×

ঢাকা, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩

সমবায় সমিতিগুলোকে দুর্নীতিমুক্ত করে সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির

২০২৬ নভেম্বর ০৮ ১৫:৩০:৫০

সমবায় সমিতিগুলোকে দুর্নীতিমুক্ত করে সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির

নিজস্ব প্রতিবেদক: সমবায় আন্দোলনকে পুনরুজ্জীবিত করতে সমবায় সমিতিগুলোকে দুর্নীতিমুক্ত করার পাশাপাশি তাদের সক্ষমতা বাড়ানো, উৎপাদিত পণ্যের বাজারজাতকরণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় আইন সংশোধনের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, ‘সমবায় সমিতিগুলোর মধ্যে দুর্নীতির কারণে বেশিরভাগ সমিতি নষ্ট হয়ে গেছে এবং তাদের কার্যক্রম দুর্বল হয়ে পড়েছে। হাতে গোনা কয়েকটি সমিতি মাত্র সফলভাবে কাজ করছে। অথচ সমবায় আন্দোলনের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। সমবায় আন্দোলনকে সফল করতে হলে সংগঠনগুলোকে দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে।’

রোববার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন রাষ্ট্রপতি।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সমবায় আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল ১৯০৪ সালে। দীর্ঘ সময় ধরে এ আন্দোলন চলেছে। মাঝখানে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সমবায়কে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তিনি স্বনির্ভর আন্দোলনের মাধ্যমে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলার যে উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তার সঙ্গে সমবায়কে সম্পৃক্ত করে কাজ করার উদ্যোগও গ্রহণ করেছিলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ষাটের দশকে বাংলাদেশের সমবায় আন্দোলনের পথিকৃৎ হিসেবে পরিচিত ড. আখতার হামিদ খানকে পাকিস্তান থেকে দেশে ফিরিয়ে এনেছিলেন জিয়াউর রহমান। তাঁকে বার্ডের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব দিয়ে সমবায় আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করেন। এর ফলে সমবায় আন্দোলন অনেকটা এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল।

একই সঙ্গে সমবায় খাতের উন্নয়নে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উল্লেখযোগ্য অবদান ও বিভিন্ন কার্যক্রমের কথা তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি। বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে এ খাত আরও দ্রুত গতিশীল হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

অতীতের সফল সমবায় কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে সমবায়ের সেই অবস্থান এখন আর নেই। ধীরে ধীরে সমবায় আন্দোলন একেবারে নিচের দিকে চলে গেছে। এখন আর আগের মতো এই আন্দোলনের প্রতি গুরুত্ব বা মনোযোগ দেখা যায় না।’

সমবায় খাতের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের উপযোগী করে বিদ্যমান সমবায়-সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধন এবং যুগোপযোগী করার ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

একই সঙ্গে দেশের এনজিওগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে সমবায় সমিতিগুলো যাতে টিকে থাকতে পারে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে এনজিওর ধারণা অত্যন্ত সফলভাবে এগিয়ে গেছে। এনজিও কার্যক্রমের কারণেও সমবায় আন্দোলন পিছিয়ে পড়েছে। ফলে সমবায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে এনজিওগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে। এমন ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে সমবায় সমিতিগুলো প্রতিযোগিতার সক্ষমতা অর্জন করে এনজিওগুলোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে টিকে থাকতে পারে।

সমবায় প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত পণ্যের যথাযথ বাজারজাতকরণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, সমবায় প্রতিষ্ঠানগুলো যেসব পণ্য উৎপাদন করে, সেগুলোর বাজারজাতকরণে বড় ধরনের সমস্যা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সমবায় অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিতে পারে। সমবায়ভিত্তিক কোম্পানি গঠন করা যেতে পারে, যারা এসব পণ্য বাজারজাতকরণে সমবায় সমিতিগুলোকে সহযোগিতা করবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে এ ধরনের উদ্যোগের যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। পণ্য বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে এই ঘাটতি দূর করা অত্যন্ত জরুরি।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সমবায়ের মূল ধারণা হলো একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করা। নানামুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। দেশকে পেছনের দিকে ঠেলে দেওয়ার জন্য যেসব চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র রয়েছে, সেগুলো মোকাবিলা করে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য কাজ করতে হবে।

সফল সমবায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, সম্প্রতি বগুড়ায় পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল তাঁর। সেখানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অত্যন্ত চমৎকার কাজ করছেন। আজকের অনুষ্ঠানে কয়েকটি সফল সমবায়ের কার্যক্রম ও অগ্রগতি দেখে তিনি আনন্দিত হয়েছেন। তাঁর ভাষায়, তারা সত্যিকার অর্থেই অনেক ভালো কাজ করছে।

সমবায়ীদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আপনারা এখনো সমবায় আন্দোলনকে ধরে রেখেছেন। তবে শুধু ধরে রাখলেই হবে না, এটিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে। এজন্য সমবায় আন্দোলনকে আরও ব্যাপকভাবে দেশের জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এতে বক্তব্য দেন এ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব, মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ এবং বাংলাদেশ জাতীয় সমবায় ইউনিয়নের সভাপতি মো. আবদুস সালাম।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধক ও মহাপরিচালক সেলিম ফকির।

সমবায় অধিদপ্তর আয়োজিত এ বছরের সমবায় দিবসের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘করবো সমবায়, গড়বো দেশ। সবার জন্য বাংলাদেশ’।

অনুষ্ঠানে সফল সমবায়ীদের হাতে পুরস্কার ও ক্রেস্ট তুলে দেন রাষ্ট্রপতি। এর আগে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছে তিনি বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।

ইমামুল

ট্যাগ: রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সমবায় অধিদপ্তর বেগম খালেদা জিয়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশের অর্থনীতি সমবায় আন্দোলন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন মীর শাহে আলম পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় জাতীয় সমবায় দিবস ২০২৬ ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস সমবায় সমিতি সমবায় খাত সমবায় সমিতিতে দুর্নীতি সমবায় সমিতির সক্ষমতা বৃদ্ধি সমবায় আইন সংশোধন সমবায় উন্নয়ন ড. আখতার হামিদ খান বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমি সমবায় পণ্যের বাজারজাতকরণ এনজিও কার্যক্রম সমবায়ভিত্তিক কোম্পানি সেলিম ফকির জাতীয় সমবায় দিবসের প্রতিপাদ্য সমবায়ীদের পুরস্কার সমবায় আন্দোলনের পুনরুজ্জীবন

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত