ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩
বিএনপির সমমনা জোটে ভাঙন
নিজস্ব প্রতিবেদক: ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের শরিক জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটে ভাঙন দেখা দিয়েছে। জোট থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল-এম.এল. (অনিবন্ধিত)।
গত ২০ জুন রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নৈশভোজে জোটভুক্ত একটি দলের এক নেতার অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিতর্কের জেরে দলটি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটে ভাঙন নিশ্চিত হলো।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক কমরেড ডা. সৈয়দ নুরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জোট ছাড়ার সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলের সাধারণ সম্পাদক কমরেড ডা. সৈয়দ নুরুল ইসলাম জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। সম্প্রতি জোটের শরিক গণদল চট্টগ্রাম মহানগর বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের আহ্বায়ক মো. কামাল উদ্দিনকে দলটির অন্যতম প্রতিনিধি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর একটি অনুষ্ঠানে নিয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমমনা জোটের একটি কর্মসূচিতে গভীর উদ্বেগ ও আপত্তি জানায় বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (এম.এল.)।
দলটির ভাষ্য, একটি প্রগতিশীল রাজনৈতিক জোটের আদর্শ, নীতি ও রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এমন কোনো পদক্ষেপ বা কার্যক্রম জোটের গ্রহণযোগ্যতা ও রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড তাদের কাছে নীতিগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গত ৪ আগস্ট রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত একটি কর্মসূচিকে ঘিরে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের কিছু কর্মকাণ্ড নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। এই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (এম.এল.) জোটের কার্যক্রম, নীতিগত অবস্থান এবং সার্বিক রাজনৈতিক বাস্তবতা গভীরভাবে পর্যালোচনা করে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই দলটি জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটে না থাকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
দলটি জানিয়েছে, দেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং প্রগতিশীল রাজনীতির বিকাশে তারা অতীতের মতো ভবিষ্যতেও নীতিগত ও আদর্শিক অবস্থানে অবিচল থেকে জনগণের পক্ষে রাজনৈতিক সংগ্রাম চালিয়ে যাবে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের মুখপাত্র এস এম শাহাদাতের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এমন এক সময়ে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটে এ ভাঙন দেখা দিল, যখন যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর মূল্যায়ন ও ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে সরকার বিবেচনা করছে।
এর আগে সমমনা জোটের কর্মকাণ্ড নিয়ে মতপার্থক্যের জেরে বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার লুৎফর রহমানের নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) জোট ত্যাগ করে। পরে দলটির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন রিয়াজকে সভাপতি করে গঠিত জাগপার অপর অংশকে অন্তর্ভুক্ত করে জোটে দলের সংখ্যা ও ঐক্য বজায় রাখা হয়।
বর্তমানে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটে রয়েছে: গণদল, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি-মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা), ডেমোক্রেটিক লীগ (ডিএল), বাংলাদেশ ন্যাপ, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক পার্টি, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (অনিবন্ধিত), জাগপা (জাকির হোসেন রিয়াজ), ন্যাপ-ভাসানী এবং পিপলস লীগ।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স শেষপর্বের ফল প্রকাশ
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির সুযোগ, আবেদন ২০ আগস্ট পর্যন্ত
- ঢাবিতে ৩ শিক্ষক বরখাস্ত, ৪ জনের দায়িত্ব স্থগিত
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২ আগস্ট)
- জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে যেতে টিকিট কাটবেন যেভাবে
- চেয়ারম্যান-মেম্বার পদে শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে যা জানা গেল
- বিনামূল্যে এআই প্রশিক্ষণ, মিলবে দৈনিক ২০০ টাকা ভাতা
- দেশের বাজারে ফের বেড়েছে সোনার দাম
- ভাতা-উপবৃত্তির আবেদন শুরু, জেনে নিন পদ্ধতি
- ‘গুলশানের চামেলি’ তে যৌনকর্মীর দালাল অ্যাডলফ খান
- আজ শুক্রবার রাজধানীর যেসব মার্কেট-দোকানপাট বন্ধ
- কবে শুরু হচ্ছে ঢাবির ভর্তি আবেদন, জানাল কর্তৃপক্ষ
- ইপিএস প্রকাশ করেছে ঢাকা ব্যাংক
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৪ আগস্ট)
- নবম জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে সর্বশেষ যা জানা গেল