×

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীন-ভারতকে কার্যকর উদ্যোগের আহ্বান শফিকুর রহমানের

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৪ ১৯:৪৩:৩২

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীন-ভারতকে কার্যকর উদ্যোগের আহ্বান শফিকুর রহমানের

নিজস্ব প্রতিবেদক: রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে চীন, ভারত ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তাঁর মতে, সাময়িক অর্থসহায়তা দিয়ে এ সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। রোহিঙ্গাদের সম্মান ও নিরাপত্তার সঙ্গে নিজ দেশে ফেরার উপযোগী পরিবেশ তৈরি করাই সংকটের চূড়ান্ত সমাধান।

বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সিলেট সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রোহিঙ্গা সংকট একটি আন্তর্জাতিক বিষয়। বাংলাদেশ বর্তমানে ১৮ লাখ মানুষকে আশ্রয় দিয়েছে। তবে তাঁদের প্রয়োজন অনুযায়ী মানবিক ও পূর্ণাঙ্গ সহায়তা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে এ কথা বলা যাবে না। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা শিবিরগুলো তিনি একাধিকবার পরিদর্শন করেছেন এবং সেখানে তাঁদের জীবনের কান্না ও করুণ কাহিনি দেখেছেন। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের একমাত্র চূড়ান্ত পথ হলো তাঁদের সম্মান ও নিরাপত্তার সঙ্গে নিজ দেশে ফিরিয়ে দেওয়া। কিন্তু সে পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা মূলত দুটি দেশে স্থানান্তরিত হয়েছেন, অন্য দেশগুলোতে তাঁদের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। এর মধ্যে একটি বাংলাদেশ, অন্যটি মালয়েশিয়া। মালয়েশিয়া ইদানীং তাঁদের প্রত্যর্পণের কিছু ব্যবস্থা নিয়েছে, যদিও তা এখনো পুরোপুরি শুরু হয়নি। বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কিছু করা সম্ভব হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এ বিষয়ে অনেক আশার কথা শোনা গেলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে বৈঠক ও মতবিনিময়ের প্রসঙ্গ তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, তাঁদের বারবার বলা হচ্ছে, সাময়িক অর্থসহায়তা দিয়ে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান হবে না। শেষ পর্যন্ত তাঁদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে হবে। এ কাজ বাংলাদেশের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে চীন ও ভারতকে অবশ্যই এগিয়ে আসতে হবে। পাশাপাশি মিয়ানমারও সংশ্লিষ্ট পক্ষ হিসেবে রয়েছে।

মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, দেশটির পরিস্থিতি ভালো নয়। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে গৃহযুদ্ধ চলছে। একটি সরকার থাকলেও বাস্তবে যুদ্ধে জড়িত বিভিন্ন গোষ্ঠী একেকটি এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। রাজধানী ছাড়া অন্যান্য এলাকার ওপর বর্তমান সরকারের তেমন নিয়ন্ত্রণ নেই। তাঁর মতে, এটি একটি বড় সংকট। এ অবস্থায় কার সঙ্গে আলোচনা হবে, সেটিও প্রশ্ন। বাংলাদেশ একা এ কাজ করতে পারবে না। ভারত ও চীনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলকে এ বিষয়ে ভূমিকা নিতে হবে। জাতিসংঘ উদ্যোগী হলে সমস্যাটির সমাধান সম্ভব বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ভাসানচরে স্থানান্তরিত রোহিঙ্গাদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেখানে ২ লাখ মানুষকে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের জীবন অনেকটা বন্দিদশার মতো। বাংলাদেশের অন্য এলাকার সঙ্গে তাঁরা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন। সেখানে মাঝেমধ্যে অমানবিক ঘটনাও ঘটে, কিন্তু সেগুলো বাইরে প্রকাশের সুযোগ নেই। তাঁর ভাষায়, তাঁরা সেখানে একটি বন্দিশিবিরের মতো অবস্থায় রয়েছেন।

সাময়িকভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মানবিক সহায়তা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর মতে, রোহিঙ্গাদের উৎপাদন সহায়ক কাজের প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রয়োজনীয় উপকরণ দেওয়া হলে তাঁরা নিজেরাই জীবিকা নির্বাহ করতে পারবেন। উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করার দায়িত্ব বাংলাদেশ সরকার নিতে পারে। রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে রেখেও সীমিত পরিসরে এমন ব্যবস্থা করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন। তাঁদের চলাচলের সীমিত সুযোগ দিয়েও এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা যেতে পারে বলে জানান তিনি।

মালয়েশিয়া ও তুরস্কের উদাহরণ টেনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মালয়েশিয়ায় রোহিঙ্গাদের বন্দিশিবিরে রাখা হয়নি। একসময় তুরস্কে ৬০ লাখ শরণার্থী ছিল, সেখানেও তাঁদের বন্দিশিবিরে রাখা হয়নি। তাঁদের চলাচলের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। নাগরিকত্ব দেওয়া না হলেও বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ তৈরি করা হয়েছিল। এমনকি লেখাপড়ার সুযোগও ছিল। কিন্তু বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শিশুদের লেখাপড়ারও সুযোগ নেই। শুধু তাঁদের নিজস্ব ভাষায় প্রাথমিক স্তর পর্যন্ত কিছু শিক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে, এর বাইরে নয়।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত