×

ঢাকা, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩

নেপালে বাংলাদেশ দূতাবাসে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন

২০২৬ নভেম্বর ০৭ ১৮:২৮:০১

নেপালে বাংলাদেশ দূতাবাসে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন

নিজস্ব প্রতিবেদক: যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন করেছে নেপালের বাংলাদেশ দূতাবাস। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহ এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে দিবসটির তাৎপর্য স্মরণে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

শনিবার (৭ নভেম্বর) দূতাবাস প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানের শুরুতে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশির উপস্থিতিতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।

পরে দূতাবাসের অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত আয়োজনে বাংলাদেশ ও নেপালের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। ছিল আলোচনা পর্ব এবং শহীদদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনার পাশাপাশি দেশের অব্যাহত শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাত।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়। এ ছাড়া ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক পটভূমি ও তাৎপর্য তুলে ধরে দুটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

আলোচনা পর্বে বক্তারা ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক তাৎপর্য, জাতি গঠনে এর অবদান এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে দিবসটির গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁরা বহুদলীয় গণতন্ত্র, বাক্‌স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকা স্মরণ করেন। একই সঙ্গে জাতীয় ঐক্য, সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা সুরক্ষায় জনগণের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষা ধারণ ও সংরক্ষণে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা তুলে ধরেন।

সমাপনী বক্তব্যে নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শফিকুর রহমান বাংলাদেশের জাতীয় জীবনে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের গুরুত্ব ও প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরেন। তিনি দিনটিকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করেন। রাষ্ট্রদূত বলেন, ওই দিন সৈনিক ও সাধারণ জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন। পরে গভীর সংকট থেকে দেশকে উত্তরণের দায়িত্ব তাঁর ওপর অর্পিত হয়।

রাষ্ট্রদূত বলেন, জাতীয় নেতা হিসেবে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আবির্ভাব দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও সুরক্ষা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে উৎপাদনমুখী রাজনীতির পথিকৃৎ হিসেবে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকা ও সুদূরপ্রসারী অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রচারসর্বস্ব রাজনীতির পরিবর্তে উৎপাদনমুখী রাজনীতির প্রবর্তন, জাতীয় নীতিনির্ধারণে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের অন্তর্ভুক্তি এবং বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও বিষয়াবলি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরার মাধ্যমে তিনি ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির ভিত্তি স্থাপন করেন।

জাতীয় ঐক্য, সংহতি ও দেশপ্রেমের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জাতীয় প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা, অবকাঠামো নির্মাণ, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সামগ্রিক জাতীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে সরকারের প্রচেষ্টায় সহযোগিতা করার আহ্বান জানান রাষ্ট্রদূত।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত নেপালের সাবেক রাষ্ট্রদূত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, নেপালের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সার্কসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং নেপালে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিসহ প্রায় ১০০ জন অতিথি উপস্থিত ছিলেন।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

জাতীয় এর অন্যান্য সংবাদ