×

ঢাকা, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩

জিয়াউর রহমানের ছবি না থাকায় ক্ষোভ, ‘জাতির পিতা’ সম্বোধনে সভায় উত্তেজনা

২০২৬ নভেম্বর ০৮ ১২:০০:০৮

জিয়াউর রহমানের ছবি না থাকায় ক্ষোভ, ‘জাতির পিতা’ সম্বোধনে সভায় উত্তেজনা

নিজস্ব প্রতিবেদক: জয়পুরহাটে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভার ব্যানারে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছবি না থাকা এবং এক বক্তার বক্তব্যে শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘জাতির পিতা’ উল্লেখ করাকে কেন্দ্র করে হট্টগোল ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী। পরে জেলা প্রশাসক দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চান।

শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নির্ধারিত সময়ের আগেই অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির নেতাকর্মীরা। তবে মূল ব্যানারে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছবি না থাকায় তাঁরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। প্রতিমন্ত্রীও মঞ্চে উঠতে অস্বীকৃতি জানান। পরে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ব্যানারে জিয়াউর রহমানের ছবি-সংবলিত একটি পোস্টার সাঁটানো হয়। এরপর প্রতিমন্ত্রী মঞ্চে ওঠেন এবং নির্ধারিত সময়ের আধা ঘণ্টা পর অনুষ্ঠান শুরু হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা জানান, ব্যানারটি জেলা প্রশাসক আল-মামুন মিয়া নিজেই নির্ধারণ করেছিলেন।

অনুষ্ঠান চলাকালে জিয়া পরিষদের পৌর সাধারণ সম্পাদক মারুফ হাসান বক্তব্য দেওয়ার সময় শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘জাতির পিতা’ ও ‘বঙ্গবন্ধু’ বলে সম্বোধন করেন। এতে সভাস্থলে দ্বিতীয় দফায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় জেলা ছাত্রদলের সভাপতি একেএম গোলাম মাহফুজ শুভ ক্ষুব্ধ হয়ে ডায়াসের দিকে তেড়ে যান এবং ওই বক্তাকে সরিয়ে দেন।

পরে পরিস্থিতি শান্ত হলে অনুষ্ঠান শেষ হয়। তবে এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ ওহাব। প্রশাসনে ঘাপটি মেরে থাকা ফ্যাসিবাদের দোসরদের চিহ্নিত করে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এ ঘটনায় প্রতিমন্ত্রী পুরো বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা প্রধান বলেন, ১৯ বছর পর তাঁরা জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন করছেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে ঘিরে আয়োজিত অনুষ্ঠানের ব্যানারেই তাঁর ছবি ছিল না। এ ঘটনায় দলের নেতাকর্মীদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে। এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক ঘটনা।

ইন্টারনেট থেকে ছবি নিয়ে ব্যানার তৈরি করা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন জেলা প্রশাসক আল-মামুন মিয়া। অনুষ্ঠানে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

বিষয়টি জেলা প্রশাসক ও জেলা পরিষদের প্রশাসককে খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়ে প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী বলেন, ঘটনাটি ইচ্ছাকৃত হয়ে থাকলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত