×

ঢাকা, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩

প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে বাংলাদেশকে ৩০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

২০২৬ নভেম্বর ০৭ ১৪:৫০:৪৫

প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে বাংলাদেশকে ৩০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের প্রাথমিক ও প্রাক্‌-প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে ৩০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তার অনুমোদন দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

শনিবার (৭ নভেম্বর) প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক পর্ষদ ‘লার্নিং এনহ্যান্সমেন্ট অ্যান্ড অ্যাক্সিলারেশন ইন প্রাইমারি এডুকেশন’ কর্মসূচির আওতায় এ অর্থায়নের অনুমোদন দিয়েছে।

শিক্ষার্থীরা যাতে শ্রেণি উপযোগী পড়াশোনা করতে পারে এবং গণিতে শক্ত ভিত্তি গড়ে তুলতে পারে, সেটিই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। একই সঙ্গে সরকারের পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নেও এ অর্থায়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষায় প্রায় সর্বজনীন প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হলেও শিক্ষার গুণগত মান নিয়ে এখনো ঘাটতি রয়েছে। দেশের ১০ বছর বয়সী শিশুদের প্রায় অর্ধেকই বয়স উপযোগী সাধারণ লেখা পড়ে তা বুঝতে পারে না। এ ক্ষেত্রে মালয়েশিয়ায় এ হার ৪২ শতাংশ এবং ব্রাজিলে ৪৭ শতাংশ।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানবিষয়ক ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যঁ পেসম বলেন, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম কর্মশক্তি গড়ে তুলতে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। গত দুই দশকে বাংলাদেশের প্রায় সব শিশুকে বিদ্যালয়ের আওতায় আনতে সহায়তা করেছে বিশ্বব্যাংক গ্রুপ। নতুন অর্থায়নের ফলে শিক্ষার্থীদের শেখার অগ্রগতি এবং বিদ্যালয়ে তাদের ধরে রাখার সুযোগ বাড়বে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে কর্মসংস্থানের পথও তৈরি হবে।

বিশ্বব্যাংকের মতে, বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শিক্ষাব্যবস্থাগুলোর একটি। দেশের সরকারি বিদ্যালয়, এনজিও পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কিন্ডারগার্টেন ও মাদ্রাসায় দুই কোটির বেশি শিশু পড়াশোনা করছে।

নতুন কর্মসূচিতে শিশুদের পড়া ও গণিতের ভিত্তি মজবুত করতে পাঠসহায়ক উপকরণ, সুসংগঠিত পাঠ্যক্রম এবং শিক্ষকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের সমন্বিত ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি দেশের ৯০ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের দক্ষতা ও নেতৃত্বের সক্ষমতা বাড়াতে নেতৃত্বমূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা পর্ষদকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনাও রয়েছে এ কর্মসূচিতে।

বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র এডুকেশন স্পেশালিস্ট ও কর্মসূচির টিম লিডার তাশমিনা রহমান বলেন, ভবিষ্যতে ভালো কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে মৌলিক শিক্ষার ভিত্তি শক্ত হওয়া জরুরি। পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ পাঠদান বা রেমিডিয়াল লার্নিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হবে। বিশেষ করে পিছিয়ে পড়া জেলাগুলোতে এ কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, বিদ্যালয় পর্যায়ে নেতৃত্বের বিকাশ, বাজেট ব্যবহারে জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে তথ্যের কার্যকর প্রয়োগেও এ কর্মসূচি সহায়তা করবে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

জাতীয় এর অন্যান্য সংবাদ