×

ঢাকা, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩

৭ নভেম্বরের চেতনায় বারবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

২০২৬ নভেম্বর ০৭ ১২:১৮:২৫

৭ নভেম্বরের চেতনায় বারবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র যখনই হুমকির মুখে পড়েছে, তখনই ৭ নভেম্বরের ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের চেতনা ধারণ করে ঘুরে দাঁড়িয়েছে দেশ। এমন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (৭ নভেম্বর) জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বনানীর আর্মি স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর উপলক্ষে তরুণ প্রজন্ম ইতিহাসভিত্তিক যে মনোমুগ্ধকর ডিসপ্লে উপস্থাপন করেছে, তার জন্য শুরুতেই তাদের আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি। ঐতিহাসিক এই দিনে সবাইকে নজরুলবর্ষের শুভেচ্ছা জানাই। দেশপ্রেমিক, স্বাধীনতাপ্রিয় ও গণতন্ত্রকামী মানুষের কাছে ৭ নভেম্বর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও গৌরবের দিন।

তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের এই দিনে দেশপ্রেমিক সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করেছিল। দেশের ইতিহাসে ৭ নভেম্বর ছিল শত্রু-মিত্র চিহ্নিত করার দিন। ওই বছরের নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত চরম আকার ধারণ করে। এর ধারাবাহিকতায় ২ নভেম্বর মধ্যরাতে তৎকালীন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমানকে সপরিবারে গৃহবন্দি করা হয়। স্বাধীনতার ঘোষককে বন্দি রেখে দেশের স্বার্থবিরোধী যে চক্রান্ত শুরু হয়েছিল, সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে তা রুখে দিয়েছিল। এ কারণে দেশপ্রেমিক, জাতীয়তাবাদী ও গণতন্ত্রকামী মানুষের কাছে ৭ নভেম্বর জাতীয় ঐক্যের চেতনার বাতিঘর।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা বাংলাদেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিল, জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়ে একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েমের চেষ্টা করেছিল এবং সশস্ত্র বাহিনীর গৌরব ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন করতে চেয়েছিল, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর দেশপ্রেমিক সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে তাদের পরাজয় হয়েছিল। ওই বিপ্লবে অপশক্তির পরাভব ঘটে।

তিনি আরও বলেন, ৭ নভেম্বর পরাজিত শক্তির ষড়যন্ত্র পরবর্তী সময়েও থেমে থাকেনি। ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতায় তারা মহাজোটের নামে একত্র হয়ে দেশকে আবারও তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। বিডিআর পিলখানায় পরিকল্পিত সেনা হত্যাযজ্ঞের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর গৌরব ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা হয়েছিল। জনগণের সব গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নিয়ে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠা করা হয়। হাজারো শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বীর ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ২০২৪ সালে ৭ নভেম্বরের সেই পরাজিত অপশক্তির আবারও পরাজয় ঘটে।

তারেক রহমান বলেন, দেশ এখন ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে। ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলনে যারা হতাহত হয়েছেন এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে যারা শহীদ ও আহত হয়েছেন, তাদের অবদানও আজকের দিনে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের লড়াই, আর ২০২৪ সালের আন্দোলন ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার সংগ্রাম এমন মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট যেভাবে সর্বস্তরের মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরও একইভাবে সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে নেমে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী ষড়যন্ত্র প্রতিহত করেছিল।

তিনি আরও বলেন, সময়ের পরিক্রমায় প্রমাণিত হয়েছে, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পথরেখা নির্ধারণে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। তাঁর মতে, যখনই বাংলাদেশ ৭ নভেম্বরের আদর্শিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে, তখনই দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়েছে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

জাতীয় এর অন্যান্য সংবাদ