×

ঢাকা, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে মহাখালীতে জামায়াতের বিক্ষোভ

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২১ ২০:২৭:১৫

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে মহাখালীতে জামায়াতের বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক: জ্বালানি তেলের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজধানীর মহাখালীতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর উত্তর শাখা। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টায় মহাখালী কলেরা হাসপাতালের সামনে মহাখালী রেলগেট এলাকায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর আয়োজিত কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম। প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘এই সরকার ৬ মাসের মধ্যে তিনবার জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি করেছে। প্রথমবার আমাদের পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লম্বা লাইন ছিল। এই সংকট দীর্ঘদিন চলার পর বিরোধী দল যখন জাতীয় সংসদে এই সংকট নিয়ে কথা বলতে চেয়েছে, তার তিন দিনের মধ্যেই সকল সংকট শেষ হয়ে গেছে। পাম্পগুলোতে তখন সংকট শেষ। এর মাধ্যমেই বুঝা গেল, একদল লোককে সরকারের সুবিধা দেওয়ার জন্য এই কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘এই জ্বালানি সংকটের কারণে দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধি, কৃষিখাতে মহাদুর্যোগ, গার্মেন্টসসহ সকল কলকারখানা বন্ধের দিকে।’

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সহযোগিতার প্রস্তাব দেওয়া হলেও সরকার তাতে সাড়া দেয়নি বলে দাবি করেন এডভোকেট জুবায়ের। তাঁর ভাষায়, ‘এই অবস্থায় বিরোধী দলের পক্ষ থেকে গত সংসদেও বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন, আমাদের এই বিশেষজ্ঞ কমিটি আপনাদেরকে জ্বালানি সংকট নিরসনে পূর্ণ সহযোগিতা করবে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া দেওয়া হয়নি।’

জ্বালানির দামের সাম্প্রতিক বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘গভীর রাতে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আকারে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি গতকাল রাতে হয়েছে।’

এডভোকেট জুবায়ের অভিযোগ করেন, ‘সরকারের কোনো সহযোগিতা নেওয়ার ইচ্ছে নেই। কারণ গত দীর্ঘ ১৭ বছর ক্ষমতায় ছিলেন না, তাই নেতাকর্মীদের পকেট ভারী করার জন্য এই ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।’

সভাপতির বক্তব্যে ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম সরকারের সমালোচনা করে বলেন, ‘৬ মাসের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, গোটা দেশব্যাপী দুর্নীতি, লুণ্ঠন ও অরাজকতার মাধ্যমে আমরা দেখতে পারছি বিএনপি সরকার অধিষ্ঠিত নয়, মনে হচ্ছে বিগত ফ্যাসিবাদী স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগের একটি এক্সটিম সরকার।’

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গত ৬ মাসে শিশু আছিয়া, রামিসা ও অপ্রতিম খুন হওয়ার মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর পদে থাকার নৈতিক সেই অধিকার হারিয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দাবি পরিষ্কার। খুনি হাসিনাসহ তাঁর সঙ্গীদের দেশে ফেরত এনে ডিসেম্বরের মধ্যে বিচারের রায় কার্যকর করতে হবে।’

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়ে ড. রেজাউল করিম বলেন, ‘অবিলম্বে তেল, গ্যাস, সারসহ দ্রব্যমূল্যের যে অবস্থা, তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। নয়তো সরকারকে গদি ছাড়তে হবে। কেননা জনগণের স্লোগান-“তেল দে, গ্যাস দে, নয়তো গদি ছেড়ে দে”।’

কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিকের উপস্থাপনায় কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি নাজিম উদ্দীন মোল্লা ও ইয়াসিন আরাফাত।

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য আতাউর রহমান সরকার, জামাল উদ্দিন, মুহিবুল্লাহ ও নাসির উদ্দীনসহ অনেকে।

বিক্ষোভ মিছিল থেকে বক্তারা জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের দাবি জানান।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত