×

ঢাকা, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩

স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ প্রায় দ্বিগুণ করেছে সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী

২০২৬ নভেম্বর ০৬ ২১:৩৮:২৮

স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ প্রায় দ্বিগুণ করেছে সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: স্বাস্থ্য খাতকে বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার উল্লেখ করে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, সরকার এ খাতে বরাদ্দ বাড়িয়েছে। চলতি অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে ৬৯ হাজার ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা গত অর্থবছরের সংশোধিত বরাদ্দের প্রায় দ্বিগুণ। দীর্ঘদিন পর এবার স্বাস্থ্য খাতে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) এক শতাংশের বেশি বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

শুক্রবার সিলেট নগরের উইন্ডসর হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ করে বিনিয়োগের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন, যাতে মানুষ অসুস্থ হওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।

সিলেটের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, গত ১৮ থেকে ২০ বছরে সিলেটে প্রত্যাশিত উন্নয়ন হয়নি। বর্তমান সরকার এ অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে সিলেটে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রকল্পের পরামর্শক নিয়োগের দরপত্র প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আগামী জানুয়ারির মধ্যে পরামর্শক নিয়োগের কাজ শেষ হতে পারে। এরপর প্রকল্প বাস্তবায়নের কার্যক্রম শুরু হবে।

তিনি জানান, প্রস্তাবিত মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ১ হাজার ২০০ শয্যার একটি জেনারেল হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হবে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ২৫০ শয্যার একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপনের অনুমোদনও পাওয়া গেছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, সিলেটে ২০০ শয্যার একটি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে। দেশের কয়েকটি বিভাগীয় শহরে এ ধরনের প্রকল্প ইতিমধ্যে হাতে নেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে সিলেটেও এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

এ ছাড়া সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অসম্পূর্ণ ক্যান্সার হাসপাতালের কাজ দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা প্রায় ৪০০ থেকে ৪৫০টি বাড়বে। পাশাপাশি সিলেট ডায়াবেটিক হাসপাতাল ও কিডনি হাসপাতালের মতো বেসরকারি উদ্যোগে পরিচালিত সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সরকারি বরাদ্দ বাড়ানোর বিষয়েও কাজ চলছে।

সিলেটকে আন্তর্জাতিক মানের ডেন্টাল চিকিৎসার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যাশা জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সাশ্রয়ী ব্যয়ে মানসম্মত ও আস্থাশীল চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা গেলে এর চাহিদা শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক পরিসরেও তৈরি হবে।

তিনি বলেন, তুরস্কে হেয়ার ট্রান্সপ্লান্টের জন্য বিভিন্ন দেশ থেকে মানুষ যান। একইভাবে সিলেটেও উন্নতমানের ডেন্টাল চিকিৎসাসেবা গড়ে তোলা সম্ভব। বিশেষ করে উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীরা যাতে দেশে এসে দাঁতের চিকিৎসা নিতে পারেন, সে লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের প্রত্যাশা রয়েছে।

অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিংয়ে চীন-বাংলাদেশ করিডোর নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের সরাসরি উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে উঠলে দুই দেশের পাশাপাশি মিয়ানমারের সঙ্গেও ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

তিনি বলেন, যোগাযোগব্যবস্থা এমন পর্যায়ে উন্নীত করা সম্ভব হলে চট্টগ্রাম থেকে মাত্র ২৪ ঘণ্টায় একটি ট্রাক চীনের ভূখণ্ডে পৌঁছাতে পারবে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিসর বাড়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।

নতুন মজুরি কাঠামো নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, শ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণের জন্য একটি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। দ্রুত দায়িত্ব সম্পন্ন করার জন্য বোর্ডকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে আগামী জানুয়ারি থেকে নতুন নির্ধারিত হারে মজুরি দেওয়া শুরু করা যায়।

তিনি আরও বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও রপ্তানি কার্যক্রমের জন্য স্থিতিশীল পরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিনিয়োগ ও বাণিজ্য কখনো অনিশ্চিত পরিবেশ পছন্দ করে না। দেশের স্বার্থে স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। কেউ অসৎ উদ্দেশ্যে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি খতিয়ে দেখবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আল আমিন অ্যাসোসিয়েটসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিলেট সেন্ট্রাল ডেন্টাল মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. পরিমল চন্দ্র মল্লিক, সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরী, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদ এবং মহাসচিব অধ্যাপক ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল।

এ সময় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, ডেন্টাল কলেজের শিক্ষক, সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

জাতীয় এর অন্যান্য সংবাদ