×

ঢাকা, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পেছনে ছিল ৭ নভেম্বরের চেতনা: রিজভী

২০২৬ নভেম্বর ০৭ ১৩:৩১:০৮

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পেছনে ছিল ৭ নভেম্বরের চেতনা: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক: সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পেছনে ৭ নভেম্বরের চেতনা কাজ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার প্রত্যয় থেকেই জুলাইয়ে আন্দোলনে নেমেছিল দেশের মানুষ।

শনিবার (৭ নভেম্বর) জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সকালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী কাজ করে যাচ্ছেন। ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন ও বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে তৎকালীন সরকার জনগণের অধিকার কেড়ে নেয় এবং দেশকে ভয়াবহ ফ্যাসিবাদের দিকে ঠেলে দেয়। গুম, খুন ও গুপ্তহত্যার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা হয়। মানুষ ভয়ে কথা বলতে পারত না, এমনকি রাস্তায় চলাচল করতেও ভয় পেত। এমন পরিস্থিতিতে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতা ও শ্রমিকেরা রাজপথে নেমে আসেন। গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য করা হয়।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ৭ নভেম্বরের চেতনার মূল ভিত্তি হলো স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। এই চেতনাকে ধারণ করেই দেশের মানুষ গণতন্ত্রবিরোধী শক্তিকে পরাজিত করেছে।

তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। তাঁর বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দেশ উন্নয়ন ও উৎপাদনে এগিয়ে যায়। খাল খনন, স্বনির্ভর কর্মসূচি, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন এবং স্বাক্ষরতা অভিযানের মাধ্যমে জাতি নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ পায়। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান তৈরি হয়।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশ কোনো আধিপত্যবাদের প্রভাবের মধ্যে পড়বে না। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার নিয়েই ৭ নভেম্বরের বিপ্লব এবং পরবর্তী সময়ে দেশের মানুষ গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা রক্ষার প্রত্যয় খুঁজে পেয়েছিল।

তিনি বলেন, ৩ নভেম্বর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও তাঁর পরিবারকে ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের বাসায় গ্রেপ্তার করে রাখা হয়। পরবর্তী সময়ে তিনি মুক্তি লাভ করেন। এর মধ্য দিয়ে জাতি আবার নতুন করে পথের দিশা পায়।

রিজভী আরও বলেন, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীরা থেমে থাকেনি। চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে দেশের একজন মহান জাতীয়তাবাদী দেশপ্রেমিক রাষ্ট্রনায়ককে হত্যা করা হয়। তবে ৭ নভেম্বরের মুক্তি, গণতন্ত্র, স্বাধীনতা রক্ষা এবং সার্বভৌমত্ব শক্তিশালী করার চেতনায় জাতি বারবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী ও গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে স্বৈরশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বিরুদ্ধে টানা নয় বছরের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ১৯৯০ সালে দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসে।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ৭ নভেম্বরের চেতনা পরবর্তী সময়ে ছাত্র-জনতাকে আন্দোলনে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। ২০০৯ সালে পুরোনো বাকশালের নতুন প্রেতাত্মার আবির্ভাব ঘটে। পরাজিত শক্তি ক্ষমতায় এসে জনগণের অধিকার কেড়ে নেয় এবং দেশকে ফ্যাসিবাদের দিকে ঠেলে দেয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিভিন্ন কর্মসূচি প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ক্ষমতায় আসার আগে জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তিনি কাজ করছেন। প্রধানমন্ত্রী কোনো মিথ্যা আশ্বাস বা প্রতিশ্রুতি দেননি। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে হতদরিদ্র মানুষকে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দুই-তিন দিন পর থেকেই এসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেন।

তিনি আরও বলেন, ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে এক হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হয়েছে। পাশাপাশি সারা দেশে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চলছে। বিএনপির পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনও সামাজিক বনায়ন কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছে।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে রিজভী বলেন, কোথাও কোথাও গলির ভেতর থেকে ককটেল ও বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ডে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে নির্দেশনা আসছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, জনগণ এসব অপচেষ্টা যথাযথভাবে প্রতিহত করবে এবং সরকার এ বিষয়ে প্রস্তুত রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টায় থাকা ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ডও জনগণ পর্যবেক্ষণ করছে। এসব বিষয় জনগণ কখনো ক্ষমা করবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রিজভী বলেন, বিএনপি ও জাতীয়তাবাদী শক্তি ৭ নভেম্বরের বিপ্লব ও সংহতি দিবসের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সব অগণতান্ত্রিক ও দেশবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে প্রস্তুত রয়েছে। দেশের মানুষের নাগরিক স্বাধীনতা এবং উন্নয়ন ও উৎপাদনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বিএনপি সমর্থক ও সহযোগী হিসেবে কাজ করবে।

এ সময় বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এবং বিএনপির প্রচার সম্পাদক ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আব্দুস সালামও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

জাতীয় এর অন্যান্য সংবাদ