ঢাকা, রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

আইনজীবী না পেয়ে কারাগারে ডন

২০২৬ আগস্ট ০৯ ১৮:২৬:৩১

আইনজীবী না পেয়ে কারাগারে ডন

নিজস্ব প্রতিবেদক: চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার খলনায়ক আশরাফুল হক ডনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। শুনানি শেষে আজ রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা এ আদেশ দেন। তবে ডনের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।

এদিন আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পুলিশ পরিদর্শক আরিফুর রহমান তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আবেদনে তার জামিনের বিরোধিতা করে বলা হয়, মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আসামি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন। তাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। তিনি জামিনে মুক্তি পেলে তদন্তে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি চিরতরে পলাতক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পরে পুলিশি প্রহরায় ডনকে কাঠগড়ায় নেওয়া হয়। এ সময় ঢাকা মহানগর দায়রা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী তাকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করেন। কাঠগড়ায় নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে ছিলেন ডন। তার পক্ষে কোনো আইনজীবী না থাকায় জামিনের শুনানি হয়নি। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। পরে তাকে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এর আগে ২০ অক্টোবর সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় করা অপমৃত্যু মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন আদালত। এ নির্দেশের পর ওইদিন মধ্যরাতে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন। মামলায় সাবেক স্ত্রী সামিরা হক ও খলনায়ক ডনসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন সামিরা হকের মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু, রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের বাসা থেকে চিত্রনায়ক সালমান শাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তখন প্রথমে অপমৃত্যুর মামলা করেন সালমান শাহর বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই অভিযোগটি হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন করা হয়। এ বিষয়ে তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত।

তদন্ত শেষে ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় সিআইডি। প্রতিবেদনে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলা হয়। পরে ওই বছরের ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালত চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি গ্রহণ করেন। তবে প্রতিবেদনটি প্রত্যাখ্যান করে রিভিশন মামলা করেন কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী।

২০০৩ সালের ১৯ মে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠান আদালত। দীর্ঘ ১১ বছর পর ২০১৪ সালের ৩ আগস্ট আদালতে বিচার বিভাগীয় তদন্তের প্রতিবেদন দাখিল করেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইমদাদুল হক। ওই প্রতিবেদনেও সালমান শাহর মৃত্যুকে অপমৃত্যু বলা হয়।

কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরীর মৃত্যুর পর ছেলে হত্যা মামলার বাদী হিসেবে মা নীলা চৌধুরী অন্তর্ভুক্ত হন। ২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি তিনি ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজির আবেদন করেন। সর্বশেষ মামলাটি তদন্ত করে পিবিআই।

২০২১ সালের ৩১ অক্টোবর আদালত ওই প্রতিবেদন গ্রহণ করে মামলাটি নিষ্পত্তি করেন। ২০২২ সালের ১২ জুন এ আদেশের বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশন মামলা দায়ের হয়।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

ফের দেশের বাজারে বাড়ল স্বর্ণের দাম

ফের দেশের বাজারে বাড়ল স্বর্ণের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক: একদিনের ব্যবধানেই দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ভরিতে ৪... বিস্তারিত