×

ঢাকা, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩

৭১-এর রাজাকার ও ২৪-এর রাজাকার মিলেমিশে একাকার: রাশেদ খাঁন

২০২৬ নভেম্বর ০৭ ২০:০৫:০৯

৭১-এর রাজাকার ও ২৪-এর রাজাকার মিলেমিশে একাকার: রাশেদ খাঁন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ১৯৭১ সালের রাজাকার এবং ২০২৪ সালের রাজাকার মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।

শনিবার ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রাশেদ খাঁন বলেন, ‘এই বাংলাদেশে যদি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জন্ম না হতো, তাহলে এই স্বাধীন বাংলাদেশ হতো না। আজকে যে সময় জনগণের ভোটে তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, তখন আমরা লক্ষ্য করছি সেই ৭১-এর রাজাকার এবং ২৪-এর রাজাকার মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। একই সঙ্গে তারা সরকারকে পতনের চেষ্টা করছে।’

তিনি বলেন, ‘ঘোষণা দিতে চাই, ওই ৭১-এর রাজাকার, ২৪-এর রাজাকার যদি বিএনপি সরকারকে পতন করতে চায়, ওদেরকে পতন করা হবে। যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায়নি, দেখতে পাচ্ছি পদে পদে তারা এই রাষ্ট্রকে নিয়ে চক্রান্ত এবং ষড়যন্ত্র করছে। অতীতে চক্রান্ত এবং ষড়যন্ত্র করে তারা পার পায়নি, এখনো চক্রান্ত করে সেই ৭১-এর রাজাকার জামায়াতে ইসলামী এবং ২৪-এর রাজাকার আওয়ামী লীগ সফল হতে পারবে না, ইনশাআল্লাহ।’

রাশেদ খাঁন বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শুধু ৭ মার্চ পালন করা হয়েছে। অথচ বাংলাদেশের ইতিহাসে ৭ মার্চ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, ৭ নভেম্বর কোনোভাবেই তার চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। কিন্তু আওয়ামী লীগ এই দিনটি পালন করতে দেয়নি। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো দিবসটি পালন করা হচ্ছে। এর তাৎপর্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, ৭ নভেম্বর বাংলাদেশে ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সিপাহি-জনতার বিপ্লব হিসেবে এসেছিল। শেখ মুজিব হত্যাকাণ্ডের পর ভারত বাংলাদেশে আরেকটি সেনা অভ্যুত্থান ঘটিয়ে দেশটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেছিল। ৩ নভেম্বর সেই প্রচেষ্টা সফল হয়েছিল। তবে ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের জনগণ ও সিপাহিরা স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে ক্ষমতায় বসিয়েছিলেন।

রাশেদ খাঁনের ভাষ্য, জিয়াউর রহমান ক্ষমতা দখল করেননি। তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। ১৯৭১ সালের পর থেকে দেশে বিপ্লব ও প্রতিবিপ্লবের ঘটনা দেখা গেছে। ওই সময় জিয়াউর রহমান ছাড়া দ্বিতীয় কোনো ব্যক্তির ওপর বাংলাদেশের জনগণের আস্থা ছিল না। এ কারণে সিপাহি বিপ্লবের মাধ্যমে তাঁকে ক্ষমতায় বসানো হয়েছিল। বিএনপি জোরপূর্বক ক্ষমতায় বসেছিল—এমন দাবি ইতিহাস বিকৃতির শামিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, যারা এমন কথা বলেন, তাঁরা ইতিহাস জানেন না।

সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মজিদ, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ বিশ্বাস ও সাংগঠনিক সম্পাদক সাজেদুর রহমান পপ্পু।

এর আগে বিএনপির উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়। বেলা ১১টার দিকে জেলা শহরের ওয়াজির আলী স্কুল মাঠ থেকে র‍্যালিটি বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক ঘুরে স্থানীয় চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়। বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের কয়েক হাজার নেতা-কর্মী নানা সাজে সজ্জিত হয়ে ঢাকঢোল বাজিয়ে র‍্যালিতে অংশ নেন।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত