ঢাকা, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩

হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন সেফুদা, আবেগঘন পোস্টে চাইলেন দোয়া

২০২৬ জুন ২৭ ১৭:৪১:৪৮

হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন সেফুদা, আবেগঘন পোস্টে চাইলেন দোয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘সেফুদা’ নামে পরিচিত সিফাত উল্লাহ গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শনিবার (২৭ জুন) বেলা ৩টার দিকে নিজের ফেসবুক পেজে হাসপাতালের একটি ছবি প্রকাশ করে তিনি জানিয়েছেন, তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন।

তবে অসুস্থতার খবরের চেয়েও বেশি আলোচনায় এসেছে তার পোস্টের ভাষা। দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কিত মন্তব্য, ব্যতিক্রমী আচরণ ও রসবোধের জন্য পরিচিত এই প্রবাসী বাংলাদেশির আবেগঘন বার্তায় উঠে এসেছে একাকিত্ব, অপূর্ণ স্বপ্ন এবং মৃত্যুচিন্তার কথা।

ফেসবুক পোস্টে সিফাত উল্লাহ লিখেছেন, ‘আমার অবস্থা সংকটাপন্ন। আপনারা অনেকেই জানেন, আমার পৈতৃক সম্পত্তি দেশে যা আছে আমি একটি কলেজের নামে দিয়ে দিয়েছি। ইচ্ছে ছিল মায়ের নামে একটি হাসপাতাল করার। যদি আমি মারা যাই, আপনাদের কাছে শুধু দোয়া চাই। হয়ত আমার লাশ আমার প্রিয় বাংলাদেশে যাবে না। নেওয়ার মতো কেউ নেই, আমাকে সবাই ক্ষমা করুন।’

অনলাইনে ‘সেফুদা’ নামে পরিচিত সিফাত উল্লাহ দীর্ঘদিন ধরে অস্ট্রিয়াপ্রবাসী বাংলাদেশি হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। তার ব্যতিক্রমধর্মী উপস্থাপনা ও হাস্যরসাত্মক কর্মকাণ্ডের কারণে ফেসবুকে তার অনুসারীর সংখ্যা প্রায় পাঁচ লাখ।

তথ্য অনুযায়ী, সিফাত উল্লাহর জন্ম ১৯৪৬ সালের ৫ নভেম্বর খুলনার সোনাডাঙ্গায়। তবে তার গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরে। ১৯৮৫ সালে (মতান্তরে ১৯৮৮) তিনি প্রথম সৌদি আরবে যান। পরে ১৯৮৮ সালে (মতান্তরে ১৯৯১) অস্ট্রিয়ায় পাড়ি জমান।

জানা যায়, ১৯৭৯ বা ১৯৮০ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। পরবর্তীতে ভিয়েনার একটি স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়েও শিক্ষকতা করেন। পাশাপাশি একটি অনলাইন শপে খণ্ডকালীন চাকরিও করতেন। ২০১০ সালে তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। এরপর থেকেই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে এবং কিছুদিনের মধ্যে মাথার চুলও পড়ে যায়।

ব্যক্তিগত জীবনেও দীর্ঘদিন ধরে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন সিফাত উল্লাহ। তার স্ত্রী ও এক সন্তান থাকলেও বর্তমানে তাদের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ নেই। পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদের পর দীর্ঘ সময় ধরে তিনি একাকী প্রবাসজীবন কাটিয়ে আসছেন।

সিফাত উল্লাহর বড় ভাই শামছুল আলম মজুমদার জানিয়েছেন, ছাত্রজীবন থেকেই তিনি অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন এবং একসময় জাতিসংঘের শ্রম সংস্থা (আইএলও)-তেও চাকরি করেছেন।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

ফের স্বর্ণের দাম বাড়ল (২৭ জুন)

ফের স্বর্ণের দাম বাড়ল (২৭ জুন)

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের স্বর্ণের বাজারে আবারও মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরি স্বর্ণের... বিস্তারিত