×

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রাথমিক শিক্ষায় জিপিইর আরও অর্থায়ন চান প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৪ ১৮:৩৬:০৮

প্রাথমিক শিক্ষায় জিপিইর আরও অর্থায়ন চান প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রাথমিক শিক্ষায় শিশুদের শুধু বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করাই নয়, শ্রেণিকক্ষে তাদের কার্যকর শিখন ও ভবিষ্যৎ কর্মদক্ষতা গড়ে তোলাকে গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, প্রতিটি শিশুর জন্য মানসম্মত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার। এ লক্ষ্য পূরণে আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে বাংলাদেশের শিক্ষা খাতের দীর্ঘদিনের অংশীদার জিপিই (গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর এডুকেশন) থেকে চলমান শিক্ষা সংস্কার ও নতুন উদ্যোগে আরও বৃহত্তর অর্থায়ন এবং কারিগরি সহায়তা প্রত্যাশা করেন তিনি।

গত ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের জাতিসংঘ সদরদপ্তরের ECOSOC Chamber-এ জিপিই-এর উচ্চপর্যায়ের সম্মেলন ‘Multiply Possibility: A New Era for Education Financing’-এ অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনের (UNGA81) সাইডলাইনে অনুষ্ঠিত সম্মেলনটির আয়োজন করে ইতালি ও নাইজেরিয়ার জাতিসংঘে স্থায়ী মিশন এবং জিপিই যৌথভাবে।

সম্মেলনের সাইডলাইনে জিপিই-এর ডেপুটি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা চার্লস নর্থের সঙ্গে বৈঠক করেন ববি হাজ্জাজ। এতে বাংলাদেশের শিক্ষা খাতের উন্নয়ন, বিশেষ করে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারে জিপিই-এর সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়টি আলোচনায় আসে।

বৈঠকে বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষায় চলমান সংস্কার, শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি, শিক্ষক উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর মনিটরিং ও শিশুদের শিখনফল উন্নয়নে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে এসব ক্ষেত্রে অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তা আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

ববি হাজ্জাজ বলেন, বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক শিশুর জন্য মানসম্মত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদারদের কার্যকর সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে জিপিই-এর সঙ্গে বাংলাদেশের অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বৈঠকে জিপিই-এর ডেপুটি সিইও চার্লস নর্থ বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা খাতের অগ্রাধিকার ও চলমান বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন। বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে জিপিই-এর সহযোগিতা অব্যাহত রাখা এবং ভবিষ্যতে সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে ইতিবাচক আশ্বাস দেন তিনি। পাশাপাশি বাংলাদেশের শিক্ষা খাতের প্রয়োজন ও অগ্রাধিকার নিয়ে জিপিই-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

এ সময় জিপিই-এর সিইও লরা ফ্রিজেন্টি এবং ডেপুটি সিইও চার্লস নর্থকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান প্রতিমন্ত্রী। বাংলাদেশ সফরের মধ্য দিয়ে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা খাতের অগ্রাধিকার, চলমান সংস্কার কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো সরেজমিনে পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সম্মেলনে বিশ্বব্যাপী শিক্ষায় টেকসই অর্থায়ন বাড়ানো, উন্নয়ন সহযোগিতা জোরদার এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের নতুন বিনিয়োগ ও প্রতিশ্রুতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এতে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, শিক্ষামন্ত্রী, আন্তর্জাতিক সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী, সুশীল সমাজ, ফাউন্ডেশন এবং বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

উল্লেখ্য, ২০২৬ সালে বাংলাদেশ জিপিই-এর কাছ থেকে ৯৮.৮৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অনুদান নিশ্চিত করেছে। বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে জিপিই-এর বর্তমান অর্থায়ন আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যেই প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এ উচ্চপর্যায়ের আয়োজনে অংশ নেন।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

জাতীয় এর অন্যান্য সংবাদ