ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

দিস ইজ এ ব্ল্যাক ডে ফর ইনডিপেনডেন্স অব জুডিশিয়ারি: শিশির

২০২৬ মে ২১ ১৯:২১:০৪

দিস ইজ এ ব্ল্যাক ডে ফর ইনডিপেনডেন্স অব জুডিশিয়ারি: শিশির

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিচার বিভাগীয় সচিবালয় বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্তকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য ‘কালো দিন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও আইনজীবী শিশির মনির। তিনি বলেন, “দিস ইজ এ ব্ল্যাক ডে ফর ইনডিপেনডেন্স অব জুডিশিয়ারি।”

সংবাদ সম্মেলনে শিশির মনির দাবি করেন, বিচার বিভাগীয় সচিবালয় বিলুপ্তির মাধ্যমে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত করা হয়েছে, যা জনগণের আস্থাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

বৃহস্পতিবার (আজ) দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত করে আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে সংযুক্ত করার প্রতিবাদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাকশাল ও সামরিক শাসনের কারণে বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা হয়নি। ২০২৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট ৯০ দিনের মধ্যে পৃথক বিচার বিভাগীয় সচিবালয় গঠনের নির্দেশ দেন। পরে গত বছরের ৩০ নভেম্বর অন্তর্বর্তী সরকার অধ্যাদেশ জারি করে পৃথক সচিবালয় গঠন করে এবং প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে এর উদ্বোধনও হয়। তবে ৯ এপ্রিল ওই অধ্যাদেশ বাতিল করা হয় এবং পরবর্তীতে আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত করার সিদ্ধান্তকে তিনি “বিচার বিভাগের স্বাধীনতার কফিনে শেষ পেরেক” বলে মন্তব্য করেন।

শিশির মনির বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের ৩৬ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিএনপিসহ বেশিরভাগ দল স্বাধীন বিচার বিভাগীয় সচিবালয়ের পক্ষে একমত ছিল। তিনি আরও বলেন, বিচারকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ না থাকলে একটি সভ্য সমাজ গঠন সম্ভব নয়। বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ, বদলি বা পদোন্নতির ক্ষমতা আইন মন্ত্রণালয়ের হাতে থাকা উচিত নয়, বরং সুপ্রিম কোর্টের হাতে থাকা প্রয়োজন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিচার বিভাগকে নির্বাহী নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রবণতা থাকলে ন্যায়বিচার বাধাগ্রস্ত হবে এবং জনগণের অধিকার সংকুচিত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে জুলাই সনদের ওপর আঘাত আসছে, যার উদ্দেশ্য রাষ্ট্রে কর্তৃত্ববাদ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। তিনি সতর্ক করে বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা খর্ব হলে জনগণের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ আরও সীমিত হয়ে যাবে।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, ঢাকা মহানগর উত্তরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান প্রমুখ।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত