×

ঢাকা, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

দুর্নীতি ও বৈষম্য দূর করে ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

২০২৬ নভেম্বর ০৬ ২১:০৪:১৯

দুর্নীতি ও বৈষম্য দূর করে ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

নিজস্ব প্রতিবেদক: একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং ৭ নভেম্বরের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দলমত-নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দুর্নীতি, বৈষম্য ও সব ষড়যন্ত্রের অবসান ঘটাতে হবে।

আগামীকাল ৭ নভেম্বর ‘মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান।

বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, ৭ নভেম্বরের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে দেশ ও জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ দর্শনের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালিত হবে। জাতীয় স্বার্থ, সাম্য, ন্যায্যতা ও গণতন্ত্রচর্চা পাবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

‘মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে দেশের সব নাগরিককে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান রাষ্ট্রপতি। একই সঙ্গে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার যুগান্তকারী বিপ্লবে অংশগ্রহণকারী সব বীর সেনানী ও দেশপ্রেমিক জনতার প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় জীবনে এক অবিস্মরণীয় দিন এবং দেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ। তাঁবেদারি অপশাসন, দুর্নীতি, নৈরাজ্য ও আধিপত্যবাদী ষড়যন্ত্রের কঠিন সময়ে ঐক্যবদ্ধ সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দেশ তার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ফিরে পায়। নস্যাৎ হয় সব ষড়যন্ত্র। স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন। জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থনে তাঁর ওপর রাষ্ট্র পরিচালনা ও জাতীয় সংকট উত্তরণের গুরুদায়িত্ব অর্পিত হয়। জাতির সেই ক্রান্তিকালে তাঁর ভূমিকা ছিল ত্রাতার।

সিপাহি ও জনতার এই সংহতি স্বাধীনতার চেতনায় উজ্জীবিত এক অভূতপূর্ব জাগরণ ছিল উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনী সব সময় সংহতি ও ঐক্যের পরিচয় দিয়েছে। একই চেতনার পুনর্জাগরণ ঘটে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে। সে সময় ছাত্র-ছাত্রী, নারী-পুরুষ ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যসহ সর্বস্তরের মানুষের সুদৃঢ় ঐক্যে দীর্ঘ ষোলো বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে। তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার বিপর্যয় থেকেও আবার রক্ষা পায় প্রিয় স্বদেশ।

জাতীয় জীবনে এই বিপ্লব ও সংহতির গুরুত্ব অপরিসীম উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এর ধারাবাহিকতায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র, আইনের শাসন, বাক্‌ ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। পাশাপাশি অর্থনৈতিক মুক্তি ও সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি দেশকে নতজানু পররাষ্ট্রনীতি থেকে মুক্ত করে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে উন্নয়ন, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেন। জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার পাশাপাশি সর্বস্তরে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করেন।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে বারবার ষড়যন্ত্র হয়েছে, গণতন্ত্র ভূলুণ্ঠিত হয়েছে এবং ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন চেপে বসেছে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি নির্বাচিত সরকারের নেতৃত্বে দেশ আবার গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে। এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসহ রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানকে আরও শক্তিশালী করা অপরিহার্য।

ইমামুল

ট্যাগ: জিয়াউর রহমান সুশাসন জাতীয় ঐক্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংবাদপত্রের স্বাধীনতা বাংলাদেশের রাজনীতি ফ্যাসিবাদী শাসন স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব আইনের শাসন ৭ নভেম্বর বহুদলীয় গণতন্ত্র নিরাপদ বাংলাদেশ মানবিক বাংলাদেশ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ সবার আগে বাংলাদেশ বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সিপাহি-জনতার বিপ্লব বাক্‌স্বাধীনতা ৭ নভেম্বর ২০২৬ জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ২০২৬ ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস রাষ্ট্রপতির বাণী ৭ নভেম্বরের চেতনা ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ দুর্নীতি ও বৈষম্য ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত