ঢাকা, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩
মন্ত্রিত্বের দায়িত্বের পাশাপাশি রাজপথেও সক্রিয় আফরোজা খানম রিতা
নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোটের ব্যবধানে রেকর্ড গড়ে জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনায় উঠে এসেছেন আফরোজা খানম রিতা। নির্বাচনে সাফল্যের ধারাবাহিকতায় প্রথমে বিমানমন্ত্রী এবং পরে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি।
একদিকে দেশের খাদ্যনিরাপত্তা ও খাদ্যভান্ডার সুরক্ষার দায়িত্ব, অন্যদিকে রাজপথের রাজনীতিতেও সক্রিয় উপস্থিতি—দুই ক্ষেত্রেই নিজের ভূমিকা তুলে ধরছেন রিতা। মন্ত্রিত্বের প্রটোকল কিংবা গাড়িবহরের আনুষ্ঠানিকতা এড়িয়ে দলীয় পতাকা হাতে মানিকগঞ্জের কয়েক হাজার নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর রাজপথে হেঁটেছেন তিনি। অতিক্রম করেছেন প্রায় সাত কিলোমিটার পথ।
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিতে তাঁর এই পদযাত্রা রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার বিষয়টি সামনে এনেছে। মন্ত্রীর দায়িত্বে থেকেও নেতাকর্মীদের সঙ্গে একই কাতারে হাঁটার এ দৃশ্য রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সামনে থেকে শুরু হওয়া দলীয় কর্মসূচিতে মানিকগঞ্জ থেকে আসা কয়েক হাজার নেতাকর্মীর নেতৃত্ব দেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। হাতে ছিল দলীয় পতাকা। রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ও মোড় অতিক্রম করে প্রায় সাত কিলোমিটার হেঁটে তিনি মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের সমাবেশস্থলে পৌঁছান। দীর্ঘ এই পদযাত্রায় তাঁর সঙ্গে ছিলেন দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। মিছিলের সামনের সারিতে থেকে তাঁর নেতৃত্ব উপস্থিত অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
রাজনীতিতে ক্ষমতার পালাবদল কিংবা পদ-পদবি পরিবর্তনের সঙ্গে অনেক নেতার চলাফেরার ধরনেও পরিবর্তন আসে। তবে রিতার সাম্প্রতিক পদযাত্রায় দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। মন্ত্রীর দায়িত্বে থেকেও তিনি দলীয় কর্মীদের কাছ থেকে নিজেকে আলাদা রাখেননি। বরং দলীয় পতাকা হাতে তাঁদের সঙ্গে একই কাতারে হেঁটেছেন। রাজপথের কর্মসূচিতে তাঁর এই অংশগ্রহণকে অনেকে রাজনৈতিক কর্মীসত্তার প্রকাশ হিসেবে দেখছেন।
বিরোধী দলে থাকাকালেও সরকারবিরোধী আন্দোলনে রাজধানীর রাজপথে সক্রিয় ছিলেন রিতা। তখনো দলীয় পতাকা হাতে দীর্ঘ পথ হেঁটে বিভিন্ন মোড় অতিক্রম করে সমাবেশস্থলে পৌঁছেছেন তিনি। সে সময় তিনি ছিলেন আন্দোলনরত দলের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা। আর এখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী। সময় ও অবস্থান বদলালেও রাজপথের কর্মসূচিতে তাঁর অংশগ্রহণের ধরনে বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি। এই ধারাবাহিকতাই তাঁকে আলোচনায় রেখেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-৩ (সদর-সাটুরিয়া) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৩৪৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন আফরোজা খানম রিতা। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১-দলীয় জোটসমর্থিত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদ সাঈদ নূর পান ৬৪ হাজার ২৪২ ভোট। দুই প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান ছিল ১ লাখ ৩ হাজার ১০৩। ১৫১টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৫০টিতে সর্বোচ্চ ভোট পান রিতা।
নির্বাচনে সাত নারী সংসদ সদস্যের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট ও ব্যবধানে জয়ী হওয়ার কৃতিত্বও তাঁর। সরাসরি নির্বাচনে নারী রাজনীতিকদের জয়ী হওয়ার ব্যবধানের হিসাবেও তাঁর অবস্থান তৃতীয় বলে আলোচনায় এসেছে। স্বাধীনতার পর এই আসনে প্রথম নারী সংসদ সদস্যও তিনি।
বাবা সাবেক মন্ত্রী হারুনার রশিদ খান মুন্নুর হাত ধরে রাজনীতিতে আসেন রিতা। তাঁর রাজনৈতিক পথচলায় রয়েছে একাধিক বাঁক। পারিবারিক রাজনৈতিক উত্তরাধিকার থেকে নিজস্ব সাংগঠনিক অবস্থান তৈরি, মানিকগঞ্জে বিএনপির নেতৃত্ব দেওয়া এবং জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ—প্রতিটি ধাপেই নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন তিনি। জেলার সভা-সমাবেশ থেকে শুরু করে দলীয় আন্দোলন-সংগ্রাম, প্রায় সব ক্ষেত্রেই তাঁকে সামনের সারিতে দেখা গেছে।
‘মন্ত্রিত্ব আমার দায়িত্ব, আর রাজপথ আমার রাজনৈতিক শিকড়। ক্ষমতার পরিবর্তন হলেও নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে আমার সম্পর্কের পরিবর্তন হবে না’—এমন মন্তব্য করে খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা রোববার সকালে যুগান্তরকে বলেন, রাজনীতি তাঁর কাছে শুধু ক্ষমতা কিংবা পদ-পদবির বিষয় নয়। রাজনীতি মানে মানুষের পাশে থাকা, দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে পথচলা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করা।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথই তাঁদের সাহস ও প্রেরণার জায়গা ছিল। বর্তমানে রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে থাকলেও রাজপথ, দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কোনো পরিবর্তন হয়নি। মানিকগঞ্জের নেতাকর্মীরা সব সময় তাঁর শক্তি ও অনুপ্রেরণা। তাঁদের সঙ্গে নিয়ে হাঁটতে পারা তাঁর জন্য আনন্দের ও গর্বের।
রিতা বলেন, মন্ত্রিত্ব একটি বড় দায়িত্ব। দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষায় তিনি সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দিয়ে কাজ করতে চান। একই সঙ্গে দলের নেতাকর্মীদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকা এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করাই তাঁর রাজনৈতিক অঙ্গীকার।
ইমামুল
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার তারিখ জেনে নিন
- বাংলাদেশের জলবায়ু অগ্রাধিকার তুলে ধরতে তুরস্ক যাচ্ছে YFB-এর প্রতিনিধিদল
- মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেবে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (০৩ নভেম্বর)
- পুলিশের ৭৮ পরিদর্শক পদোন্নতি পেয়ে হলেন এএসপি
- বিশ্ববিদ্যালয়-মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা কি পেছাচ্ছে?
- ঢাবির ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ
- সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার্থীদের ঢাবির ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিয়ে যা জানা গেল
- যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণীর সঙ্গে যৌন বিকৃতির অভিযোগে সাবেক শিবির নেতা গ্রেপ্তার
- প্রবাসীর সন্তানেরা পাবে শিক্ষাবৃত্তি, জানুন আবেদন পদ্ধতি
- কিউএসের এশিয়া র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের শীর্ষ ২০ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা প্রকাশ
- ফের স্বর্ণের দাম বেড়েছে, ভরিতে কত?
- জাতীয়করণের তালিকায় ৫ বেসরকারি কলেজ
- ২০২৭ সালে সরকারি ছুটির তালিকা প্রকাশ
- সরাসরি সাক্ষাৎকারে ১৩০ পদে নিয়োগ দেবে মেঘনা গ্রুপ