ঢাকা, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

মিউচুয়াল ফান্ড খাতে বড় পরিবর্তন আনছে বিএসইসি

২০২৬ মে ০৮ ০০:১৬:৩৩

মিউচুয়াল ফান্ড খাতে বড় পরিবর্তন আনছে বিএসইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক: মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডকে বে-মেয়াদি কাঠামোয় রূপান্তরের জন্য নতুন নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বৃহস্পতিবার (৭ মে) কমিশনের চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ সংক্রান্ত বিস্তারিত গাইডলাইন প্রকাশ করা হয়।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার মতে, ক্লোজএন্ড ফান্ড অবসায়নের পরিবর্তে ওপেনএন্ডে রূপান্তর করা হলে ইউনিটহোল্ডাররা তুলনামূলক বেশি সুবিধা পাবেন। কারণ ওপেনএন্ড কাঠামোয় বিনিয়োগকারীরা নিট সম্পদ মূল্য (এনএভি) ভিত্তিক সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন, যা লিকুইডেশনের তুলনায় বেশি নিরাপদ ও লাভজনক। একই সঙ্গে এতে বাজারে নেতিবাচক চাপও কম পড়বে।

বিএসইসি জানিয়েছে, মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা ২০২৫-এর বিধি ৬২(২) ও ৬৩ অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ক্লোজএন্ড ফান্ডকে ওপেনএন্ডে রূপান্তর করা যাবে। কোনো ফান্ডের ছয় মাসের গড় বাজারদর যদি এনএভির তুলনায় ২৫ শতাংশ বা তার বেশি ডিসকাউন্টে অবস্থান করে, তাহলে ট্রাস্টিকে ইউনিটহোল্ডারদের মতামত নেওয়ার জন্য বিশেষ সাধারণ সভা (এসজিএম) আয়োজন করতে হবে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ছয় মাস মেয়াদ শেষ হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে ট্রাস্টিকে রেকর্ড ডেট ঘোষণা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ট্রাস্টি বোর্ডকে সভার কমপক্ষে ১৪ এবং সর্বোচ্চ ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করতে হবে। পাশাপাশি বিষয়টি মূল্যসংবেদনশীল তথ্য (পিএসআই) হিসেবে জাতীয় দৈনিক, অনলাইন পোর্টাল, স্টক এক্সচেঞ্জ এবং সংশ্লিষ্ট ট্রাস্টি ও অ্যাসেট ম্যানেজারের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে।

রেকর্ড ডেট ঘোষণার পর অন্তত ২১ দিনের নোটিশ দিয়ে ইউনিটহোল্ডারদের মতামত নেওয়ার জন্য ইজিএম আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই সভায় ৩-৪ জন ইউনিটহোল্ডার রূপান্তরের বিপক্ষে ভোট দিলে ফান্ড লিকুইডেশনের দিকে যাবে। অন্যদিকে প্রস্তাব বাতিল হলে ফান্ডের স্বাভাবিক লেনদেন পুনরায় চালু হবে।

গাইডলাইনে আরও বলা হয়েছে, রেকর্ড ডেট ঘোষণার পর থেকে ইউনিট লেনদেন সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে। কার্যকর তারিখের তিন দিনের মধ্যে ট্রাস্টি ফান্ডের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করবে এবং পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে পুরো রূপান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

এসজিএম আয়োজনের আগে কমিশনের কাছে তথ্য স্মারক জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতাও রাখা হয়েছে। সেখানে সর্বশেষ পোর্টফোলিও, এনএভি, সম্ভাব্য রূপান্তর ব্যয়, আগের আর্থিক পারফরম্যান্স, ডিভিডেন্ড ইতিহাস এবং নতুন ফান্ড কাঠামোর তথ্য অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি স্বাধীন অডিটরের মাধ্যমে অডিট ও ভ্যালুয়েশন রিপোর্ট প্রস্তুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিএসইসি জানিয়েছে, ওপেনএন্ডে রূপান্তরের পর ইউনিটগুলো ডিমেট আকারে থাকবে এবং ইউনিটহোল্ডাররা যেকোনো সময় ইউনিট সারেন্ডার করে অর্থ উত্তোলনের সুযোগ পাবেন। তবে রূপান্তর ব্যয় ফান্ডের মোট আকারের ১ শতাংশের বেশি হতে পারবে না।

বিএসইসির পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে গভীর ডিসকাউন্টে লেনদেন হওয়ায় ক্লোজএন্ড ফান্ডের বিনিয়োগকারীরা প্রকৃত সম্পদ মূল্যের সুবিধা পাচ্ছিলেন না। নতুন গাইডলাইনের ফলে ওপেনএন্ডে রূপান্তরের সুযোগ তৈরি হওয়ায় ইউনিটহোল্ডাররা এনএভিভিত্তিক সুবিধা পাবেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো সময় ইউনিট সারেন্ডার করে অর্থ তুলতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন, লিকুইডেশনের ক্ষেত্রে ফান্ডের সম্পদ বিক্রি করতে হয়, যা বাজারে বিক্রির চাপ সৃষ্টি করতে পারে। কিন্তু ওপেনএন্ডে রূপান্তর হলে আন্ডারলাইং অ্যাসেট বিক্রি করার প্রয়োজন হবে না। এতে বাজার স্থিতিশীল থাকবে এবং বিনিয়োগকারীরাও তুলনামূলকভাবে বেশি লাভবান হবেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, রেকর্ড ডেট ঘোষণার পর বাজারদর ধীরে ধীরে এনএভির কাছাকাছি চলে আসতে পারে। কারণ বিনিয়োগকারীরা বুঝতে পারবেন যে ওপেনএন্ডে রূপান্তরের মাধ্যমে প্রকৃত সম্পদ মূল্যের ভিত্তিতে সুবিধা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

উল্লেখ্য, নতুন মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মেয়াদি থেকে বে-মেয়াদি ফান্ডে রূপান্তর ও অবসায়ন সংক্রান্ত গাইডলাইন তৈরির জন্য পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছিল বিএসইসি। কমিশনের অতিরিক্ত পরিচালক শেখ মো. লুৎফুল কবির কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। সদস্য হিসেবে ছিলেন যুগ্ম পরিচালক সুলতানা পারভীন, সহকারী পরিচালক মো. আতিকুল্লাহ খান ও মো. তৌহিদুল ইসলাম সাদ্দাম। আর সদস্য সচিব ছিলেন সহকারী পরিচালক মো. সাগর ইসলাম।

এএসএম/

শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত