্রায় ৭৫৬ কোটি ৩১ লাখ টাকার। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় আজ লেনদেন কমেছে প্রায় ২৮ কোটি ৯১ লাখ টাকা।

এদিকে, অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম এক্সচেঞ্জে (সিএসই) আজ ৩৯ কোটি ৫২ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগেরদিন সিএসইতে ১৬ কোটি ৭২ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছিল।

আজ সিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৭৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে ৬৬টির, কমেছে ৯০টির এবং পরিবর্তন হয়নি ২৩টির।

এদিন সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১২৮.৮৭ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৭৮৩.৩১ পয়েন্টে। আগের দিন সূচক সিএএসপিআই ৪১.৫০ পয়েন্ট বেড়েছিল।

আরিফ/

শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত