ঢাকা, বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩
৭ হাজার মুক্তায় ঝলমলে ঐশ্বরিয়ার অদেখা কান লুক
বিনোদন ডেস্ক: কান চলচ্চিত্র উৎসবে ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনের উপস্থিতি বরাবরই ফ্যাশনপ্রেমীদের অন্যতম আকর্ষণ। বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই চলচ্চিত্র উৎসবের লাল গালিচায় বছরের পর বছর নিজের ব্যতিক্রমী স্টাইলের মাধ্যমে দর্শক ও ফ্যাশন সমালোচকদের নজর কাড়ছেন তিনি। ২০২৬ সালেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
এবারের কানে নীল ঝলমলে মারমেড গাউন এবং নাটকীয় সাদা ট্যাক্সিডো লুকের পর উৎসব শেষ হওয়ার পর আন্তর্জাতিক ফ্যাশন হাউস টনি ওয়ার্ড কতুর প্রকাশ করেছে ঐশ্বরিয়ার আরেকটি অদেখা লুক। প্রকাশের পর থেকেই সেটি ফ্যাশনপ্রেমীদের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
প্রকাশিত ছবিতে ঐশ্বরিয়াকে দেখা গেছে আইভরি-সাদা রঙের একটি স্ট্র্যাপলেস গাউনে। রাজকীয়তা, আধুনিকতা ও শিল্পসম্মত নকশার সমন্বয়ে তৈরি পোশাকটির পুরো বডিসজুড়ে বসানো হয়েছিল সাত হাজারেরও বেশি মুক্তা। আলো পড়ার সঙ্গে সঙ্গে মুক্তাগুলো ঝলমলে ঢেউয়ের মতো প্রতিফলন তৈরি করেছে।
গাউনটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল হাতে তৈরি মুক্তার সূক্ষ্ম কারুকাজ। প্রতিটি মুক্তা এমনভাবে বসানো হয়েছে, যাতে সমুদ্রের ঢেউয়ের ধারাবাহিক গতিময়তা ফুটে ওঠে। ত্রিমাত্রিক এই নকশা পোশাকটিকে দিয়েছে ভাস্কর্যের মতো সৌন্দর্য। অতিরিক্ত অলংকরণের পরিবর্তে সূক্ষ্ম শিল্পকর্মকে প্রাধান্য দেওয়ায় এটি ‘কোয়ায়েট লাক্সারি’র একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পোশাকটির নাটকীয় আবহ আরও বাড়িয়েছে বিশাল আইভরি সিল্ক ট্যাফেটা ড্রেপিং। প্রায় ৪০ মিটার সিল্ক ব্যবহার করে কাঁধজুড়ে তৈরি করা হয়েছে ভলিউমিনাস রাফল, যা দূর থেকে ফুলের পাপড়ির মতো দেখায়। এই ভাস্কর্যধর্মী নকশাই পুরো লুকে হাই-ফ্যাশনের অনন্য মাত্রা যোগ করেছে। একই সঙ্গে এটি লেবাননের খ্যাতিমান ডিজাইনার টনি ওয়ার্ডের কারিগরি দক্ষতারও উজ্জ্বল নিদর্শন।
জানা গেছে, গাউনটি তৈরি করতে সময় লেগেছে প্রায় ৬০০ ঘণ্টা। প্রতিটি ভাঁজ, মুক্তা ও সেলাইয়ে ফুটে উঠেছে হাউট কতুরের সূক্ষ্ম নান্দনিকতা এবং নিখুঁত কারুশিল্প।
এত সমৃদ্ধ পোশাকের সঙ্গে ঐশ্বরিয়া বেছে নিয়েছেন সংযত স্টাইলিং। ভারী অলংকারের পরিবর্তে তিনি পরেছিলেন মিনিমাল ডায়মন্ড জুয়েলারি—লম্বা হিরার ঝুমকা ও একটি স্টেটমেন্ট ডায়মন্ড রিং। ফলে গাউনের সৌন্দর্যই লুকের মূল আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।
মেকআপেও ছিল পরিমিতির ছাপ। উজ্জ্বল ত্বক, হালকা শিমারি আইশ্যাডো, নিখুঁত আইলাইনার, ঘন পাপড়ি এবং নরম নিউড-গোলাপি ঠোঁটের সমন্বয়ে তৈরি করা হয়েছিল সফট গ্ল্যাম লুক। অতিরিক্ত কনট্যুর বা গাঢ় রঙের ব্যবহার এড়িয়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
চুলে ছিল ঐশ্বরিয়ার পরিচিত সিগনেচার স্টাইল। সাইড পার্ট করা সফট ওয়েভি হেয়ারস্টাইল পুরো লুকে ক্লাসিক হলিউড গ্ল্যামারের আবহ এনে দিয়েছে।
বর্তমান ফ্যাশন জগতে যেখানে মিনিমালিজম ও স্টেটমেন্ট কতুর সমান জনপ্রিয়, সেখানে ঐশ্বরিয়ার এই লুক দুই ধারারই সফল সমন্বয় হিসেবে প্রশংসা কুড়িয়েছে। গাউনের বিশাল ভলিউম, মুক্তার সূক্ষ্ম কারুকাজ এবং সংযত স্টাইলিং আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে—বিলাসিতা মানেই অতিরিক্ত জাঁকজমক নয়; বরং নিখুঁত কারিগরি দক্ষতা ও পরিশীলিত উপস্থাপনাই প্রকৃত সৌন্দর্যের পরিচয়।
কান চলচ্চিত্র উৎসবের ইতিহাসে ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনের নাম দীর্ঘদিন ধরেই স্টাইল আইকন হিসেবে উচ্চারিত হয়ে আসছে। ২০২৬ সালের এই অদেখা কতুর লুক সেই মর্যাদাকে আরও দৃঢ় করেছে। রেড কার্পেটের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেও তার ফ্যাশন-আবেদনের জাদু যে এখনও সমানভাবে আলোচিত হতে পারে, সেটিই যেন আবারও প্রমাণ করেছে এই বিশেষ উপস্থিতি।
ইমামুল
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- পর্নো তারকা থেকে কলম্বিয়ার সিনেটর দেইসি
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির সুযোগ, আবেদন ২০ আগস্ট পর্যন্ত
- ঢাবিতে ৩ শিক্ষক বরখাস্ত, ৪ জনের দায়িত্ব স্থগিত
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২ আগস্ট)
- চেয়ারম্যান-মেম্বার পদে শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে যা জানা গেল
- বিনামূল্যে এআই প্রশিক্ষণ, মিলবে দৈনিক ২০০ টাকা ভাতা
- ঢাবির সূর্যসেন হলে সমকামিতার অভিযোগে দুইজন আটক
- দেশের বাজারে ফের বেড়েছে সোনার দাম
- ‘গুলশানের চামেলি’ তে যৌনকর্মীর দালাল অ্যাডলফ খান
- আজ শুক্রবার রাজধানীর যেসব মার্কেট-দোকানপাট বন্ধ
- ভাতা-উপবৃত্তির আবেদন শুরু, জেনে নিন পদ্ধতি
- নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন চূড়ান্ত পর্যায়ে, যা জানালেন অর্থমন্ত্রী
- কবে শুরু হচ্ছে ঢাবির ভর্তি আবেদন, জানাল কর্তৃপক্ষ
- যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও ২৩ বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠানো হলো
- গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিবকে অবসরে পাঠাল সরকার