ঢাকা, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩
বিশ্বকাপের পথ বদলাতে এএফসির নতুন নেশনস লিগ
স্পোর্টস ডেস্ক: বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপে খেলার যোগ্যতা অর্জনের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে চায় এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি)। এ লক্ষ্যে নতুন ‘নেশনস লিগ’ চালুর একটি খসড়া পরিকল্পনা তৈরি করেছে সংস্থাটি। ইএসপিএন এই খসড়াটি দেখেছে।
গত ডিসেম্বরে এএফসি প্রথমবারের মতো এই টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনার কথা জানায়। মঙ্গলবার সদস্য দেশগুলোকে এ নিয়ে একটি ব্রিফিং দেওয়া হবে। সেখানে পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরা হবে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০৩০ সাল থেকে প্রতি দুই বছর পর নেশনস লিগ আয়োজন করা হবে।
পরিকল্পনায় এশিয়ার দলগুলোকে তিনটি স্তরে ভাগ করার কথা বলা হয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় স্তরে থাকবে ১৮টি করে দল। তৃতীয় স্তরে থাকবে ১১টি দল, যাদের তিনটি গ্রুপে ভাগ করা হবে।
বিশ্বকাপের সঙ্গে যুক্ত নেশনস লিগের আসরে প্রতিটি দল ছয়টি করে হোম ও অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলবে। এই ব্যবস্থায় প্রথম আসর হবে ২০৩২-৩৩ মৌসুমে। প্রথম স্তরের শীর্ষ ছয় দল সরাসরি বিশ্বকাপে জায়গা পাবে। সপ্তম থেকে দশম স্থানে থাকা চার দল রাউন্ড-রবিন পদ্ধতিতে প্লে-অফ খেলবে। সেখানকার সেরা দুই দল বাকি দুটি বিশ্বকাপের আসন পাবে। তৃতীয় দলটি যাবে আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফে।
২০২৬ বিশ্বকাপের বাছাইয়ে পদ্ধতিটি ছিল ভিন্ন। তৃতীয় পর্বে ১৮টি দলকে ছয়টি করে তিনটি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছিল। প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুই দল সরাসরি বিশ্বকাপে জায়গা পেয়েছিল। এরপরের সেরা দুই দল চতুর্থ পর্বের প্লে-অফে অংশ নিয়েছিল।
এশিয়ান কাপের সঙ্গে যুক্ত নেশনস লিগের প্রথম আসর আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে ২০৩০ সালে। সেখানে প্রতিটি দল তিনটি হোম ও তিনটি অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলবে। একই সঙ্গে এশিয়ান কাপ ২০৩১ থেকে সরিয়ে ২০৩২ সালে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রথম স্তরের সব দল এশিয়ান কাপে খেলবে। দ্বিতীয় স্তরের সেরা ছয় দলও সেখানে জায়গা পাবে।
নেশনস লিগের আসরটি বিশ্বকাপ নাকি এশিয়ান কাপের সঙ্গে যুক্ত—তা যাই হোক, প্রথম স্তরের সেরা আট দল নকআউট পর্বে উঠবে। কোয়ার্টার ফাইনাল হবে হোম ও অ্যাওয়ে ভিত্তিতে। সেমিফাইনাল ও ফাইনাল আয়োজন করা হবে একটি নির্দিষ্ট কেন্দ্রীয় ভেন্যুতে।
প্রতিটি আসর শেষ হওয়ার পর দলগুলোর স্তর পরিবর্তনের ব্যবস্থাও থাকবে। ওপরের স্তরের নিচের দুই দল সরাসরি নিচের স্তরে নেমে যাবে। আর নিচের স্তরের সেরা দুই দল সরাসরি ওপরে উঠবে। এ ছাড়া ওপরের স্তরের পরের চার খারাপ দল ও নিচের স্তরের পরের চার ভালো দল প্লে-অফে মুখোমুখি হবে।
প্রস্তাবে অঞ্চলভিত্তিক দল ভাগের ব্যবস্থা রাখা হয়নি। এএফসির মতে, প্রতিটি অঞ্চলে দলের সংখ্যা সমান নয় এবং অঞ্চলগুলোর মধ্যে খেলার মানেও বড় পার্থক্য রয়েছে। ড্রয়ের সময় দলগুলোকে বিভিন্ন পটে রাখা হবে, যাতে ভারসাম্যপূর্ণ সূচি তৈরি করা যায়। অ্যালগরিদম ব্যবহার করে সূচি তৈরি করা হবে।
বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপের বাছাইয়ের সঙ্গে সম্পর্কহীন আলাদা কোনো টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা বাতিল করা হয়েছে। এর কারণ হিসেবে অতিরিক্ত খরচ এবং ম্যাচ আয়োজনের জন্য পর্যাপ্ত খালি দিন না থাকার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
নতুন ব্যবস্থায় যাওয়ার আগে ২০২৮-২৯ মৌসুমে একটি পাইলট টুর্নামেন্ট আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছে এএফসি। প্রথম আসরে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে ফিফা র্যাঙ্কিং ব্যবহার করা হবে না। এর পরিবর্তে প্রাথমিক যৌথ বাছাইয়ের ফলাফলের ভিত্তিতে দলগুলোর স্তর নির্ধারণ করা হবে।
পাইলট টুর্নামেন্টের প্রথম স্তরে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের বর্তমান নিয়মই থাকবে। ছয়টি করে দলের তিনটি গ্রুপে খেলা হবে। প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুই দল ২০৩০ বিশ্বকাপে খেলবে। পরের চার সেরা দল প্লে-অফে যাবে। এখানে ২০২৬ সালের নিয়মের মতো তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে থাকা দলগুলোকে ধরা হবে না। প্লে-অফের কাঠামো হবে প্রস্তাবিত চূড়ান্ত মডেলের মতো। সেরা দুই দল বিশ্বকাপে যাবে এবং তৃতীয় সেরা দল আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফে খেলবে। পাইলট আসরেও স্তর পরিবর্তন ও প্লে-অফ থাকবে। এর মাধ্যমেই ২০৩০ সালের প্রথম অফিসিয়াল নেশনস লিগের স্তর নির্ধারিত হবে।
বাংলাদেশের নতুন বাস্তবতা
প্রস্তাবিত কাঠামো কার্যকর হলে বাংলাদেশের জন্যও নতুন পরিস্থিতি তৈরি হবে। এতে অঞ্চলভিত্তিক ভাগ না থাকায় বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে আলাদা করে রাখা হবে না। এশিয়ার সব দলকে একসঙ্গে তিনটি স্তরে ভাগ করা হবে।
বাংলাদেশ কোন স্তরে থাকবে, তা নির্ধারিত হবে ২০২৮-২৯ সালের পরীক্ষামূলক টুর্নামেন্টের ফলের ভিত্তিতে। সেখানে ফিফা র্যাঙ্কিং বিবেচনায় নেওয়া হবে না; প্রাথমিক যৌথ বাছাইয়ের ফল দিয়েই স্তর নির্ধারণ করা হবে। ফলে বাংলাদেশের জন্য প্রথম বড় পরীক্ষা হবে ওই বাছাই।
বাংলাদেশ তৃতীয় স্তরে থাকলে সরাসরি বিশ্বকাপ বা এশিয়ান কাপে যাওয়ার পথ আপাতত অনেক দূরের হবে। কারণ বিশ্বকাপে সরাসরি প্রথম স্তরের সেরা ছয় দল জায়গা পাবে। এশিয়ান কাপে খেলবে প্রথম স্তরের সব দেশ এবং দ্বিতীয় স্তরের সেরা ছয় দল।
তবে নতুন ব্যবস্থায় ওপরের স্তরে ওঠার সুযোগও থাকবে। প্রতিটি আসর শেষে প্রতিটি স্তরের সেরা দুই দল সরাসরি ওপরের স্তরে উঠবে, আর নিচের দুই দল নেমে যাবে পরের স্তরে। পাশাপাশি প্লে-অফের মাধ্যমেও স্তর পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে। ধারাবাহিকভাবে ভালো ফল করতে পারলে বাংলাদেশের ধাপে ধাপে ওপরে ওঠার সুযোগ থাকবে।
ম্যাচের সংখ্যার দিক থেকেও নতুন কাঠামোয় পরিবর্তন আসবে। বিশ্বকাপের সঙ্গে যুক্ত আসরে প্রতিটি দেশ ছয়টি হোম ও ছয়টি অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলবে। আর এশিয়ান কাপের সঙ্গে যুক্ত আসরে খেলতে হবে তিনটি হোম ও তিনটি অ্যাওয়ে ম্যাচ। এতে বাংলাদেশের দর্শকেরা নিয়মিত জাতীয় দলের ম্যাচ দেখার সুযোগ পাবে। সম্প্রচার ও স্পনসরশিপ থেকে আয় বাড়ার সম্ভাবনাও থাকবে।
ইমামুল
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- একসঙ্গে ৬৮ এসিল্যান্ডকে প্রত্যাহার করল সরকার, দেখুন তালিকা
- ৩৯ পদে ১০০ জনকে নিয়োগ দেবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
- ৪৩ পদে নিয়োগ দেবে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, আবেদন অনলাইনে
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৯ সেপ্টেম্বর)
- এইচএসসি পাসেই ৪৭ পদে চাকরি দেবে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়
- একাদশে দ্বিতীয় ধাপে আবেদনের সুযোগ, আবেদন করবেন যেভাবে
- মাসে ৩৫শ রিঙ্গিত বৃত্তিতে মালায়ায় পিএইচডির সুযোগ
- ওয়ালটনে টেরিটরি সেলস ম্যানেজার পদে নিয়োগ
- অক্টোবরে জ্বালানি তেলের নতুন দাম ঘোষণা মন্ত্রণালয়ের
- বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকে চাকরি, আবেদন ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত
- চার জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক নিয়োগ
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৩০ সেপ্টেম্বর)
- ১ অক্টোবর ফেনী সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
- আইএফআইসি ব্যাংকের অনুদান-বৃত্তি পেলেন ঢাবির ৮০ শিক্ষার্থী
- পে স্কেল বাস্তবায়নে মাউশির নতুন নির্দেশনা