ঢাকা, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩

মেয়ের জন্য লেখা শাহরুখের গোপন ডায়েরি তে কী আছে?

২০২৬ জুন ২১ ১৯:০২:০৪

মেয়ের জন্য লেখা শাহরুখের গোপন ডায়েরি তে কী আছে?

বিনোদন ডেস্ক: বলিউডের ‘বাদশাহ’ তিনি। দুই হাত প্রসারিত সেই আইকনিক ভঙ্গিতে এখনও মোহিত কোটি ভক্তের হৃদয়। কিন্তু ক্যামেরার আলো আর বক্স অফিসের ঝলকানি পেরিয়ে শাহরুখ খান যেন একান্তই পারিবারিক মানুষ তিন সন্তান আরিয়ান, সুহানা ও আব্রামের দায়িত্বশীল বাবা। দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে মেয়ে সুহানার জন্য তাঁর লেখা একটি ‘গোপন ডায়েরি’। বাবা দিবসকে সামনে রেখে ফের সামনে এসেছে সেই ডায়েরি ও শাহরুখের বাবাসত্তার অজানা অধ্যায়।

২০১৪ সালে অভিনেতা অনুপম খেরের একটি অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে প্রথমবার এই ডায়েরির কথা প্রকাশ করেন শাহরুখ খান। তখন তাঁর মেয়ে সুহানা কিশোরী। সেখানেই তিনি জানান, নিজের অভিনয় অভিজ্ঞতা ছোট ছোট কয়েকটি লাইনে লিখে তিনি একটি ডায়েরি তৈরি করছেন, যা মূলত তাঁর মেয়ের জন্যই।

অনুপম খেরের প্রশ্ন ছিল, তিনি কি মেয়ের জন্য অভিনয় বিষয়ে কোনো বই লিখছেন? উত্তরে শাহরুখ বলেন, “হ্যাঁ, শুধু ওর জন্যই। আমি নিজের টুকটাক অভিজ্ঞতার কথা ছোট ছোট তিন-চার লাইনে লিখছি। আমার মনে হলো ওর জন্য এটা লেখা দরকার। আসলে আমার তো কাউকে বলা দরকার যে আমি কীভাবে অভিনয় করি! আমার সহ-অভিনেতাদের এ নিয়ে কিছু বলতে গেলে তারা পাত্তা দেয় না। তাই আমি চাই, আমার মেয়ে বইটা পড়ুক আর ওখান থেকে শিখুক।”

বইয়ের নাম নিয়েও সেদিন তিনি ধারণা দেন। শাহরুখ বলেন, নাম রাখা হয়েছে “টু সুহানা, অন অ্যাক্টিং। ফ্রম পাপা” (সুহানার জন্য, অভিনয় নিয়ে। ইতি পাপা)। একই অনুষ্ঠানে তিনি আরও জানান, তিনি চান তাঁর মেয়ে বড় হয়ে অভিনয় করুক। তাঁর ভাষায়, “আমি খুব চাই আমার মেয়ে বড় হয়ে অভিনয় করুক। অন্য কেউ তো আর আমার কথা শোনে না! মেয়েটা এখনো ছোট, তাই অন্তত বাবাকে সম্মান করে হলেও আমার লেখা বইটা হয়তো ও পড়বে।”

শাহরুখের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ডায়েরিতে তিনি লিখছেন কীভাবে তিনি একটি চরিত্র নির্মাণ করেন, কীভাবে দৃশ্যের আবেগ খুঁজে পান এবং কীভাবে ক্যামেরার সামনে নিজেকে প্রস্তুত করেন। তাঁর কাছে এটি কেবল অভিনয় শেখানোর নোট নয়; বরং নিজের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটি প্রয়াস।

২০১৪ সালে প্রথমবার আলোচনায় আসা এই ডায়েরি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায় প্রায় আট বছর পর, ২০২২ সালে। পরে সুহানা খানের ইনস্টাগ্রাম পোস্টের মাধ্যমে ভক্তরাও বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত হন। খুব কমই পোস্ট করেন সুহানা, তবে সেই বিশেষ পোস্টে দেখা যায় বাবার দেওয়া একটি জার্নালের ছবি, যেখানে লেখা ছিল “টু সুহানা, অন অ্যাক্টিং। ফ্রম পাপা”।

সেই পোস্টের ক্যাপশনে তিনি লেখেন, “মঙ্গলবারের প্রেরণা।” আর মন্তব্যের ঘরে শাহরুখ লেখেন, “অভিনয় সম্পর্কে আমি যা জানি না, সবই সেখানে লিখে রেখেছি। তুমি শিখবে, তারপর আমাকে আবার শেখাবে।”

বাবা–মেয়ের সম্পর্ক বরাবরই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থেকেছে। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে শাহরুখ যেমন গর্ব করে সন্তানদের কথা বলেছেন, তেমনি তাদের ব্যক্তিগত পরিসর রক্ষায়ও ছিলেন সতর্ক। সুহানার ছোটবেলায় অতিরিক্ত মিডিয়া–মনোযোগ তাঁকে অস্বস্তিতে ফেলেছিল এ কথা নিজেই জানিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে ছোট ছেলে আব্রামের স্কুলের বিশেষ দিনগুলো প্রায় কখনোই মিস করেন না শাহরুখ। ব্যস্ত শুটিং শিডিউলের মাঝেও সাধারণ অভিভাবকের মতোই স্কুল অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকেন তিনি। ২০২৪ সালেও স্ত্রী গৌরী ও মেয়ে সুহানাকে নিয়ে আব্রামের একটি স্কুল অনুষ্ঠানে তাকে দেখা যায় সন্তানের ছবি ও ভিডিও ফোনে ধারণ করতে।

বলিউডে যেখানে তারকাদের সন্তানদের ঘিরে আলাদা উন্মাদনা থাকে, সেখানে শাহরুখের অবস্থান কিছুটা ভিন্ন। তিনি কখনোই সন্তানদের ওপর তারকাখ্যাতির চাপ চাপিয়ে দেননি। স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, উত্তরাধিকারে তিনি বিশ্বাস করেন না।

এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমি ইন্ডাস্ট্রিতে উত্তরাধিকারে বিশ্বাস করি না। আমার বাবা তো অভিনেতা ছিলেন না। আমি নিজে অভিনেতা হয়েছি, তার মানে এই নয় যে আমার ছেলেমেয়েদেরও অভিনেতা হতে হবে।” তাঁর মতে, সন্তানরা জীবনে কী হবে সেটা তাদের নিজের সিদ্ধান্ত।

শাহরুখ আরও বলেন, “তারা জীবনে কী করবে, সেটা আমি বলে দেব না... তারা নিজেরা কী হতে চায়, সেটাই আসল। তারা অভিনেতা না হলেও তাদের আমি সব সময়ই ভালোবাসব।”

সন্তানদের সাফল্যকে তিনি কখনো আড়ালেও রাখেন না। সুহানার লন্ডনের আরডিংলি কলেজ থেকে গ্র্যাজুয়েশন কিংবা আরিয়ান খানের ওটিটি প্রজেক্ট ‘দ্য ব্যা***অব বলিউড’-এর কাজ শুরু সব ক্ষেত্রেই গর্বের সঙ্গে পাশে থেকেছেন তিনি।

সন্তানদের মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাকেই সবচেয়ে বড় দায়িত্ব মনে করেন শাহরুখ। একবার তিনি বলেন, “আমি আমার ২১ বছর বয়সী ছেলেকে শেখাই, কোনো মানুষকে অসম্মান করা মোটেও ঠিক নয়... আমি সবার প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সম্মানের কথা বলছি।”

সব মিলিয়ে জাঁকজমকপূর্ণ তারকাজীবনের বাইরে শাহরুখ খানের সবচেয়ে বড় পরিচয় একজন সংবেদনশীল বাবা। আর সেই বাবার লেখা ছোট্ট ডায়েরিতেই যেন লুকিয়ে আছে তাঁর অভিনয়জীবনের ব্যক্তিগত দর্শন, যা আজও আলোচনার কেন্দ্রে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২০ জুন)

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২০ জুন)

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের স্বর্ণবাজারে ক্রেতাদের জন্য স্বস্তির খবর এসেছে। টানা দুই দফা মূল্যবৃদ্ধি এবং এক দফা ভ্যাট সমন্বয়ের পর এবার... বিস্তারিত