ঢাকা, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
ইসির কাছে ৯ দফা দাবি জামায়াতের
নিজস্ব প্রতিবেদক: নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সামসুল আলমের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য ঘোষণার প্রস্তাব পুনর্বিবেচনাসহ ৯ দফা দাবি নির্বাচন কমিশনের কাছে তুলে ধরেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
দলটির অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলের পদধারী নেতাদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য ঘোষণা এবং বর্তমানে বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা রাজনৈতিক ব্যক্তিদেরও নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করা।
বুধবার জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করে এসব দাবি জানায়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে তিনি দাবিগুলোর বিস্তারিত তুলে ধরেন এবং নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, বৈঠকে মূলত চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক ব্যক্তি সামসুল আলমকে ইসির অতিরিক্ত সচিব পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ইসি একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। এখানে রাজনৈতিক ব্যক্তির নিয়োগ যেকোনো নির্বাচনকে নিরপেক্ষ করার ক্ষেত্রে অন্তরায়। সামসুল আলম বিএনপির নির্বাচনী আসন পুনর্নির্ধারণ কমিটির সদস্য ছিলেন। তাঁর নিয়োগ বাতিল করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে। এই প্রেক্ষাপটে ক্ষমতাসীন দলের একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী জায়গায় রাজনৈতিক দায়িত্ব পালন করা ব্যক্তিকে ইসির মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত সচিব পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কারণ, তিনি যাতে সরকারি দলের লোকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিজয়ী করে আনতে পারেন।’
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, নির্বাচন কমিশন তাঁদের জানিয়েছে, সামসুল আলমের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি তারা জানত না এবং চুক্তিভিত্তিক নিয়োগটি সরকার দিয়েছে। এর জবাবে জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়, এ ধরনের নিয়োগের বিষয়ে কমিশনের আপত্তি জানানো উচিত ছিল। তাঁর ভাষ্য, এ ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের অসহায়ত্ব, অক্ষমতা ও অপরগতার বিষয়টি ফুটে উঠেছে।
সম্প্রতি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণে অযোগ্য করার একটি প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন। এ বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দীর্ঘ ইতিহাসে স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা অংশ নিয়ে আসছেন। জাতীয় নির্বাচনে তাঁদের ক্ষেত্রে এমন কোনো বিধিনিষেধ নেই। একটি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন, অন্যটিতে পারবেন না—এটি বৈষম্যমূলক এবং সংবিধানে স্বীকৃত নাগরিক অধিকারের পরিপন্থী। তিনি জানান, কমিশন বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলের পদধারী নেতাদের প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ঘোষণার দাবিও পুনর্ব্যক্ত করে জামায়াত। এ বিষয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘ব্যক্তির নির্বাচন করাটাও একটি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড। তাই নিষিদ্ধ দলের পদ-পদবিধারী ব্যক্তিদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণও নিষিদ্ধ করতে হবে।’
একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে প্রশাসকের দায়িত্ব পালনকারীদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সরকারের পদে থেকে কয়েক মাস দায়িত্ব পালন করে নির্বাচনে অংশ নেওয়া হলে নির্বাচন নিরপেক্ষ থাকবে না। দলীয়করণের উদ্দেশ্যেই তাঁদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এতে পক্ষপাতিত্বের আশঙ্কা থাকবে এবং নির্বাচন স্বচ্ছ হবে না।’
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন মন্ত্রীর বক্তব্য এবং সর্বোচ্চ আদালতের রায় ঘোষণার দিনই চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের গেজেট প্রকাশের সমালোচনাও করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। তাঁর দাবি, স্বাক্ষরিত আদেশ হাতে পাওয়ার আগেই গেজেট প্রকাশ করে শপথের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা রাজনৈতিক চাপের ইঙ্গিত বহন করে।
তিনি বলেন, ‘তাঁরা (ইসি) হয়তো সরাসরি তা স্বীকার করবেন না। তবে তাঁদের বডি ল্যাঙ্গুয়েজে বোঝা যায়, চাপের মুখেই এ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন।’
মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন, সাংবিধানিক ও ক্ষমতাধর প্রতিষ্ঠান। দেশে নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জন্য তাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। তবে কমিশন নিজেই বিনয়ের সঙ্গে স্বীকার করেছে যে, তারা সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারছে না।
বৈঠকে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জসিম উদ্দীন সরকার এবং শিশির মোহাম্মদ মনির উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের পক্ষে বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ছাড়াও নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ, তাহমিদা আহমদ এবং নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
ইমামুল
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বিআইডব্লিউটিসির নতুন চেয়ারম্যান এ টি এম আবদুল বারী ড্যানী
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির প্রো-ভিসি হলেন অধ্যাপক ড. সালমা বেগম
- ইউজিসির তিন সদস্যকে অব্যাহতি দিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়
- শেয়ারবাজারে আস্থা ফেরাতে ১১ দফা দাবি বিনিয়োগকারীদের
- অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের ৫০ হাজার টাকা অনুদান, আবেদন যেভাবে
- বিআইডব্লিউটিসি'র চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদান করলেন এ টি এম আবদুল বারী ড্যানী
- বাজারের ৩৪ টুথপেস্টের ২৬টিতে মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক
- ঢাবির লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে ২৪ শিক্ষার্থী পেলেন ডিরেক্টরস অ্যাওয়ার্ড
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৫ জুলাই)
- ঢাবির সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৪ জুলাই)
- শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা জানালেন নবনিযুক্ত ১২ কর্মকর্তা
- সিন্ডিকেট সভা ঘেরাও করলেন ডাকসু নেতারা
- গাজী নজরুলকে বিয়েতে অনড় ছিল মেয়েটি
- আজকের খেলার সময়সূচি (২৫ জুলাই)